Bartaman Logo
২১ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পূর্বস্থলীর স্কুলে ছাত্রীদের যৌন হেনস্তার অভিযোগে ধৃত শিক্ষক

পূর্বস্থলীর স্কুলে তিন শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের যৌন হেনস্তা করার অভিযোগ ঘিরে এলাকা সরগরম। এই ঘটনায় শুক্রবার স্কুলের এক শিক্ষককে পুলিস গ্রেপ্তার করেছে।

পূর্বস্থলীর স্কুলে ছাত্রীদের যৌন হেনস্তার অভিযোগে ধৃত শিক্ষক
  • ২২ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কাটোয়া: পূর্বস্থলীর স্কুলে তিন শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের যৌন হেনস্তা করার অভিযোগ ঘিরে এলাকা সরগরম। এই ঘটনায় শুক্রবার স্কুলের এক শিক্ষককে পুলিস গ্রেপ্তার করেছে। পুলিস জানিয়েছে, তার নাম বিজয় সর্দার। বাড়ি নদীয়া জেলার বাদকুল্লায়। সে ওই স্কুলের ইতিহাসের শিক্ষক। এদিন তাকে কালনা মহকুমা আদালতে তোলা হলে বিচারক ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন। এছাড়া অভিযুক্ত বাকি দুই শিক্ষককেও গ্রেপ্তার করা হবে বলে পুলিস জানিয়েছে। 

Advertisement

প্রসঙ্গত, পূর্বস্থলীর কাষ্ঠশালী নিভাননী উচ্চ বিদ্যালয়ের স্কুলের নবম ও দশম শ্রেণির কয়েকজন  ছাত্রীকে রাতে অশ্লীল মেসেজ পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে তিন শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এমনকী তাদের শরীরের ব্যক্তিগত জায়গায় স্পর্শ করত এই তিন শিক্ষক, অভিযোগ এমনটাই। ছাত্রীরা বিষয়টি তাদের অভিভাবকদের জানায়। এরপরেই অভিভাবকরা বৃহস্পতিবার স্কুল ছুটির সময় বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। তাঁরা স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের পদত্যাগের দাবি জানান। 
অভিভাবকদের দাবি মেনে স্কুল পরিচালন সমিতির কাছে ওই পদ থেকে পদত্যাগ করেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নিরঞ্জন মণ্ডল। আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই স্কুল পরিচালন সমিতির বৈঠকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কে হবেন, তা সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এনিয়ে ওই স্কুলের পরিচালন সমিতির সভাপতি অলোক নাথ বলেন, ঘটনাটি খুবই নিন্দনীয়। পুলিস পদক্ষেপ নিচ্ছে। 
এদিন পূর্বস্থলী উত্তর কেন্দ্রের বিধায়ক তপন চট্টোপাধ্যায় স্কুলে যান। তিনি বলেন, শিক্ষক সমাজের মেরুদণ্ড। আর সেই শিক্ষকদের বিরুদ্ধেই এমন গুরুতর অভিযোগ ওঠা কাম্য নয়। নিন্দার ভাষা নেই। 
স্কুল সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন অভিযুক্ত এক শিক্ষক স্কুলে হাজির হতেই পুলিসকে খবর দেওয়া হয়। তারপর পুলিস ওই শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায়। ওই স্কুলে মোট ১০৫০ জন ছাত্রছাত্রী রয়েছে। তারমধ্যে কয়েকজন পড়ুয়ার সঙ্গে এমনটা ঘটেছে বলে অভিযোগ। এদিন অভিভাবকদের একাংশ জানান, স্কুলে ছেলেমেয়েদের পড়াশোনা করার জন্য পাঠানো হয়। সেখানে যদি এমন ঘটনা ঘটে তাহলে শিক্ষকদের উপর থেকে মানুষের শ্রদ্ধা-আস্থা সব উঠে যাবে।  
এদিন ওই স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নিরঞ্জন মণ্ডল বলেন, আমি পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছি। তবে স্কুলে শিক্ষিকারাও রয়েছেন। ছাত্রীরা বিষয়টি শিক্ষিকাদেরও জানাতে পারত। পুলিস ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ