Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বন্ধ দ্বিতীয় হুগলি সেতু ও কোনা এক্সপ্রেসওয়ে দিনভর চরম ভোগান্তি সাঁতরাগাছিতে

কলকাতা ও হাওড়া সিটি পুলিসের পূর্ব ঘোষিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী রবিবার ১৬ ঘণ্টা বন্ধ রইল বিদ্যাসাগর সেতু ও কোনা এক্সপ্রেসওয়ে

বন্ধ দ্বিতীয় হুগলি সেতু ও কোনা এক্সপ্রেসওয়ে দিনভর চরম ভোগান্তি সাঁতরাগাছিতে
  • ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: কলকাতা ও হাওড়া সিটি পুলিসের পূর্ব ঘোষিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী রবিবার ১৬ ঘণ্টা বন্ধ রইল বিদ্যাসাগর সেতু ও কোনা এক্সপ্রেসওয়ে। গত রবিবারের মতো এদিনও সমস্ত যানবাহনকে বিকল্প রুটে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। ছুটির দিন হওয়ায় যানজটের চাপ সেভাবে না থাকলেও সাঁতরাগাছি স্টেশনের বাইরে যাত্রীদের চরম ভোগান্তি নজরে এসেছে। ক্যাব-ট্যাক্সি না পাওয়ায় এদিন বিকেলের দিকে স্টেশনের বাইরে ছিল যাত্রীদের থিকথিকে ভিড়। হাওড়া ময়দানে মেট্রো স্টেশন পর্যন্ত পৌঁছে দিতেও আকাশছোঁয়া ভাড়া চাইলেন ট্যাক্সিচালকরা। আইনের তোয়াক্কা না করে পুলিসের সামনেই একই বাইকে দু’জন করে সওয়ারি তুলেছে অ্যাপ বাইকগুলি।

Advertisement

এদিন সকাল থেকেই সাঁতরাগাছি স্টেশনে ট্রেন থেকে নামা যাত্রীরা ভোগান্তির শিকার হন। কেউ এসেছেন ঝাড়গ্রাম থেকে, কেউ মেদিনীপুর, কেউ আবার উলুবেড়িয়া থেকে। কোনা এক্সপ্রেসওয়ে বন্ধ থাকার খবর না জেনে অনেকে নেমে পড়েছিলেন সাঁতরাগাছিতে। এখান থেকে বাসে দ্রুত কলকাতায় যাওয়াই উদ্দেশ্য ছিল তাঁদের। কিন্তু স্টেশনের বাইরে আসতেই মাথায় হাত! সকাল থেকেই বাস, ক্যাব-ট্যাক্সি অমিল। দু’-একটি ট্যাক্সির যাও বা দেখা মিলল, তারা হাওড়া স্টেশন পর্যন্ত পৌঁছে দিতেই ৭০০ টাকা ভাড়া হেঁকেছে। একটি করে ট্যাক্সি স্টেশনের সামনে আসতেই মশার মতো ঘিরে ধরছিলেন যাত্রীরা। ঝাড়গ্রাম থেকে আসা দীপ্তি কর্মকার বলেন, ‘সাঁতরাগাছি থেকে হাওড়া পর্যন্ত ট্রেনে পৌঁছতে অনেকটা সময় লেগে যায়। তাই এই স্টেশনেই নেমেছিলাম। বাস পাওয়া তো দূর, হাওড়া ময়দান মেট্রো পর্যন্ত পৌঁছতে পারলেই হল।’ একই অবস্থা মেদিনীপুরের বাসিন্দা চন্দ্রিমা মাইতির। গড়িয়ার নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশনে ছেলের কাছে যাবেন বলে সাঁতরাগাছিতে নেমেছিলেন। এরপর হাওড়া স্টেশন পর্যন্ত যেতে চড়া ভাড়া গুনতে হল তাঁকে। সাঁতরাগাছি স্টেশন থেকে জগাছা, রামরাজাতলা হয়ে অনেকটা ঘুরে ক্যাব, ট্যাক্সিগুলিকে হাওড়ার দিকে যেতে দেখা গিয়েছে।
রবীন্দ্রসদন যাবেন বলে প্রায় দু’ঘণ্টারও বেশি সময় পরিবার নিয়ে স্টেশনের বাইরে অপেক্ষা করলেন উলুবেড়িয়ার বাসিন্দা চন্দন মণ্ডল। তিনি বলেন, ‘এতটা ভোগান্তি হবে বুঝতে পারিনি। রবিবার হওয়ায় সাঁতরাগাছি থেকে হাওড়া যাওয়ার ট্রেন কম।’ ভাড়া নিয়ে আকাশছোঁয়া দর হাঁকাহাঁকির মধ্যেই চোখে পড়েছে অ্যাপ বাইক চালকদের দৌরাত্ম্য। পুলিসের সামনেই একটি বাইকে হেলমেট ছাড়া দু’জন করে সওয়ারি তুলে দিনভর ট্রিপ করলেন তাঁরা। ট্রাফিকে কর্মরত এক পুলিস আধিকারিকের কথায়, ‘বাস-ট্যাক্সি কিছু নেই। এটুকু ছাড় তো দিতেই হবে।’ হাওড়া সিটি পুলিসের এক কর্তা বলেন, ‘বিদ্যাসাগর সেতু ও কোনা এক্সপ্রেসওয়ে বন্ধ থাকায় বড়সড় কোনও সমস্যা হয়নি।’ অন্যদিকে, বিদ্যাসাগর সেতু বন্ধ থাকার কারণে হাওড়া ব্রিজে বিশেষ চাপ না পড়লেও, জাতীয় সড়ক থেকে কলকাতাগামী সব গাড়িকে নিবেদিতা সেতু দিয়ে ঘোরানো হয়েছিল। সেকারণে বিকেল পর্যন্ত বেশ কিছুটা যানজট ছিল ওই রাস্তায়। জাতীয় সড়ক থেকে বেশিরভাগ গাড়িকেই হাওড়া শহরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। দক্ষিণেশ্বর, ডানলপ হয়ে শহরে ঢোকেন তাঁরা। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ