২০০২ সালে শেষবার বিশ্বকাপ জেতে ব্রাজিল। তারপর পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নরা একবারও ফাইনালে পৌঁছায়নি। পেলের দেশের এই হাল কেন? সেলেকাও সমর্থকদের আপশোস স্বাভাবিক। চলতি টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচও হতাশা বাড়িয়েছিল। কিন্তু হাইতির বিরুদ্ধে আনসেলোত্তি ব্রিগেড ছন্দে ফেরার ইঙ্গিত দেয়। বৃহস্পতিবার স্কটল্যান্ডকে ৩-০ গোলে বশ মানাল ভিনিসিয়াসরা। একইসঙ্গে গ্রুপ শীর্ষে থেকে নক-আউটের টিকিটও নেইমারদের পকেটে। কার্যকরী ফুটবল খেলে সহজ জয় হাসিল করাই এই ম্যাচের বড় প্রাপ্তি।
কার্লো আনসেলোত্তি অভিজ্ঞ কোচ। ওজন বুঝে দল সাজান তিনি। ফর্মেশনে ফাইন টিউনিং করেছিলেন ডন কার্লো। স্কটদের বিরুদ্ধে ৪-১-২-৩ স্ট্র্যাটেজিতে দল সাজান তিনি। দুই স্টপারের সামনে কাসেমিরো পর্দার কাজ করলেন। তার উপর ছাতার মতো পাকুয়েতা ও ব্রুনো গুইমারেসের কম্বিনেশন। আপফ্রন্টে ভিনিসিয়াস, কুনহা ও রায়ান। বিপক্ষের দুই উইং ব্যাককে শুরু থেকেই আক্রমণ করল ভিনিসিয়াস ও রায়ান। ৭ মিনিটে ভিনির গোল ওই তাড়া করার ফসল। এক্ষেত্রে কৃতিত্ব প্রাপ্য রায়ানের। তাড়াহুড়োয় মারাত্মক ভুল করল স্কট রক্ষণ। অরক্ষিত ভিনিসিয়াস ছোট্ট ডজে গোলরক্ষককে কাটিয়ে জাল কাঁপাল (১-০)। এরপর ফের বড়ো ভুল করে ফেলেছিল প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডার। ভিনিসিয়াস জাল কাঁপালেও ভারের সাহায্য নিয়ে তা বাতিল করেন রেফারি। যদিও এই সিদ্ধান্তে ব্রাজিল সমর্থকরা ক্ষুব্ধ। যাই হোক, বিরতির আগেই ২-০। ব্রুনো গুইমারেসের মাপা ক্রস থেকে হেডে লক্ষ্যভেদ ভিনির। এবারের বিশ্বকাপে ওর চতুর্থ গোল। ক্রমশই মুগ্ধতা বাড়াচ্ছে ভিনিসিয়াস। স্পিড, কাট করে চকিত ড্রিবল অসাধারণ। মোদ্দা কথা, ভিনি এখন সোনার ফর্মে। বিপক্ষ বক্সে ৩৫ টা টাচ খেলেছে ব্রাজিল। যার কৃতিত্ব অনেকটাই এই উইং হাফের।
৬০ মিনিটে কুনহার গোল ম্যাচের সেরা। এক্ষেত্রেও ব্রুনো গুইমারেসের অ্যাসিস্ট। ছোট্ট পাসে হাট করে খুলে ফেলে বিপক্ষের গোলমুখ। ছন্দে থাকা কুনহার প্লেসিং জালে জড়ায় (৩-০)। ম্যাচ ওখানেই শেষ। ৭৬ মিনিটে নেইমারকে নামিয়ে দেখে নিলেন আনসেলোত্তি। ম্যাচ খেলার সঙ্গেই আরও ধারালো দেখাবে ওকে। ভিনির সঙ্গে কম্বিনেশন ক্লিক করার অপেক্ষায় সাম্বার দেশ। এই ব্রাজিল টিম গেমে বিশ্বাসী। অহেতুক বল হোল্ড করে না। বরং প্রয়োজনে লং বল ফুটবলে আক্রমণ শানায়। তবে রক্ষণ নিয়ে সতর্ক থাকতে হবে। প্রান্ত থেকে ভেসে আসা বলে মার্কুইনহোস ও গ্যাব্রিয়েল কিছুটা নড়বড়ে। আনসেলোত্তির তা নিশ্চয়ই নজর এড়ায়নি।