Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সদস্য হতে চান না পদ্মের প্রাক্তন মণ্ডল সভাপতিরা

সদস্য হতে চান না পদ্মের প্রাক্তন মণ্ডল সভাপতিরা
  • ২৯ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: আন্দোলনে অনিহা দলের, তাই বাঁকুড়ার বহু বিজেপি নেতাকর্মী সদস্যপদ নিতে অনাগ্রহী। ওই তালিকায় প্রাক্তন মণ্ডল সভাপতি, জেলা কমিটির সদস্য থেকে বুথ সভাপতি কমবেশি সব স্তরের নেতাই রয়েছেন। অনেকেই সদস্য না হয়ে কার্যত বসে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। গুরুত্ব না পাওয়া নেতারাও ক্রমশ বিজেপির থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। জনপ্রতিনিধিদের একাংশের বিরুদ্ধেও বিজেপি নেতাকর্মীরা বিস্তর অভিযোগ তুলেছেন। বিজেপির বিধায়ক স্তরের জনপ্রতিনিধিরাও বিপদে দলের কর্মীদের পাশে দাঁড়ান না বলে সাধারণ নেতারা অভিযোগ তুলেছেন। উল্লেখ্য, সদস্য সংগ্রহ অভিযানে বাঁকুড়ায় বিজেপি ধাক্কা খেয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে গেরুয়া নেতারা লক্ষ্যমাত্রার ধারেকাছে পৌঁছতে পারেননি। তা নিয়ে দলের অন্দরে নেতাদের বিড়ম্বনার শেষ নেই। তার উপর জেলায় একের পর এক নেতা বিস্ফোরক মন্তব্য করায় বিজেপি নেতৃত্ব চাপে পড়বে বলেই রাজনৈতিক মহল মনে করছে।  
Advertisement
এ ব্যাপারে বিজেপির বাঁকুড়া-১ ব্লকের বাসিন্দা তথা প্রাক্তন মণ্ডল সভাপতি নির্মলকুমার মণ্ডল বলেন, দল ক্রমশ আন্দোলন বিমুখ হয়ে পড়ছে। জ্বলন্ত ইস্যুগুলি নিয়ে রাস্তায় নামার নির্দেশ আসছে না। পুরনো লোকজনকে বাদ দিয়ে সাংগঠনিক কাজ করা হচ্ছে। সাধারণ বিজেপি কর্মীদের কাঁধে ভর দিয়ে নেতারা মন্ত্রী, বিধায়ক হচ্ছেন। পরে তাঁরা আর কর্মীদের পাশে দাঁড়াচ্ছেন না। এলাকায় না গিয়ে রাজ্যে মিথ্যা রিপোর্ট পাঠানো হচ্ছে। ফলে সক্রিয় নেতাকর্মীরা বসে যাচ্ছেন। কেউ আর নতুন করে সদস্যপদ নিতে চাইছেন না। বছর তিনকে আগেও আমার নিজের বুথ গাঙতোড়ায় দু’ হাজার সদস্য করেছিলাম। এবার সেখানে সাকুল্যে দু’শো জন সদস্য হয়েছেন। আমি নিজেও সদস্যপদ নবীকরণ করাইনি। আমার মতোই এলাকার বহু বুথ ও অঞ্চলের দায়িত্বে থাকা নেতারাও সদস্যপদ গ্রহন করেননি। নেতারা না শোধরালে আগামী বিধানসভা নির্বাচনে বাঁকুড়ায় বিজেপির হাল খুব খারাপ হবে। 
প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা বাঁকুড়ার বিজেপি নেতা সুভাষ সরকার বলেন, আমাদের বিরুদ্ধে যাঁরা আন্দোলন বিমুখতার অভিযোগ তুলছেন, তাঁরা দলের মূল স্রোতে নেই। বিভিন্ন ইস্যুতে আমরা নিয়মিত প্রতিবাদ কর্মসূচি নিয়ে থাকি। বর্তমানে এরাজ্যে বিজেপিই প্রধান বিরোধী দল। ফলে তৃণমূল সরকার ও স্থানীয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে সরাবছরই কর্মসূচি পালন করা হয়। তিনি আরও বলেন, সদস্য সংগ্রহ অভিযানে আমরা ভালো সাড়া পাচ্ছি। আসলে তালডাংরা বিধানসভার উপ নির্বাচনের কারণে অভিযান শুরু করতে কিছুটা দেরি হয়। আমরা ১৪ নভেম্বর থেকে পুরোদমে কাজ শুরু করেছি। জেলায় মোট আড়াই লক্ষ সদস্য সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। তা বর্ধিত সময়সীমার মধ্যে পূরণ হয়ে যাবে বলে আমরা মনে করছি। তাছড়া দলের কর্মীরা বিপদে পড়লেই আমরা ছুটে যাই। কর্মীরা আমাদের দলের সম্পদ। তাঁদের পাশে সারাবছর আমরা থাকি।      
সম্পর্কিত সংবাদ