Bartaman Logo
২১ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

জনগণনার জন্য নির্ধারিত ৩০ দিনের কাজ পাঁচ দিনেই শেষ করে নজির স্কুল শিক্ষকের

নির্ধারিত ৩০ দিনের সেনসাসের কাজ মাত্র পাঁচ দিনেই সম্পন্ন। বৃহস্পতিবারে সেই কাজ সম্পন্ন করে দপ্তরের পোর্টালে আপলোডও হয়ে গিয়েছে।

জনগণনার জন্য নির্ধারিত ৩০ দিনের কাজ পাঁচ দিনেই শেষ করে নজির স্কুল শিক্ষকের
  • ২১ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সবুজ বিশ্বাস, জঙ্গিপুর: নির্ধারিত ৩০ দিনের সেনসাসের কাজ মাত্র পাঁচ দিনেই সম্পন্ন। বৃহস্পতিবারে সেই কাজ সম্পন্ন করে দপ্তরের পোর্টালে আপলোডও হয়ে গিয়েছে। এতো অল্প সময়ে সফলভাবে সম্পন্ন করে গোটা জেলায় নজির গড়লেন ফরাক্কার গোপালনগর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক দুলাল মণ্ডল। তাঁর এই অসাধারণ কর্মদক্ষতা ও নিষ্ঠার ভূয়সী প্রশংসা শুরু হয়েছে প্রশাসনিক মহলে।

Advertisement

এ প্রসঙ্গে ফরাক্কার বিডিও সুজয় ব্যাপারী বলেন, এ বিষয়ে আমার কাছে কোনো খবর নেই, আমি খোঁজ নেব। তবে এমনটা হয়ে থাকলে ভালো কাজ করেছেন।
জানা গিয়েছে, মহাদেবনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের অধীন এনিউমারেটরের দায়িত্ব পেয়েছিলেন দুলালবাবু। গত রবিবার থেকেই তিনি যুদ্ধকালীন তৎপরতায় এই কাজের সূচনা করেন। দ্রুততার পাশাপাশি পরিকল্পনা করেন। একটানা চারবার নিখুঁত যাচাইয়ের পরই তিনি চূড়ান্ত তথ্য সংগ্রহের কাজে হাত দেন। ফলস্বরূপ, নির্ধারিত এলাকার ১৩১টি ভবনে সশরীরে উপস্থিত হয়ে মোট ১৮৩টি বাড়ির তথ্য সংগ্রহ ও ডিজিটাল অ্যাপে আপলোড করার কাজ সম্পূর্ণ ত্রুটিমুক্তভাবে শেষ করেন তিনি। নিজের কাজের সাফল্যের বিষয়ে দুলালবাবু বলেন, স্কুলের দায়িত্ব সামলেই তিনি সেনসাসের এই গুরুদায়িত্ব পালন করেছেন। কাজের প্রতি সদিচ্ছা এবং আগ্রহ থাকলে যে কোনো কঠিন কাজই সহজ হয়ে যায়। তিনি আরও উল্লেখ করেন, তথ্য সংগ্রহের সময় কোনোরকম গরমিল এড়াতে একই বাড়িতে তাঁকে একাধিকবার যেতে হয়েছে। প্রতিটি বাড়িতে গিয়ে বিভিন্ন ধরনের অভিজ্ঞতাও হয়েছে তাঁর। শুধু নিজের কাজ শেষ করাই নয়, তাঁর এলাকার অন্য নতুন ও অনভিজ্ঞ এনিউমারেটররা সেনসাসের কাজে কোনো সমস্যা বা জটিলতার মুখে পড়লেই তাঁর কাছে ছুটে আসেন। তিনি সাধ্যমতো তাদের সমস্ত রকম সাহায্য ও পরামর্শ দিয়ে চলেছেন।
উল্লেখ্য, দুলাল মণ্ডলের এমন কৃতিত্ব নতুন নয়। এর আগে বিগত নিবিড় ভোটার সংশোধনের কাজ মাত্র ১৮ দিনে সম্পন্ন করে গোটা জেলায় বিশেষ পুরস্কৃত হয়েছিলেন তিনি। পাশাপাশি, এসআইআর (SIR) ও বিধানসভা নির্বাচনের কাজও অত্যন্ত নিখুঁত ও ত্রুটিহীনভাবে সম্পন্ন করেছেন এই শিক্ষক। নির্বাচনের কাজের উৎকর্ষ ও উন্নত প্রশিক্ষণের জন্য গত বছর তিনি দিল্লিতেও আমন্ত্রিত হয়েছিলেন।
একাধিক সাফল্যের পর তাঁর প্রতিক্রিয়া, কোনো পুরস্কারের আশায় নয়, কাজের প্রতি ভালোলাগা থেকেই আমি দায়িত্ব পালন করি। তবে পরিশ্রমের পর স্বীকৃতি ও পুরস্কার পেলে কাজের উৎসাহ বহুগুণ বেড়ে যায়। একজন প্রাথমিক শিক্ষক হয়েও প্রশাসনিক ও জনমুখী কাজে তাঁর এই ধারাবাহিক সাফল্য ফরাক্কা ব্লক তথা মুর্শিদাবাদ জেলার মুখ উজ্জ্বল করেছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ