নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: শ্রাবণ মাসের দ্বিতীয় সোমবার। সস্ত্রীক পানিহাটির বারোমন্দির ঘাটে এসেছিলেন স্কুলশিক্ষক অলোকেশ ঘোষ (৩৮)। শিবের মাথায় জল ঢালার আগে স্নান করতে নেমেছিলেম গঙ্গার ঘাটে। তখনই ভাটার টানে নদীতে ভেসে যান দম্পতি। স্থানীয়রা কোনওভাবে গৃহবধূকে উদ্ধার করতে পারলেও সন্ধ্যা পর্যন্ত অলোকেশবাবুর খোঁজ মেলেনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, অলোকেশবাববুর বাড়ি পানিহাটির মিলনগড় এলাকায়। তিনি পানিহাটির রামকৃষ্ণ হাইস্কুলের রসায়নের শিক্ষক। এদিন সকালে সাড়ে ৮টা নাগাদ তিনি স্ত্রীকে নিয়ে বারোমন্দির ঘাটে আসেন। পুজো দেওয়ার আগে স্নান করতে গঙ্গার ঘাটে নেমেছিলেন দু’জন। তখন ভাটা চলছিল। কোমরসমান জলে দাঁড়িয়ে স্নান করার সময় তাঁরা তলিয়ে যান। ঘাটে ভালোই ভিড় ছিল। স্থানীয়রা বাঁশ ফেলে কোনওভাবে অলোকেশবাবুর স্ত্রীকে উদ্ধার করেন। কিন্তু ভেসে যান অলোকেশবাবু। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে আসে খড়দহ থানার পুলিস, বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের কর্মী ও ডুবুরিরা। নৌকা নামিয়ে তল্লাশির পাশাপাশি দফায় দফায় ডুবুরিও নামানো হয়। কিন্তু সন্ধ্যা পর্যন্ত শিক্ষকের খোঁজ মেলেনি। অলোকেশবাবুর কাকা শচীন ঘোষ বলেন, ‘ওরা মাঝেমধ্যেই এই মন্দিরে আসত। কিন্তু এমন ঘটবে, কেউ কখনও দুঃস্বপ্নেও কল্পনা করতে পারিনি।’ নাটাগড় শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ বিদ্যামন্দিরের পরিচালন সমিতির সভাপতি সঞ্জয় বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘বছর দেড়েক হল, উনি বদলি হয়ে এই স্কুলে এসেছিলেন। অল্প সময়ে সবার খুব প্রিয় হয়ে উঠেছিলেন। মিষ্টভাষী ও নির্বিবাদী শিক্ষক ছিলেন। আমরাও এই ঘটনায় হতবাক।’
এই পরিস্থিতিতে পানিহাটির বারোমন্দির ঘাটের বেহাল অবস্থা নিয়ে সরব হয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগ, বারোমন্দির ঘাটের অবস্থা খুব খারাপ। জায়গায় জায়গায় গর্ত হয়ে রয়েছে। ভাটার সময় জল নীচে নেমে গেলে মরণফাঁদ তৈরি হচ্ছে। গর্তে পড়ে গিয়ে মাঝেমধ্যে এমন দুর্ঘটনা ঘটছে। এক্ষেত্রেও তেমনটাই ঘটেছে বলে মনে করছেন তাঁরা। স্থানীয় কাউন্সিলার ঝর্ণা বন্দ্যোপাধ্যায়ও ঘাটের অবস্থা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাঁর দাবি, বহুবার পুরসভায় বিষয়টি জানানো হলেও কোনও লাভ হয়নি। তিনি বলেন, ‘দীর্ঘদিন বারোমন্দির ঘাটের কোনওরকম সংস্কার হয়নি। একের পর এক দুর্ঘটনা ঘটছে। পুরসভাকে বারবার চিঠি দিয়ে জানিয়েছি। কোনও কাজ হয়নি।’ পুরসভার চেয়ারম্যান সোমনাথ দে বলেন, ‘পানিহাটির প্রতিটি গঙ্গার ঘাটই বিপজ্জনক অবস্থায় রয়েছে। ঘাটগুলি পোর্টের নিয়ন্ত্রণে। আমরা কোনও কাজ করতে পারি না। দ্রুত ঘাট সংস্কারের জন্য বহুবার কেন্দ্রীয় সরকারের নমামি গঙ্গে প্রকল্পে আবেদন করা হয়েছে। কিন্তু রাজ্যবাসীর প্রতি কেন্দ্রের বিমাতৃসুলভ আচরণের জন্য মানুষের জীবন আজ বিপন্ন।’