নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: তহবিলে টাকা নেই। আর তাই রেপো রেট কমা সত্ত্বেও ফিক্সড ডিপোজিটে সুদের হার কমানোর চিরাচরিত পথে আপাতত হাঁটছে না ব্যাঙ্কগুলি। কারণ, আম জনতা যখনই দেখবে ফিক্সড ডিপোজিটে সুদের হার কমছে, তখনই ব্যাঙ্ক-সঞ্চয়ের পথে আর হাঁটবে না। অর্থনীতির বর্তমান পরিস্থিতিতে যা রীতিমতো বিপজ্জনক। গত কয়েক বছর ধরেই ব্যাঙ্কিং সেক্টরের সবথেকে উদ্বেগজনক প্রবণতা হল, ডিপোজিট কমে যাওয়া। লোন এবং ডিপোজিটের মধ্যে ভারসাম্য থাকা ব্যাঙ্কের জন্য অত্যন্ত জরুরি। লোন বাড়লেও ডিপোজিট কমছিল দ্রুত। ফলে ব্যাঙ্কের কাছে লোন দেওয়ার মতো টাকা আর থাকছে না। আশঙ্কার বিষয় হল, গত কয়েক মাস ধরে লোন নেওয়ার প্রবণতাও কমছে। ফলে, উভয় সঙ্কট। পরিস্থিতি এমন যে, জানুয়ারি মাসে ব্যাঙ্কিং সেক্টরের তহবিল ঘাটতি সাড়ে ৩ লক্ষ কোটি টাকায় পৌঁছে যায়। এই পরিসংখ্যান ১৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। দিশাহারা রিজার্ভ ব্যাঙ্ক ব্যাঙ্কিং সেক্টরকে কিছু নগদ টাকা দিয়েছিল। ২০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত হিসেবে সেই তহবিল ঘাটতি (লিকুইডিটি ডেফিসিট) হয়েছে ১ লক্ষ ৭০ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ অঙ্কটা এখনও বিপুল। কারণ একাধিক—১) চরম মূল্যবৃদ্ধি। ২) সুদের হার কম। ৩) গত কয়েক বছর ধরে শেয়ার বাজারের ফুলে ফেঁপে ওঠা। আম জনতা পর্যন্ত ব্যাঙ্ক এবং স্বল্প সঞ্চয় থেকে মুখ ফিরিয়ে আলেয়ার ডাকের মতো মিউচুয়াল ফান্ড, এসআইপি, স্টকে বিনিয়োগের দিকে অন্ধের মতো ঝুঁকেছে। ৬০ হাজারের সেনসেক্স নিমেষের মধ্যে ৮০ হাজার স্পর্শ করেছে। তাহলে রিটেল লগ্নিকারী, অর্থাৎ মধ্যবিত্ত ও আম জনতা আর কেন ব্যাঙ্কের দিকে তাকাবে? সেই কারণেই ডিপোজিট মুখ থুবড়ে পড়েছে। এখন আবার শেয়ার বাজারে ধসের পালা। প্রতিদিন কমে চলেছে বাজারের সূচক। লক্ষ লক্ষ কোটি টাকা লোকসান হচ্ছে। আর তাই অদ্ভুত দোলাচলে রয়েছে অর্থনীতি।
Advertisement
শেয়ার বাজারের এই টালমাটাল পরিস্থিতিতে যদি জমা আমানতে সুদের হার না কমে, সাধারণ মানুষ কিছুটা হলেও ব্যাঙ্কমুখী হবে। এমনিতেই আয়করের নতুন কাঠামোয় বিনিয়োগের উপর কোনও ছাড় নেই। তাই রিটার্ন যেখানে বেশি, মানুষ এখন সেই ক্ষেত্রেই লগ্নি করে। আর তাই রেপো রেট কমানোর পর ঋণের উপর সুদের হারে কাটছাঁট করেও ফিক্সড ডিপোজিটের ক্ষেত্রে অনড় হয়ে রয়েছে ব্যাঙ্কগুলি। বিশেষ করে প্রবীণদের কথা ভেবে। কারণ আমানতে সুদের হার কমলে মধ্যবিত্ত ও বিশেষত অবসরপ্রাপ্তদের হতাশ হতে হয়। কারণ, তাঁদের আয়ের অন্যতম ভরসা ব্যাঙ্কে জমা আমানত থেকে পাওয়া সুদ।
২০২৫ সাল তাই সম্পূর্ণ ভিন্ন ধর্মী আচরণ দেখাচ্ছে সরকারি-বেসরকারি ব্যাঙ্কগুলি। ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে রেপো রেট কমেছে। তারপর বহু ব্যাঙ্কই গৃহঋণের উপর সুদের হার কমিয়েছে। কিন্তু ডিপোজিটের সুদ কমানো হয়নি। জানা যাচ্ছে, এখনই আমানতের উপর সুদ কমাতে আগ্রহী নয় ব্যাঙ্কগুলি। কারণ তাহলে আম জনতা ব্যাঙ্কে টাকা জমানো আরও কমিয়ে দেবে। তাই এই প্রথম আম জনতার ডিপোজিট ব্যাঙ্কিং সেক্টরের কাছে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার হয়ে দেখা দিয়েছে। তাই রেপো রেট কমলেও এখনই সম্ভবত গণহারে সুদ কমানোর সাহস দেখাতে পারছে না ব্যাঙ্কিং সেক্টর। চরম তহবিল ঘাটতির মধ্যে সেই ঝুঁকি তারা নেবে না। উপরন্তু আবার ব্যাঙ্কিং সেক্টর চাইছে, রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অন্তত ১ লক্ষ কোটি টাকা দিক। জানা যাচ্ছে, মার্চ মাসের মধ্যে ১ লক্ষ ২০ হাজার কোটি টাকা আবার দিতে পারে আরবিআই। সেই রাস্তার খোঁজ চলছে। আবার বন্ড কেনা হতে পারে খোলা বাজার থেকে। যদি ‘আচ্ছে দিনে’র হদিশ মেলে!
২০২৫ সাল তাই সম্পূর্ণ ভিন্ন ধর্মী আচরণ দেখাচ্ছে সরকারি-বেসরকারি ব্যাঙ্কগুলি। ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে রেপো রেট কমেছে। তারপর বহু ব্যাঙ্কই গৃহঋণের উপর সুদের হার কমিয়েছে। কিন্তু ডিপোজিটের সুদ কমানো হয়নি। জানা যাচ্ছে, এখনই আমানতের উপর সুদ কমাতে আগ্রহী নয় ব্যাঙ্কগুলি। কারণ তাহলে আম জনতা ব্যাঙ্কে টাকা জমানো আরও কমিয়ে দেবে। তাই এই প্রথম আম জনতার ডিপোজিট ব্যাঙ্কিং সেক্টরের কাছে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার হয়ে দেখা দিয়েছে। তাই রেপো রেট কমলেও এখনই সম্ভবত গণহারে সুদ কমানোর সাহস দেখাতে পারছে না ব্যাঙ্কিং সেক্টর। চরম তহবিল ঘাটতির মধ্যে সেই ঝুঁকি তারা নেবে না। উপরন্তু আবার ব্যাঙ্কিং সেক্টর চাইছে, রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অন্তত ১ লক্ষ কোটি টাকা দিক। জানা যাচ্ছে, মার্চ মাসের মধ্যে ১ লক্ষ ২০ হাজার কোটি টাকা আবার দিতে পারে আরবিআই। সেই রাস্তার খোঁজ চলছে। আবার বন্ড কেনা হতে পারে খোলা বাজার থেকে। যদি ‘আচ্ছে দিনে’র হদিশ মেলে!



