Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সদস্য সংগ্রহে লক্ষেই আটকে অমিত শাহের লক্ষ্য, ছাব্বিশে গড় হারানোর শঙ্কা বিজেপির 

সদস্য সংগ্রহে লক্ষেই আটকে অমিত শাহের লক্ষ্য, ছাব্বিশে গড় হারানোর শঙ্কা বিজেপির 
  • ২ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া: বিজেপির অন্যতম শক্ত ঘাঁটি পুরুলিয়া। পুরুলিয়া লোকসভা কেন্দ্রও বিজেপির দখলে। পুরুলিয়া সাংগঠনিক জেলার(রঘুনাথপুর ও বান্দোয়ান বাদ দিয়ে) সাতটি বিধানসভার মধ্যে ছ’টি বিধানসভার বিধায়কও বিজেপির। তা সত্ত্বেও একলাখেই আটকে বিজেপির সদস্য সংগ্রহ অভিযান! অথচ রাজ্যজুড়ে এক কোটির টার্গেট পূরণ করতে পুরুলিয়া থেকে অন্তত আড়াই লক্ষ সদস্য সংগ্রহের কথা জানিয়ে গিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় নেতারা। যদিও তা অধরাই রয়ে গেল! এই পরিস্থিতিতে রাজনীতির কারবারিদের অনেকেরই প্রশ্ন, আগামী বিধানসভায় ‘গড়’ ধরে রাখতে পারবে তো বিজেপি? এনিয়ে দলের অন্দরেও চর্চা চলছে। 
Advertisement
প্রসঙ্গত, ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই জেলায় সদস্য সংগ্রহ অভিযান সরেজমিনে দেখতে এসেছিলেন দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক সুনীল বনশাল। সূত্রের খবর, দলের সামগ্রিক পরিস্থিতি তাঁকে খুব একটা খুশি করতে পারেনি। অনেক নেতার ভূমিকায় তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন। তিনি প্রশ্ন তুলেছিলেন, কিসের কারণে সদস্য সংগ্রহ অভিযান ঠিক মতো হচ্ছে না ? বিজেপি সূত্রের খবর, জেলায় বিজেপি জিতে এলেও বহু বিধানসভাতেই সংগঠন একদমই শক্তিশালী নয়। বহু বিধানসভা এলাকাতেই বিজেপির গোষ্ঠী কোন্দল রয়েছে। দলে যোগ্য সম্মান ও গুরুত্ব না পেয়ে বহু নেতা বসে গিয়েছেন। ফলে মাঠে ময়দানে নেমে সদস্য সংগ্রহ করার মতো নেতার অভাব রয়েছে দলের অন্দরেই। 
তবে, আত্মবিশ্বাসে ভরপুর বিজেপি নেতারা তাঁকে কথা দিয়েছিলেন, একলাখের থেকে অনেক বেশিই সদস্য সংগ্রহ করে তাঁরা কার্যত তাক লাগিয়ে দেবেন। কিন্তু, তা একলাখেই আটকে রয়েছে। তবে লক্ষ্য পূরণ না হলেও যত বেশি রান আসে, আপাতত সেটাই এখন টার্গেট বঙ্গ বিজেপি নেতাদের। 
বিজেপির জেলা সভাপতি বিবেক রাঙা বলেন, ‘৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত আমরা এক লক্ষ পাঁচ হাজার সদস্য সংগ্রহ করেছি। বুথ ভিত্তিক টার্গেট অন্তত ৮০ শতাংশ সম্পূর্ণ করতে পেরেছি। কোথাও কম, কোথাও বেশি হয়েছে। প্রায় এক দেড়শ বুথে টার্গেট সম্পূর্ণ করতে পারিনি।’ কেন?  এর যুক্তি হিসেবে অবশ্য জেলা সভাপতি বলেন, বহু বুথেই ইন্টারনেট দুর্বল। নেটওয়ার্ক ঠিকমতো কাজ করে না। সেই কারণেই টার্গেট সম্পূর্ণ হয়নি। তবে, সদস্য সংগ্রহ অভিযানের সময়ও বাড়ানো হয়েছে। আগামী ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত ফোন লাইন খোলা থাকবে। ৫ জানুয়ারি প্রথম সক্রিয় সদস্যদের নাম প্রকাশ করা হবে। 
প্রসঙ্গত, পুরুলিয়া সাংগঠনিক জেলার ৩৬টি মণ্ডলের মধ্যে ১৯০০ বুথে বুথপ্রতি ৫০জনকে সদস্য করার টার্গেট দেওয়া হয়েছে। ৫০ জনকে প্রাথমিক সদস্য না করতে পারলে সক্রিয় সদস্য হওয়া যাবে না। সক্রিয় সদস্য না হলে পদাধিকারী হওয়া যাবে না। এই চাপ থাকলেও বিজেপির জেলা নেতৃত্বের দাবি, আগামী ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত মেরেকেটে এক লক্ষ ১৫ হাজার পর্যন্ত সদস্য সংগ্রহ হবে!
তবে এভাবে পার্টির সদস্যপদ নেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে আদৌ কতজনকে সক্রিয় রাজনীতির ময়দানে দেখা যায়, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। এক বিজেপি নেতার কথায়, ‘২০১৯-এর সদস্যপদ সংগ্রহ অভিযান চালানোর পর বাংলায় বিজেপির সদস্য সংখ্যা ৪০ লক্ষ হয়েছিল। ঝান্ডা হাতে মাঠে নামা তো অনেক পরের কথা, তার মধ্যে কতজন ২০২১-এ বিজেপিকে ভোট দিয়েছে, সেটাই সন্দেহ।’
সম্পর্কিত সংবাদ