Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

স্কুলে পড়ুয়াদের ‌জন্মদিন পালন, কব্জি ডুবিয়ে খাওয়া দাওয়া

বাজছে সানাই। হেঁশেল থেকে ভেসে আসছে মাংস রান্নার গন্ধ। নীল-সাদা বেলুনে সেজে উঠেছে চত্বর। না, এটা কোনও অনুষ্ঠান বাড়ির দৃশ্য নয়। পড়ুয়াদের জন্মমাস উপলক্ষ্যে বুধবার গোঘাটের বাজুয়া নিম্ন বুনিয়াদি বিদ্যালয়ের পরিবেশ ছিল এমনই।

স্কুলে পড়ুয়াদের ‌জন্মদিন পালন, কব্জি ডুবিয়ে খাওয়া দাওয়া
  • ২১ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, আরামবাগ: বাজছে সানাই। হেঁশেল থেকে ভেসে আসছে মাংস রান্নার গন্ধ। নীল-সাদা বেলুনে সেজে উঠেছে চত্বর। না, এটা কোনও অনুষ্ঠান বাড়ির দৃশ্য নয়। পড়ুয়াদের জন্মমাস উপলক্ষ্যে বুধবার গোঘাটের বাজুয়া নিম্ন বুনিয়াদি বিদ্যালয়ের পরিবেশ ছিল এমনই। স্কুলই যেন বাড়ি! দুপুরে স্পেশাল মেনুতে কব্জি ডুবিয়ে খাওয়া করল খুদে পড়ুয়ারা। এদিনই প্রথম স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে তাদের জন্মদিন পালন করলেন শিক্ষক ও অভিভাবকরা। তাতে বেজায় খুশি পড়ুয়ারা। 

Advertisement

স্কুল সূত্রে জানা গিয়েছে, আগস্ট মাসে ওই স্কুলের পড়ুয়া ২৬ জনের জন্ম মাস। তাই তাদের সবার জন্মদিন পালনের উদ্যোগ নেয় স্কুল কর্তৃপক্ষ। তাতে সাড়া দেন পড়ুয়াদের অভিভাবকরা। খুদেদের মায়েরা আনেন সাতটি বড় মাপের কেক। প্রথম পিরিয়ডের পর থেকেই স্কুল চত্বর সাজানোর কাজে হাত লাগায় পড়ুয়া, অভিভাবক ও শিক্ষক- শিক্ষিকারা। দ্বিতীয় পিরিয়ডের পর সাজানো টেবিলে রঙিন মোমবাতি জ্বালিয়ে মাথায় বার্থডে টুপি পরে কেক কাটে পড়ুয়ারা। সেই কেক বাকি বন্ধুদের খাইয়ে তারা হুল্লোড়ে মাতে। ২৬ জন পড়ুয়ার মায়েরাও জন্মদিনের অনুষ্ঠানে শামিল হন। অতিথি হয়ে এসে শুভেচ্ছা জানান গোঘাট-১ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি বিজয় রায়, রঘুবাটির প্রধান রাজু মালিক, স্কুল পরিচালন কমিটির সভাপতি মহাদেব দাস সহ অনেকেই। এদিন দুপুরে স্পেশাল মেনুতে ছিল ঝুরি আলু ভাজা, ভেজ ডাল, মিনিকিট চালের ভাত, চিকেন, পায়েস, চাটনি, পাঁপড় ও মিষ্টি। অতিথিরাও পড়ুয়াদের হাতে দেন কলম, চকোলেট ও গোলাপ ফুল। 
স্কুলের প্রধান শিক্ষক রামকৃষ্ণ ভট্টাচার্য বলেন, পড়ুয়াদের কাছে স্কুলের পরিবেশ নিয়ে ভীতি কাটাতে বাড়ির মতো সবকিছু আয়োজন করা হয়েছে। অভিভাবকরা সব রকমভাবে সাহায্য করেছেন। তাঁরাই চকোলেট, কেক, টুপি দিয়েছেন। কেউ আবার মধ্যাহ্ন ভোজনের খরচেও সাহায্য করেছেন। এরফলে অনাবিল আনন্দ পেয়েছে খুদেরা। স্কুলে এমন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পড়ুয়াদের উপস্থিতি আরও বাড়বে বলেই আমাদের আশা। প্রত্যেক মাসেই আমরা জন্মদিন পালনের অনুষ্ঠান করব। 
স্কুল সূত্রে জানা গিয়েছে, বাজুয়া নিম্ন বুনিয়াদি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হয় ১৯৫৮ সালে। বর্তমানে ২০০ জন ছাত্রছাত্রী এখানে পড়ে। শিক্ষক-শিক্ষিকা মিলিয়ে রয়েছেন সাত জন। বাজুয়া ছাড়াও সীতানগর, রঘুবাটি, রাজগ্রাম, গৌরাঙ্গবাটি, সন্তোষপুর, মদিনা প্রভৃতি গ্রাম থেকে ছাত্রছাত্রীরা স্কুলে আসে। তার জন্য একটি গাড়িও রয়েছে। ২০১৩ সালে এই স্কুল গোঘাট-১ ব্লকের মধ্যে নির্মল বিদ্যালয়ের পুরস্কার পায়। পরের বছর জেলার সেরা স্কুল হিসেবে ঝুলিতে আসে শিশু মিত্র পুরস্কারও। স্কুল কর্তৃপক্ষের দাবি, প্রত্যেক বছরই বাড়ছে পড়ুয়া সংখ্যা। তবে পরিকাঠামো ক্ষেত্রে দু’টি অতিরিক্ত শ্রেণিকক্ষ, শৌচাগারের প্রয়োজন।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ