সংবাদদাতা, কৃষ্ণনগর : কৃষ্ণনগরের মৃৎশিল্পের খ্যাতি বহুদিনের। এবার সেই শিল্পনগরী থেকেই তৈরি হয়ে হরিয়ানার গুরগাঁওয়ে ভারত সেবাশ্রম সংঘের মন্দিরে পাড়ি দিচ্ছে পাঁচ ফুটের এক অনন্য ব্রোঞ্জের দুর্গাপ্রতিমা। সম্পূর্ণ ধাতু দিয়ে তৈরি এই প্রতিমা গড়ে তুলতে শিল্পী গৌতম পালের তত্ত্বাবধানে টানা প্রায় চার মাস ধরে পরিশ্রম করেছেন মোট ২২ জন শিল্পী। শিল্পীদের নিখুঁত হাতের কাজ ও দীর্ঘ পরিশ্রমে তৈরি হয়েছে এই বিশেষ দুর্গামূর্তি। শুধু দুর্গাপ্রতিমাই নয়, এর সঙ্গে গুরগাঁওয়ে যাচ্ছে প্রণবানন্দের ছয় ফুটের একটি পাথরের মূর্তিও। কৃষ্ণনগরের শিল্পীদের তৈরি এই দুই মূর্তি এবার স্থান পাবে গুরগাঁওয়ের ভারত সেবাশ্রমের মন্দিরে।
এই ধাতব দুর্গাপ্রতিমা তৈরির প্রক্রিয়াটিও বেশ দীর্ঘ ও পরিশ্রমসাধ্য। প্রথমে মাটি দিয়ে দুর্গার মূল প্রতিমার কাঠামো তৈরি করা হয়। এরপর সেই মাটির মূর্তির উপর প্লাস্টার দিয়ে ছাঁচ বা ডাইস তৈরি করা হয়। ছাঁচ তৈরির পর তার উপর বিশেষ পদ্ধতিতে মোমের আস্তরণ দেওয়া হয়। পরবর্তী ধাপে মোম গলিয়ে বের করে নেওয়া হয় এবং সেই জায়গায় গলানো ধাতু ঢেলে কাস্টিং করা হয়। এরপর আগুনে ধাতু গলিয়ে প্রতিমার বিভিন্ন অংশ তৈরি করা হয়। সেই অংশগুলিকে জোড়া লাগিয়ে ধীরে ধীরে সম্পূর্ণ মূর্তির রূপ দেওয়া হয়। সবশেষে চলে দীর্ঘ সময়ের ফিনিশিংয়ের কাজ। প্রতিমার প্রতিটি অংশ মসৃণ করা, সূক্ষ্ম খুঁটিনাটি ঠিক করা এবং কাঙ্ক্ষিত আকৃতি দেওয়ার পর মূর্তির উপর রং ও অন্যান্য কাজ করা হয়। প্রতিটি ধাপেই শিল্পীদের অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে কাজ করতে হয়।
শিল্পীদের কথায়, ধাতুর মূর্তি তৈরি করা মোটেই সহজ কাজ নয়। সবসময় সতর্ক থাকতে হয়। কোথাও সামান্য ভুল হলে পুরো কাজেই তার প্রভাব পড়তে পারে। তাই প্রতিমার মুখের ভাব-ভঙ্গি থেকে শুরু করে হাত-পা, অলংকার এবং শরীরের প্রতিটি অংশ নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলতে দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করতে হয়েছে শিল্পীদের।
শিল্পী গৌতম পাল বলেন, সম্পূর্ণ প্রতিমাটি ব্রোঞ্জ মেটালের। ব্রোঞ্জের উপর সোনালী রং করা হয়েছে। প্রায় চার মাস সকলে একসঙ্গে কাজ করেই মূর্তিটি তৈরি হয়েছে। মাটির মূর্তি তৈরি থেকে শুরু করে ধাতব রূপ পর্যন্ত বিভিন্ন ধাপ পেরোতে হয়। ধাতব প্রতিমা তৈরি করা খুবই কঠিন ও সময়সাপেক্ষ কাজ।
কৃষ্ণনগরের শিল্পীরা বারবার প্রমাণ করেছেন, তাঁদের শিল্পের কোনও ভৌগোলিক সীমা নেই। ব্রোঞ্জের এই দুর্গা প্রতিমার হাত ধরে সেই শিল্প এবার পৌঁছে যাচ্ছে হরিয়ানায়।