নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ‘মা সকাল থেকে তুমি কিছু খেয়েছ? চিন্তা কোরো না। আমার কিচ্ছু হবে না।’ প্রিজন ভ্যানের মধ্যে ছেলে। বাইরে দাঁড়িয়ে আঁচলে চোখ মুছছেন মা। ছবিটা ছাত্র-যুব আন্দোলনের হটস্পট পাটনার। নিট প্রশ্ন ফাঁস ও শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে শনিবার বিহারে বন্ধ ডাকা হয়েছিল। তাতেই উত্তাল হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। কিন্তু সেটা সাময়িক। ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার খবরে হাওয়া একটু ঠান্ডা হতেই অপারেশন শুরু করে পুলিশ। আন্দোলকারীদের থানায় তুলে নিয়ে গিয়ে একের পর এক ধারা চাপানো হয়েছে। তারপর ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে জেলে। এই ‘প্র্যাকটিস’ চলছে এখনও। দিল্লি হোক, পশ্চিমবঙ্গ, বা বিহার। ছবিটা একইরকম। অর্থাৎ অভিযোগ পরিষ্কার, ‘শর্ত’ মানছে না সরকার। কোনো আন্দোলনকারীর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না—এটাই ছিল শর্ত। তার খেলাপ হচ্ছে। প্রতিবাদীদের উপর কেন্দ্র-রাজ্যের এই আইনি পীড়ন বজায় থাকলে ফের আন্দোলন শুরু হবে বলে সোমবার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি। এদিন চরম হুঁশিয়ারি দিয়ে আন্দোলনকারীরা বলেছে, ‘কথার খেলাপ হলে ফল হবে মারাত্মক। লিখিত প্রতিশ্রুতি না দিলে মঙ্গলবারই ফের প্রতিবাদ আন্দোলন শুরু করবে ককরোচ জনতা পার্টি।’
বিহারে পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টা, পুলিশকে কর্তব্য পালনে বাধা দেওয়া সহ নানা ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। এই রাজ্যে মোট ৩৫০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে শুধুমাত্র পাটনা থেকেই ২৫৮ জনকে পাকড়াও করেছে পুলিশ। বন্ধের দিন সিওয়ানে গুলি চলেছিল। সেখানেও ৩ হাজারেরও বেশি এফআইআর দায়ের হয়েছে। সিজেপির হুঁশিয়ারিতে রাতেই অবশ্য পিছু হটেছে বিহার সরকার। বিজ্ঞপ্তি জারি করে তারা জানিয়ে দিয়েছে, ২৬ জুলাই সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ছাত্র-যুবদের বিরুদ্ধে সব এফআইআর প্রত্যাহার করা হবে। যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, সবাইকে মুক্তি দেওয়া হবে। কোনো কেস চালানো হবে না। যদিও দিল্লিতে আন্দোলনে অংশ নেওয়া ছেলেমেয়েদের বেছে বেছে নোটিস পাঠানো হচ্ছে। মেইলে বলা হচ্ছে, সিসি ক্যামেরা ও ফেসিয়াল রেকগনিশন সিস্টেমের রেকর্ড অনুযায়ী যন্তরমন্তরের নিষিদ্ধ এলাকায় আপনাকে দেখা গিয়েছে। কারণ জানিয়ে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে হবে। আপাতত দিল্লি ছেড়ে অন্যত্র যাওয়া যাবে না। দিল্লি পুলিশের দাবি, মামলা প্রত্যাহার নিয়ে এখনও কোনো সরকারি নির্দেশিকা আসেনি। কলকাতাতেও ইতিমধ্যে ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
ক্ষোভ দানা বাঁধতে শুরু করেছে এরই বিরুদ্ধে। আজ, মঙ্গলবারের মধ্যেই আটক ও ধৃতদের মুক্তির দাবি জানিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি। তারা জানিয়েছে, কেন্দ্রের প্রতিশ্রুতিতে বিশ্বাস করেই আন্দোলন প্রত্যাহার হয়েছে। আজ, লিখিত আশ্বাস না দিলে মঙ্গলবারই আন্দোলন শুরু হবে। সিজেপির মুখপাত্র সৌরভ দাস বিবৃতি দিয়েছেন, ‘অসম, পশ্চিমবঙ্গ, বিহার সহ বিভিন্ন রাজ্যে আন্দোলনকারীদের নিশানা করা হচ্ছে।’ সংসদ চত্বর থেকেই কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য, ‘এখনও বিহার-বাংলায় এফআইআর দায়ের হচ্ছে।’ আক্রমণ শানিয়েছেন যন্তরমন্তরে বিক্ষোভের অন্যতম মুখ তথা আইসা নেত্রী নেহা বোরা। বলেছেন, ‘আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। সরকার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করছে।’ সরকার ও জেন জি’দের মধ্যে বাড়ছে অসন্তোষ। ফল? চাপে কেন্দ্র।