Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সদস্য সংগ্রহের সংখ্যা নিয়ে তথ্য-দ্বন্দ্বে জড়ালেন জেলার দুই বিজেপি নেতা

সদস্য সংগ্রহের সংখ্যা নিয়ে তথ্য-দ্বন্দ্বে জড়ালেন জেলার দুই বিজেপি নেতা
  • ২ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, রামপুরহাট: বিজেপির সদস্য সংগ্রহ অভিযানের সংখ্যা নিয়ে জেলার দুই শীর্ষনেতার তথ্যে ব্যাপক গরমিল। আর তা নিয়ে চরম দ্বন্দ্বে জড়িয়েছেন দু’জনেই। একজনের দাবি, বিপুল সংখ্যক সদস্য সংগৃহীত হয়েছে। ফলে, অভিযান অনেকটাই সফল। অন্যপক্ষ এই তথ্য ফুৎকারে উড়িয়ে বলছেন, সবটাই জল মেশানো। আসলে, অভিযানে খুব একটা সাড়া পড়েনি। তাই, সদস্য সংখ্যা বেশি দেখিয়ে মুখরক্ষার চেষ্টা চলছে। এমনই অভিযোগ খোদ গেরুয়া শিবিরেই একটা অংশের তরফে।  
Advertisement
গত ২৭ অক্টোবর কলকাতায় দলীয় সম্মেলনের মধ্য দিয়ে নভেম্বর মাস ব্যাপী সদস্য সংগ্রহ অভিযানের সূচনা করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বীরভূমকে টার্গেট দেওয়া হয় দু’ লক্ষ থেকে দু’ লক্ষ ২০ হাজার। অমিত-টার্গেটকে সামনে রেখে জেলাজুড়ে সদস্য সংগ্রহে কোমর বেঁধে নেমে পড়েন বিজেপি নেতারা। মাদার থেকে বিভিন্ন শাখা সংগঠনের রাজ্য নেতৃত্বরাও জেলায় এসে ঘুরে ঘুরে সদস্য সংগ্রহ করে যান। কোথাও রাস্তার ধারে প্যাণ্ডেল খাটিয়ে, কোথাও আবার জনবহুল এলাকায় পথচলতি মানুষকে সদস্য হওয়ার আবেদন জানান। কিন্তু ঘটনা হল, সেভাবে সাড়া পড়েনি বলে দলেরই একাংশ স্বীকার করে নেন। ফলে, টাগের্ট পূরণের সময়সীমা বাড়িয়ে ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত করা হয়। কিন্তু তাতেও যে লক্ষ্যপূরণ হবে না, তা প্রকাশ্যে বলছেন জেলা কমিটির সদস্যরা। এই নিয়ে আগ্রহও সেভাবে নেই জেলা কমিটির একাধিক সদস্যরও। দিন কয়েক আগে জেলা কমিটির মিটিংয়ে একাধিক সদস্য অনুপস্থিত থেকেছেন। এরই মধ্যে সদস্য সংগ্রহ অভিযান নিয়ে জেলার দুই শীর্ষ নেতার সংখ্যা তথ্যে অমিল দেখা গিয়েছে।  গত ২০ নভেম্বর নলহাটিতে ‘সদস্যতা অভিযান’-এ বীরভূম সাংগঠনিক জেলা সভাপতি ধ্রুব সাহা সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, সেদিন পর্যন্ত ৩১ হাজার ৭০০ জন বিজেপির সদস্য হয়েছেন। দিন কয়েকের ব্যবধানে সেই সদস্য ১ লক্ষ ৭০ হাজারে পৌঁছেছে বলে দাবি করেছেন ধ্রুববাবু। অথচ, জেলার সাধারণ সম্পাদক শান্তনু মণ্ডল বলেন, এখনও পর্যন্ত ৫০ হাজারের কাছাকাছি সদস্য হয়েছেন। দুই নেতার পৃথক তথ্য পেশ নিয়ে দলের অন্দরেই বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। দলের জেলা কমিটির আমন্ত্রিত সদস্য মুকুল মুখোপাধ্যায় বলেন, আমার কাছে যা খবর আছে, তাতে শান্তনুবাবু ঠিক সংখ্যাই বলছেন। প্রায় ৫০ হাজারের কাছাকাছি হয়েছে বা ওই পর্যন্তই যাবে। জেলা সভাপতি নিজেকে টিকিয়ে রাখতে ও ব্যর্থতা ঢাকার জন্য দু’শো শতাংশ বাড়িয়ে মিথ্যা কথা বলছেন। কী করে হবে, জেলার এমন একশো জন কার্যকর্তার নাম বলে দিতে পারব, যাঁরা এখনও অভিযানেই নামেননি। তাঁদের কাজেই লাগানো হয়নি। জেলার কয়েকজন নেতা নিজেদের নরেন্দ্র মোদি , অমিত শাহ ভাবেন। 
এদিকে অভিযানে সাড়া না পড়া নিয়ে তৃণমূলকে দায়ি করেছিলেন বিজেপির নেতারা। বলা হচ্ছিল, সদস্য যাতে না হয় সেজন্য মানুষকে ভয় দেখাচ্ছে তৃণমূল। এদিন অবশ্য অন্য কথা বলছেন তাঁরা। জেলা কমিটির এক সদস্য বলেন, গ্রামগঞ্জে ধান কাটা ও নবান্ন উৎসব চলছে। ফলে মানুষজন ব্যস্ত। গ্রামে পৌঁছে সেভাবে কাউকে পাওয়া যাচ্ছে না। জেলা সভাপতির অবশ্য দাবি, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে।
সম্পর্কিত সংবাদ