শ্যামলেন্দু গোস্বামী, বারাসত: জঞ্জাল অপসারণ পরিষেবা আরও উন্নত করতে উদ্যোগী হয়েছে রাজ্য। ঠিক হয়েছে, পচন ও অপচনশীল বর্জ্য পৃথকভাবে সংগ্রহ করে নিয়ে যাওয়া হবে ডাম্পিং গ্রাউন্ডে। পচনশীলের জন্য সবুজ ও অপচনশীল বর্জ্যের জন্য নীল বালতি দেওয়া হয়েছে। দু’ধরনের বর্জ্য পৃথকীকরণ হচ্ছে কি না, তার তদারকি করেন ‘নির্মল সাথী’রা। তবে তাঁরা বিভিন্ন সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। নাগরিকরা দু’ধরনের বর্জ্য মিশিয়ে দেন। অনেকে আবার বাড়ির দু’ধরনের বর্জ্য পুরসভার গাড়িতে না দিয়ে, তা বাড়ির পাশে পরিত্যক্ত জায়গায় ফেলে দেন। তাই, বাসিন্দাদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে এবার প্রতিটি পুরসভায় কর্মরত নির্মল সাথীদের ‘পোর্টেবল মাইক্রোফোন’ দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে রাজ্য নগর জীবিকা মিশন (সুডা)। সেই ব্যবস্থা ইতিমধ্যেই কার্যকর করছে বিভিন্ন পুরসভা। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ওয়ার্ডভিত্তিক নির্মল বন্ধুদের সঙ্গে একজন ‘নির্মল সাথী’ রয়েছেন সব পুরসভাতেই। ময়লা ফেলার গাড়ি নিয়ে বাড়ি বাড়ি যান নির্মল বন্ধুরা। গাড়িতে পচনশীল বর্জ্য ফেলার জন্য সবুজ আর অপচনশীল বর্জ্য ফেলার জন্য নীল রঙয়ের ভ্যাট আছে। প্রতিটি বাড়ির বাসিন্দারা পচনশীল ও অপচনশীল বর্জ্য আলাদা করে গাড়িতে ফেলছেন কিনা, তা দেখাই কাজ নির্মল সাথীদের। কিন্তু হামেশাই দেখা যাচ্ছে, নাগরিকরা দুই বর্জ্য মিশিয়ে ফেলছেন। ফলে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে দপ্তরকে। তাই ঠিক হয়েছে, বর্জ্য পৃথক করা নিয়ে বাসিন্দাদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে রোজ সকালে পোর্টেবল মাইক্রোফোন নিয়ে ঘোষণা করবেন নির্মল সাথীরা।
Advertisement
এছাড়া পুরসভার গাড়ি ছাড়া বাড়ির বর্জ্য অন্য কোথাও ফেলে দেওয়া কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। ২০১৬ সালের এই সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট আইন অমান্য করলে ১০ হাজার থেকে এক লক্ষ টাকা জরিমানা হতে পারে বলেও ঘোষণা করছেন নির্মল সাথীরা। ইতিমধ্যেই মধ্যমগ্রাম পুরসভা এই কাজ শুরু করে দিয়েছে। পুরসভার চেয়ারম্যান নিমাই ঘোষ বলেন, ইতিমধ্যে সুডার পক্ষ থেকে ৫৬টি পোর্টেবল মাইক্রোফোন দেওয়া হয়েছে। এগুলি ব্যবহার করে নির্মল সাথীরা পচন ও অপচনশীল বর্জ্য আলাদাভাবে পুরসভার গাড়িতে ফেলার জন্য বাসিন্দাদের সচেতন করছেন। পাশাপশি বাইরে নোংরা ফেললে কী শাস্তি হতে পারে, তাও এলাকাবাসীকে জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে।



