Bartaman Logo
৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / হেলথ

মেদিনীপুরে বাড়ছে স্ক্রাব টাইফাস

বর্ষার মরশুমে ডেঙ্গুর পাশাপাশি পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় উদ্বেগ বাড়াচ্ছে স্ক্রাব টাইফাস

মেদিনীপুরে বাড়ছে স্ক্রাব টাইফাস
  • ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, খড়্গপুর: বর্ষার মরশুমে ডেঙ্গুর পাশাপাশি পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় উদ্বেগ বাড়াচ্ছে স্ক্রাব টাইফাস। জেলা স্বাস্থ্যদপ্তরের মতে, বর্তমানে জেলায় ডেঙ্গু পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে। তবে, গত দু’-এক মাসে স্ক্রাব টাইফাসে আক্রান্তের সংখ্যা অনেকটাই বেড়েছে। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে এই রোগের প্রকোপ বেশি দেখা যাচ্ছে। মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে তিনজন স্ক্রাব টাইফাসে আক্রান্ত শিশু ভরতি হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। 

Advertisement

হাসপাতালের শিশু বিভাগের প্রধান তারাপদ ঘোষ বলেন, গত কয়েক বছরে স্ক্রাব টাইফাস ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। পাঁচ-ছ’দিন জ্বর থাকলেই আমরা এখন স্ক্রাব টাইফাসের টেস্ট(আইজিএম এলিজা টেস্ট) করতে দিচ্ছি। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই পজিটিভ রেজাল্ট আসছে।
জেলা স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, চলতি বছরে জেলায় ৮৫ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে মাত্র আট-১০ জনকে হাসপাতালে ভরতি হতে হয়েছে। জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য অধিকারিক সৌম্যশঙ্কর ষড়ঙ্গী বলেন, গত বছর জেলায় মোট ৫২৬ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছিলেন। এই সময়ে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১৬২। সেপ্টেম্বর থেকেই বেড়েছিল ডেঙ্গুর প্রকোপ। সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকতে হবে। স্বাস্থ্যদপ্তর সহ প্রশাসন এবিষয়ে তৎপর রয়েছে।
জেলায় চলতি বছরে এখনো পর্যন্ত প্রায় ১৩০-১৪০ জন স্ক্রাব টাইফাসে আক্রান্ত হয়েছে বলে স্বাস্থ্যদপ্তরের একটি সূত্রে জানা গিয়েছে। তবে, অন্য একটি সূত্রে জানা গিয়েছে, বেসরকারি হাসপাতাল ও ল্যাবরেটরির তথ্য ধরলে, এই সংখ্যাটা অনেকটাই বাড়বে।
চিকিৎসকদের মতে, ‘ওরিয়েন্টিয়া সুসুগামুশি’ নামের জীবাণুর সংক্রমণে স্ক্রাব টাইফাস হয়। ক্ষুদ্র পোকা বা মাইট (চিগার লার্ভা)-এর কামড়ের মাধ্যমে এই জীবাণু শরীরে প্রবেশ করে। জ্বর, মাথাব্যথা, শরীর ব্যথা, দুর্বলতা এবং কখনো ত্বকে র‍্যাশ দেখা দিতে পারে। প্রাথমিক পর্যায়ে উপসর্গ ডেঙ্গু বা অন্যান্য জ্বরের সঙ্গে মিলে যাওয়ায় রোগ নির্ণয়ে সমস্যা হতে পারে। টানা পাঁচদিন জ্বর থাকলে আইজিএম এলিজা টেস্ট করতে দেন চিকিৎসকরা। মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের শিশু বিভাগের প্রধান তারাপদবাবু বলেন, তিন মাসের শিশুও স্ক্রাব টাইফাসে আক্রান্ত হয়েছে। গলায় বা বগলে পোকার কামড়ের মতো ছোট দাগ দেখলে সাবধান হতে হবে। 
তবে, আশার কথা হল, ডক্সিসাইক্লিন, এজিথ্রোমাইসিন-সহ বেশ কয়েকটি ওষুধ স্ক্রাব টাইফাসের চিকিৎসায় খুব ভালো কাজ করছে। জ্বর হলেই শিশুদের হাসপাতালে নিয়ে আসতে হবে। সেইসঙ্গেই শিশুদের পরিচ্ছন্ন পরিবেশে রাখতে হবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ