রাহুল চক্রবর্তী, কলকাতা: বিধানসভার ডায়েরিতে লিপিবদ্ধ থাকা এও এক অনন্য ঘটনা। যেখানে সিট নম্বরটাই খবর। আজীবনকাল ধরে হয়ে আসছে নির্দিষ্ট ওই আসন বরাদ্দ করা হয়না কোনো বিধায়কের বসার জন্য। এটাই প্রথা। এটাই চলে আসছে বছরের পর বছর।
রাহুল চক্রবর্তী, কলকাতা: বিধানসভার ডায়েরিতে লিপিবদ্ধ থাকা এও এক অনন্য ঘটনা। যেখানে সিট নম্বরটাই খবর। আজীবনকাল ধরে হয়ে আসছে নির্দিষ্ট ওই আসন বরাদ্দ করা হয়না কোনো বিধায়কের বসার জন্য। এটাই প্রথা। এটাই চলে আসছে বছরের পর বছর।
বিধানসভার সদস্য বিধায়করা। তাই বিধায়কদের বিধানসভার অধিবেশন কক্ষে বসবার জন্য একটি নির্দিষ্ট আসন বরাদ্দ করা হয়। শাসক দলের বিধায়করা বসেন একসারিতে। উলটো দিকে আসন বরাদ্দ করা হয় বিরোধী দলের বিধায়কদের জন্য। যেদিন কোনো সদস্য নির্বাচিত হয়ে বিধানসভায় পা রাখেন, সেদিনই ওই বিধায়কের বসার জন্য একটি সিট নম্বর দিয়ে থাকে বিধানসভার সচিবালয়। তাদের দেওয়া তথ্য বলছে, মুখ্যমন্ত্রীর সিট বা আসন নম্বর ৩০০। বরাবর নির্দিষ্ট এই আসনেই বসে আসছেন মুখ্যমন্ত্রীরা। কোনোদিন তার ব্যতিক্রম হয়নি। সিদ্ধার্থশংকর রায়, জ্যোতি বসু, বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সবার ক্ষেত্রেই সিট নম্বর ৩০০। বিধানসভার সচিবালয়ের ব্যাখ্যা, রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান মুখ্যমন্ত্রী। ফলে বিধানসভার অধ্যক্ষের চেয়ারের ধার ঘেঁষে সরকার পক্ষের বসার বেঞ্চের শুরুতেই মুখ্যমন্ত্রীর আসন নির্দিষ্ট করা থাকে। এটাই প্রথা চলে আসছে। আর বিধানসভার বাকি আসনগুলি একেকজন বিধায়কের নামে বরাদ্দ করা হয়।
তবে বিধানসভায় এমন আরো তিনটি আসন রয়েছে, যেগুলিতে কোনো বিধায়ককেই বসতে দেওয়া হয় না। বিধানসভার সচিবালয় জানাচ্ছে, এই তিনটি আসন হল ২৯৯, ২৮৩ এবং ১৬। যেহেতু ৩০০ নম্বর আসনে মুখ্যমন্ত্রী বসেন। তাই তাঁর ফাইল-কাগজপত্র রাখার জন্য পাশের আসনটি খালি রাখা হয়। ২৯৯ নম্বর সিটে কোনো বিধায়ককেই বসতে দেওয়া হয় না। একইরকমভাবে বিধানসভার ডেপুটি স্পিকারের সিট নম্বর ১৫। তাই ডেপুটি স্পিকারের কাজের সুবিধার্থে ১৬ নম্বর সিটও ফাঁকা রাখা হয়। ২৮৪ নম্বর আসনটি বরাদ্দ থাকে সরকার পক্ষের মুখ্য সচেতকের জন্য। তাঁর কাজের সুবিধার জন্য ২৮৩ নম্বর আসন কোনো বিধায়ককে বরাদ্দ করা হয় না।
অন্যান্য বিধায়কদের ক্ষেত্রে বিধানসভায় বসার আসন বণ্টন করা হয় তাঁদের বয়সের ভার বা সিনিয়রিটির ভিত্তিতে। কার বয়স কত এবং কতবারের বিধায়ক তিনি, সেদিক বিবেচনা করেই বরাদ্দ করা হয় আসনগুলি। মঙ্গলবার থেকে বিধানসভার যে অধিবেশন শুরু হয়েছে, সেটি আগামী বিধানসভা ভোটের আগের শেষ অধিবেশন। ভোটে যাঁরা নির্বাচিত হবেন, তাঁদের আবার নতুন করে বিধানসভায় বসবার আসন বরাদ্দ করা হবে। সেদিক থেকে নজর থাকবে কোন বিধায়কের সিট নম্বর কত হয়।
তবে এরমধ্যেই আসন নিয়ে নতুন তথ্য সামনে এসেছে। কিছুদিন আগে জেলমুক্ত হয়ে বাড়ি ফিরেছেন প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। মন্ত্রিত্ব না-থাকলেও তিনি এখনও বিধায়ক। ফলে বিধায়কদের বেঞ্চে নতুন সিট নম্বর পার্থকে দেওয়া হয়েছে। তাঁর আসন নম্বর ২৭২। পার্থরই একপাশে, ২৭১ নম্বর আসনটি বরাদ্দ মদন মিত্রের জন্য। আর অন্যপাশে ২৭৩ নম্বর আসন বরাদ্দ রয়েছে তৃণমূল বিধায়ক দেবাশিস কুমারের নামে। ভোটের আগে শেষ অধিবেশনে পার্থ আদৌ নতুন সিট নম্বরে বসেন কি না, নজর এখন সেদিকেই! নিজস্ব চিত্র