নয়াদিল্লি, ২৪ জুলাই: সিজেপি বিক্ষোভে অংশ নেওয়া নাবলক এবং অতীত অপরাধের রেকর্ড নেই এমন ব্যক্তিদের অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে। এফআইআয়ের ভিত্তিতে তদন্ত চলতে পারে। কিন্তু কোনো কড়া ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার অন্তর্বর্তী রায়ে এমনই জানাল সুপ্রিম কোর্ট।
এদিন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ পশ্চিমবঙ্গ সহ সাতটি রাজ্য এবং কেন্দ্রীয় সরকারকে পড়ুয়া বিক্ষোভের সমস্ত সিসি ক্যামেরা, ড্রোন এবং বডি ক্যাম ফুটেজ সংরক্ষণ রাখতে বলেছে। পাশাপাশি গোটা ঘটনার তদন্তে একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠনের ইঙ্গিতও দিয়েছে সর্বোচ্চ আদালত। এই বিষয়ে কেন্দ্র এবং যে যে রাজ্যে পড়ুয়া বিক্ষোভ হয়েছিল সেখানকার সরকারকে নোটিস পাঠানো হয়েছে। পরবর্তী শুনানির দিন ভার্চুয়ালি অংশ নিতে হবে এই রাজ্যগুলির অ্যাডভোকেট জেনারেলকে।
সিজেপি বিক্ষোভে পুলিশের ‘মাত্রাতিরিক্ত বলপ্রয়োগের’ ঘটনায় এদিন আরও একবার সুপ্রিম কোর্টের মৃদু ভর্ৎসনার মুখে পড়তে হয় সরকারকে। এক্ষেত্রে সর্বোচ্চ আদালতের পর্যবেক্ষণ, প্রাথমিক তথ্যপ্রমাণেই স্পষ্ট যে এক্ষেত্রে উর্দিধারীরা নির্ধারিত প্রোটোকল মানে চলেননি।
এদিন কেন্দ্র ও দিল্লি সরকারের হয়ে আদালতে সওয়াল করেন সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা। তিনি অভিযোগ করেন, ছাত্রদের বিক্ষোভে ‘কয়েকশো ক্রিমিনাল’ এবং সমাজবিরোধী ঢুকে পড়েছিল। তারা পুলিশকে আক্রমণ করে। অন্তত ২০০ পুলিশকর্মী জখম হন বলে এদিন নিজের সওয়ালে উল্লেখ করেন মেহতা। এই বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখেছে আদালত। উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠিত হলে সেটি উর্দিধারীদের ভূমিকার পাশাপাশি সমাজবিরোধীদের যোগদানের বিষয়টিও খতিয়ে দেখবে বলে জানিয়েছে আদালত। বেঞ্চ তার পর্যবেক্ষণে বলেছে, ‘গোটা ঘটনার সম্পূর্ণ স্বাধীন তদন্ত প্রয়োজন। যে-ই বাড়াবাড়ি করে থাকুক, আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। গোটা পরিস্থিতির জন্য কে দায়ী, তা নির্ধারণ না করা হলে গোটা তদন্ত অর্থহীন হয়ে পড়ে।’