নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: গত বছর জানুয়ারি মাসের ঘটনা। নরেন্দ্রপুর থানার বলরামপুর মন্মথনাথ বিদ্যামন্দিরে ঢুকে তাণ্ডব ও শিক্ষকদের মারধরের অভিযোগ উঠেছিল বহিরাগতদের বিরুদ্ধে। আক্রান্ত শিক্ষকরা স্কুলের প্রধান শিক্ষক সৈয়দ ইমতিয়াজ আহমেদকেই কাঠগড়ায় তুলেছিলেন সেই ঘটনার জন্য। প্রধান শিক্ষক হিসেবে তিনি সঠিক ভূমিকা পালন করতে পারেননি বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এই আবহে গত এক বছরের বেশি সময় ধরে ‘সাসপেন্ডেড’ ছিলেন ওই প্রধান শিক্ষক। এবার তাঁর বিরুদ্ধে চূড়ান্ত শাস্তিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হল।
মধ্যশিক্ষা পর্ষদ সম্প্রতি তাঁকে ‘কম্পালসারি রিটায়ারমেন্ট’ বা বাধ্যতামূলক অবসর নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। অর্থাৎ, চাকরির মেয়াদ শেষের আগেই তাঁকে অবসর নিতে হবে। চিঠি দিয়ে এই নির্দেশ স্কুল এবং ইমতিয়াজ আহমেদকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ডিসেম্বরেই তাঁর অবসর গ্রহণের কথা ছিল। কোনও শিক্ষক বা প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে পর্ষদের এমন সিদ্ধান্ত বেনজির বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
সূত্রের খবর, শুধু এই ঘটনা নয়, ওই প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে একাধিক অনিয়মের অভিযোগ জমা পড়েছিল শিক্ষাদপ্তরে। সেসব অভিযোগের তদন্ত করে বারবার শো-কজ করা হয়েছে তাঁকে। কোনও বারই তিনি জবাব দেননি বলে অভিযোগ। এই অবস্থায় প্রধান শিক্ষক পদে থেকে তিনি যাতে তদন্ত প্রভাবিত না করতে পারেন, তার জন্য গত বছর ৩০শে জানুয়ারি থেকে তাঁকে ‘সাসপেন্ড’ করা হয়। দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা পরিদর্শককে দিয়ে যাবতীয় অভিযোগের তদন্ত করানো হয়। রিপোর্ট জমা পড়ে পর্ষদে। জানা যায়, যেসব অভিযোগ উঠেছিল, তা অত্যন্ত গুরুতর এবং তার বহুলাংশে সত্যতাও মিলেছে। রিপোর্টে সেই কথা উল্লেখ করেন জেলা পরিদর্শক।
এর ভিত্তিতে চলতি মাসের শেষে ইমতিয়াজ আহমেদকে ‘কম্পালসারি রিটায়ারমেন্ট’-এর নির্দেশ দেওয়া হয়। পর্যদ নির্দেশে জানিয়েছে, প্রধান শিক্ষক হিসেবে পড়ুয়া ও সহকারী শিক্ষকদের স্বার্থ রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছেন সৈয়দ ইমতিয়াজ আহমেদ। তাঁর আচরণ অনেকটা প্রতারকের মতো, যা একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিবেশের পরিপন্থী। তাই সবদিক বিচার করেই পর্যদের এই সিদ্ধান্ত। ২০২৪ সালের ২৪ জুলাই থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে বলেও জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে কথা বলার জন্য ইমতিয়াজ সাহেবের সহকর্মীদের থেকে পাওয়া ফোন নম্বরে কল করা হয়। একাধিকবার চেষ্টার পর এক মহিলা ফোন তুলে বলেন, ‘রং নম্বর’। তবে পর্ষদের সিদ্ধান্তে ওই স্কুলের শিক্ষকরা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের বক্তব্য, ‘উনি প্রধান শিক্ষকের পদের অবমাননা করেছেন। বিদ্যালয়কে নিজের স্বার্থে ব্যবহার করে গিয়েছেন সমানে। এমন একজন ক্ষতিকর মানুষের উপযুক্ত শাস্তিই হয়েছে।’