Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সাধারণ অবজার্ভারের সঙ্গে গেরুয়া শিবিরের ‘আঁতাত’ 

সাধারণ অবজার্ভারের সঙ্গে গেরুয়া শিবিরের ‘আঁতাত’ 
  • ১০ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: তালডাংরা বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনে নিযুক্ত অবজার্ভারের বিরুদ্ধেই এবার কমিশনের কাছে নালিশ ঠুকল তৃণমূল কংগ্রেস। সাধারণ অবজার্ভার বিকাশ মিশ্রের সঙ্গে বিজেপি-র ‘আঁতাত’ রয়েছে বলে তৃণমূলের তরফে অভিযোগ তোলা হয়েছে। এব্যাপারে বাঁকুড়া জেলা তৃণমূল সভাপতি তথা সাংসদ অরূপ চক্রবর্তী দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের কাছে লিখিত অভিযোগ পাঠিয়েছেন। অভিযোগ, অবজার্ভার বাঁকুড়া সার্কিট হাউসে প্রাক্তন কেন্দ্রীয়মন্ত্রী সুভাষ সরকার সহ অন্যান্য বিজেপি নেতাদের সঙ্গে একটি বৈঠক করেছেন। শাসক দলের জেলা সভাপতি তাঁর লেটারহেডে লেখা অভিযোগপত্রে তৃণমূলকে প্রচারপর্বে ওই অবজার্ভার নানাভাবে ‘হেনস্তা’ করছেন বলেও উল্লেখ করেছেন। অভিযোগপত্রের প্রতিলিপি বাঁকুড়ার জেলাশাসক তথা জেলা নির্বাচন আধিকারিকের কাছেও পাঠানো হয়েছে। ফলে ভোটের আগে জেলার রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। এব্যাপারে বাঁকুড়ার জেলাশাসক সিয়াদ এন কোনও মন্তব্য করতে চাননি। তবে জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, অভিযোগ জমা পড়তেই কমিশন নড়েচড়ে বসেছে। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক আমাদের কাছ থেকে বিস্তরিত রিপোর্ট চেয়ে পাঠিয়েছেন। ওই বিধানসভা কেন্দ্রের রিটার্নিং অফিসারের কাছ থেকে এব্যাপারে জানতে চাওয়া হয়েছে। তিনি রিপোর্ট জমা দিলেই তা নির্বাচন কমিশনের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। 
Advertisement
সাধারণ অবজার্ভার বিকাশ মিশ্র বলেন, আমার কাছে যে কোনও রাজনৈতিক দলের নেতারা নিয়ম মেনে আসতেই পারেন। তাতে কারও আপত্তি থাকতে পারে না। তবে কমিশনের কাছে তৃণমূলের অভিযোগের ব্যাপারে আমার কিছু জানা নেই। 
অরূপবাবু বলেন, গত মঙ্গলবার রাত ৮টা নাগাদ সুভাষ সরকার সহ অন্যান্য বিজেপি নেতাদের সঙ্গে অবজার্ভার ‘নিয়ম বহির্ভূতভাবে’ বৈঠক করেছেন। তিনি বিজেপিকে রাজনৈতিক লাভের পরামর্শ দিচ্ছেন। এরফলে তাঁর নিরপেক্ষতা প্রশ্নের মুখে দাঁড়িয়েছে। আমাদের দলের নেতাকর্মীদের নানাভাবে হেনস্তা করা হচ্ছে। অনুমতি নিয়ে লাগানো দলের পতাকা, ব্যানার অবজার্ভার খুলিয়ে দিচ্ছেন। তৃণমূল কর্মীদের মধ্যে ভয়ের বাতাবরণ সৃষ্টি করতেই তিনি এই ধরনের কাজ করছেন। সমগ্র বিষয়টি জানিয়ে আমরা মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের কাছে অভিযোগ জানিয়েছি। ওইসব ঘটনার বিহিত কমিশনের কাছে চাওয়া হয়েছে। 
সুভাষবাবু বলেন, দলের নির্দেশে নিয়ম মেনেই আমরা অবজার্ভারের সঙ্গে দেখা করেছি। এর পিছনে অন্য কোনও ‘মতলব’ ছিল না। আসলে তৃণমূল তালডাংরায় পরাজয়ের গন্ধ পাচ্ছে। হারের অজুহাত আগাম খুঁজে রাখতেই শাসক দল অবজার্ভারকে অযথা দোষারোপ করছে। এসব না করে তৃণমূল প্রচারে নজর দিলে ভালো করবে। 
উল্লেখ্য, যে কোনও নির্বাচনের জন্য কমিশনের তরফে অবজার্ভার নিয়োগ করা হয়। সাধারণ অবজার্ভাররা প্রচার সহ ভোট পরিচালনার খুঁটিনাটি নজর রাখেন। পুলিস ও ব্যয় সংক্রান্ত অবজার্ভাররা সংশ্লিষ্ট বিষয়ের দায়িত্ব পালন করেন। ফলে ভোটের সময় অবজার্ভাররা কমিশনের কার্যত ‘চোখ-কান’ হিসেবে কাজ করেন। রাজনৈতিক দলগুলি তাঁদের অভিযোগ অবজার্ভারদের কাছে জানায়। এবার সেই অবজার্ভারের বিরুদ্ধেই গুরুতর অভিযোগ তুলল রাজ্যের শাসক দল। ফলে সব মহলে বিষয়টি নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে।
সম্পর্কিত সংবাদ