নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: একদিকে পুজো দেখার ভিড়, অন্যদিকে ভাসান। কার্তিক উৎসবের তৃতীয় দিনে মাতোয়ারা হয়ে রইল বাঁশবেড়িয়া ও চুঁচুড়া। বাঁশবেড়িয়ায় দুপুরের পর থেকেই ঢল নেমেছিল দর্শনার্থীদের। রাতে ভিড় এড়াতে দূর-দূরান্তের দর্শকরা দুপুরের পর থেকেই বাঁশবেড়িয়ার বিভিন্ন মণ্ডপে ভিড় জমান। বিকেলের পর বাড়তে থাকে ভিড়। সন্ধ্যার মুখে বড় বাজেটের মণ্ডপগুলিতে ছিল থিকথিকে ভিড়। অন্যদিকে, সন্ধ্যার পর সাজসাজ রব পড়ে চুঁচুড়ায়। দীর্ঘ পথ ধরে যাওয়া শোভাযাত্রা, দেশি-বিদেশি ব্যান্ডের তালে তালে নিরঞ্জনের আগে শহর পরিক্রমা করেন উদ্যোক্তারা। রাতে চুঁচুড়ায় সেই শোভা দেখতে ব্যাপক ভিড় হয়েছিল।
শীতের মৃদু আমেজ শুরু হয়েছে হুগলিজুড়ে। বিকেল হতে না হতেই মিলিয়ে যায় সূর্যের আলো। শুরু হয় বিদ্যুতের খেলা। থিমের নয়নাভিরাম সাজে সজ্জিত মণ্ডপে জ্বলে উঠলে আলোর রংমশাল। মায়াবি আলোর সাজে সেজে ওঠা কার্তিক নগরীতে সোমবার দুপুরের পর থেকেই ভিড় জমতে শুরু করে। মঙ্গলবারও ভিড় জমেছিল দুপুরের পর। রাত গড়ানোর আগেই শহর কার্যত ভিড়ের দখলে চলে যায়। রামকৃষ্ণ সংঘের বৃন্দাবনের প্রেমমন্দির, বলাকার গাছে ছাওয়া মণ্ডপ বা কুণ্ডুগলি নটরাজের মণ্ডপসজ্জা দেখতে সন্ধ্যাতেই ছিল বাঁধনহারা ভিড়। রাত নামতেই সেই ভিড়ের সঙ্গে জুড়েছে বাঁশবেড়িয়ার নিজস্ব ভিড়। তার জেরে রাতের বাঁশবেড়িয়ার পথে ঘাটে তিল ধারণের জায়গা ছিল না। রাত সাড়ে ৭টার পর যে দিকে চোখ গিয়েছে, সেদিকেই শুধু অগণিত মাথার সারি। যে ভিড়ের দিকে তাকিয়ে চোখ চকচক করেছে উদ্যোক্তাদের। বলাকা সংঘের চন্দ্রনীল গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, অপ্রত্যাশিত ভিড় হয়েছে। মঙ্গলবার যে ভিড় আমরা দেখেছি, তা বেনজির। কেন্দ্রীয় কার্তিক পুজো কমিটির প্রাক্তন সভাপতি আদিত্য নিয়োগী বলেন, আসলে নানা কারণে প্রথম দু’দিন আর শেষ দু’দিন বেশি ভিড় হয়। মঙ্গলবার তেমন ভিড় থাকে না। এবার সেই অংক গুলিয়ে দিয়েছেন উৎসাহী নাগরিক মহল।
এদিকে, চুঁচুড়ায় মঙ্গলবার ছিল কার্তিক পুজোর নিরঞ্জনের পালা। তবে তার আগে শহর মাতিয়ে শোভাযাত্রা করে প্রায় ২৭টি পুজো কমিটি। বর্ণময় সাজে প্রতিমা ও থিম সাজিয়ে চুঁচুড়ার দীর্ঘপথ পরিক্রমা করেন পুজোর উদ্যোক্তারা। সেই শোভাযাত্রা দেখতে এদিন সন্ধ্যার মুখে জমাট বেঁধেছিল ভিড়। পুরনো তোলাফটক থেকে ঘড়ির মোড়, কামারপাড়া, লোহাপট্টি, খরুয়াবাজার সর্বত্রই ছিল মানুষের সারি। ঝাঁকি মাঝি লেন ও দে পাড়ার শোভাযাত্রাকে ঘিরে এদিন ব্যাপক উদ্দীপনা দেখা গিয়েছে দর্শক মহলে। থিমের সাজে সাজানো গাড়ির সঙ্গে দেশি-বিদেশি ব্যান্ডের সমারোহ মাতিয়ে দিয়েছিল দর্শনার্থীদের।