Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬

সিদ্ধান্ত নিয়েও হল না বৈঠক, জারি হচ্ছে না নির্দেশিকাও, এবছরও জনগণনা হবে তো? বিতর্ক তুঙ্গে

সিদ্ধান্ত নিয়েও হল না বৈঠক, জারি হচ্ছে না নির্দেশিকাও, এবছরও জনগণনা হবে তো? বিতর্ক তুঙ্গে
  • ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: জনগণনা কি এ বছর হবে? নাকি তা নিয়ে আবার অনিশ্চয়তা? সংশয় খোদ রেজিস্ট্রার জেনারেল অব ইন্ডিয়ার সেন্সাস কমিশনার দপ্তরে‌র অন্দরেই। প্রথম প্রশ্নটা উঠেছিল বাজেট পেশের পর। কারণ, আগামী অর্থবর্ষে সেন্সাসের জন্য বাজেট বরাদ্দ নামমাত্র। তারপর সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনের ‘অ্যাটলাস’ প্রকাশিত হয়েছে। তাতে ভোটারদের বৃদ্ধিহার কেমন এবং প্রদত্ত ভোটের গতিপ্রকৃতি কেমন, সেব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য-পরিসংখ্যান থাকে। সেই রিপোর্টে দেখা যায়, ১৮ থেকে ২৯ বছর বয়সি যুব ভোটারদের সংখ্যা কমে যাচ্ছে। ২০২৪ সালের প্রদত্ত ভোটে লক্ষ্য করা গিয়েছে এই প্রবণতা। ওই রিপোর্ট প্রকাশের পরই গত সপ্তাহে স্থির হয়, সেন্সাস কর্তাদের সঙ্গে আগামী সপ্তাহেই বৈঠক করবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। আলোচনা হবে জনগণনা নিয়ে। সেইমতো প্রস্তুতি পর্বও শুরু হয়। কিন্তু সেন্সাস কমিশনার দপ্তর সূত্রের খবর, এখনও পর্যন্ত জনগণনা শুরুর ব্যাপারে কোনও বৈঠক অথবা প্রস্তুতির সবুজ সঙ্কেত পাওয়া যায়নি। অর্থাৎ, এ সপ্তাহে তা হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ।
Advertisement
২০২৫-২৬ আর্থিক বছরের জন্য সেন্সাসে বাজেট বরাদ্দ করা হয়েছে ৫৭৪ কোটি টাকা। অথচ ২০১৯ সালে স্থির হয়েছিল, জনগণনা এবং ন্যাশনাল পপুলেশন রেজিস্টার (এনপিআর) কর্মসূচি সম্পূর্ণ করতে ব্যয় হবে সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকা। শুধু সেন্সাসেই সাড়ে আট হাজার কোটি টাকা খরচ। বাকি এনপিআর প্রক্রিয়ার জন্য। ওই বছর সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল। কিন্তু ২০২০ সালের মার্চেই করোনাকাল চলে আসায় সম্পূর্ণ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হয়ে যায় জনগণনা। সেই করোনাকাল কেটে গিয়েছে। সব স্বাভাবিক হয়ে গিয়েছে। সমস্ত সরকারি প্রকল্পও চালু। কিন্তু কোনও এক রহস্যময় কারণে চালু হয়নি সেন্সাস প্রক্রিয়া। দীর্ঘ অপেক্ষার পর অবশেষে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক জানায়, ২০২৫ সালে শুরু হবে জনগণনা। সেইমতোই প্রস্তুতি নেওয়া হয়। ধরেই নেওয়া হয়েছিল এবার বাজেটে বড়সড় বরাদ্দ করা হবে। এমনকী স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক সূত্রে জানা যাচ্ছিল যে, সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকার বাজেট এখন আর যথেষ্ট নয়। আরও বেশি অর্থের প্রয়োজন। কিন্তু বাজেট ঘোষণা সেই জল্পনায় জল ফেলে দেয়। আর তখনই প্রশ্ন শুরু হয় যে, এবারও কি সেন্সাস অনিশ্চিত? সম্প্রতি বৈঠকের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরেও তা না হওয়ায় দপ্তরের মধ্যেই প্রশ্ন উঠছে, কেন্দ্র ঠিক কী চাইছে?
সেন্সাসের পরিসংখ্যান না থাকলে সরকারি প্রকল্পও নিখুঁতভাবে চালানো যাবে না আর। বিশেষ করে গরিব কল্যাণ যোজনায় কত মানুষ বিনামূল্যে রেশন পাওয়ার যোগ্য? এই তথ্য ২০২৫ সালেও সরকারের কাছে নেই। এ পর্যন্ত সাড়ে ৫ কোটি ভুয়ো রেশন কার্ড বাতিল করা হয়েছ। ৮০ কোটি দরিদ্রকে দেওয়া হচ্ছে বিনামূল্যে চাল-গম। কিন্তু প্রকৃত সংখ্যা কত? তাছাড়া ২০২৬ সালে ডিলিমিটেশন করতে হবে। সেন্সাস ছাড়া সেটা কীভাবে সম্ভব? যদিও সেন্সাস কমিশনার দপ্তর এখনও মনে করছে, চলতি বছরই হবে জনগণনা। নচেৎ সঙ্কটে পড়বে সরকারের বহু প্রকল্প ও পরিকল্পনা।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ