Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সেচের পরিধি বাড়াতে ঝাড়গ্রামে শুরু হচ্ছে ইরিগেশন সেনসাস

সেচের পরিধি বাড়াতে ঝাড়গ্রামে শুরু হচ্ছে ইরিগেশন সেনসাস
  • ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: রাজ্যের অন্য জেলার তুলনায় ঝাড়গ্রাম জেলায় জলাশয়, পুকুর, খালবিল কম। বর্ষা ছাড়া অন্য সময় জেলার নদীতে জল কম থাকে। চাষবাসের কাজে পর্যাপ্ত জলের অভাব দেখা দেয়। সেজন্য মার্চ মাস থেকে জেলাজুড়ে সপ্তম ইরিগেশন সেনসাস শুরু হচ্ছে। জেলার ভূগর্ভস্থ জলস্তর, জলাশয়, পুকুর ও খালবিলের সংখ্যা খতিয়ে দেখা হবে। সেই অনুযায়ী জল সংরক্ষণের পরিল্পনা করা হবে।ঝাড়গ্রামের অতিরিক্ত জেলাশাসক(উন্নয়ন) প্রসেনজিৎ চক্রবর্তী বলেন, মার্চ মাস থেকে জেলাজুড়ে মাইনর ইরিগেসন সেনসাস শুরু হবে। জেলার প্রতিটি মৌজা ধরে ভূগর্ভস্থ ও উপরের স্তরের জলের উৎস সন্ধান হবে। সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে প্রশাসন জল সংরক্ষণের পরিকল্পনা নেবে। সেচের পরিধি বাড়বে।
Advertisement
ঝাড়গ্রাম জেলার উত্তরাংশ দিয়ে কংসাবতী নদী বইছে। সুবর্ণরেখা নদী জেলার দক্ষিণদিক দিয়ে বইছে। বর্ষার সময় ছাড়া নদীতে বেশি জল থাকে না। জামবনী ও বিনপুর-২ ব্লক জঙ্গল ও পাহাড়ী এলাকা। গত দু’দশকে এখানে জঙ্গলের এলাকা বেড়েছে। চাষবাসের এলাকা বাড়েনি। যেটুকু জমিতে চাষ হয়, সেখানে পর্যাপ্ত জলের অভাব রয়েছে। জেলাজুড়ে এখন ৩২০০টি পুকুর আছে। জলাশয়ে সংখ্যা হাতে গোনা। বর্ষার সময় ছাড়া জলাশয়ে জল থাকে না। জেলায় জলসমস্যা মেটাতে ভূগর্ভস্থ জলস্তরের অবস্থান বুঝে সাবমার্সিবল পাম্প বসানো হচ্ছে। চেকড্যাম তৈরি, পুকুর সংস্কার হচ্ছে। বৃষ্টির জলের প্রবাহপথ চিহ্নিত করে নতুন পুকুর খনন করা হচ্ছে। চারমাস ধরে ইরিগেশন সেনসাস চলবে। ওই কাজে যুক্ত থাকা আধিকারিকদের নিয়ে প্রশিক্ষণ শিবির হয়ে গিয়েছে। কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। জেলার প্রতিটি মৌজায় ভূগর্ভস্থ জলস্তর, পুকুর, জলাশয় ও খালবিলের অবস্থান খতিয়ে দেখা হবে। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতে পরবর্তীতে কাজ হবে।
ডব্লুআরআইডি দপ্তরের তত্ত্বাবধানে এই সেনসাস হবে। দপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, রাজ্যজুড়ে মার্চ মাস থেকে এই কাজ চলছে। ঝাড়গ্রাম জেলার ক্ষেত্রে এই সেনসাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই তথ্যের ভিত্তিতে জল সংরক্ষণের পরিকল্পনা করা হবে। সেচের পরিধি বাড়বে। সেইসঙ্গে জেলায়  মাছচাষের পরিমাণও বাড়ানো যাবে।জামবনী পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি মধুসূদন মুর্মু বলেন, পরিহাটি ও ধরসা শুষ্ক এলাকা। জলের অভাবে এখানে চাষাবাদ ভালো হয় না। ব্লকের অন্য জায়গায় জলের সমস্যা তুলনামূলকভাবে কম। তবে সেচের জলের জন্য পরিকল্পিত উদ্যোগ খুবই জরুরি।বিনপুর-২ ব্লকের পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি বিকাশচন্দ্র সর্দার বলেন, এই এলাকায় জলের সমস্যা রয়েছে। ভুলাভেদা, শিমূলপাল, বেলপাহাড়ীতে সেচের জন্য চেকড্যাম জরুরি। পাহাড়ী এলাকায় সাবমার্সিবল বসানো কঠিন। সেনসাসের সময় এই এলাকার জলের উৎসগুলির তথ্য তুলে ধরা হবে।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ