নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: শহরের বেসরকারি স্কুলে ক্লাসের ভিতর অষ্টম শ্রেণির ছাত্রীর শ্লীলতাহানির ঘটনায় শর্তসাপেক্ষে হোম থেকে ছাড়া পেল অভিযুক্ত সহপাঠী। শুক্রবার ওই ছাত্রকে জলপাইগুড়ি জেলা আদালতে জুভেনাইল জাস্টিস বোর্ডের সামনে পেশ করা হয়। এখনও পর্যন্ত জমা পড়া বিভিন্ন রিপোর্ট খতিয়ে দেখে শর্তের ভিত্তিতে তাকে হোম থেকে বাড়িতে যাওয়ার অনুমতি দেন বিচারক।
জুভেনাইল জাস্টিস বোর্ডের সরকারপক্ষের আইনজীবী শান্তা চট্টোপাধ্যায় বলেন, সপ্তাহে একদিন করে আগামী দু’মাস ওই ছাত্রকে জুভেনাইল জাস্টিস বোর্ডের কাউন্সেলরকে দিয়ে কাউন্সেলিং করাতে হবে। মূলত এই শর্তে ওই ছাত্রকে হোমের হেফাজত থেকে বাড়ি ফেরার অনুমতি দিয়েছেন জুভেনাইল জাস্টিস বোর্ডের ভারপ্রাপ্ত বিচারক। মামলার পরবর্তী শুনানি হবে ১১ সেপ্টেম্বর। তিনি বলেন, গত সোমবার ওই ছাত্রকে জুভেনাইল জাস্টিস বোর্ডের সামনে পেশ করা হয়। সেদিন শুনানির পর ওই ছাত্রকে পাঁচদিন হোমে রাখার নির্দেশ দেয় বোর্ড। সেইসঙ্গে জুভেনাইল জাস্টিস বোর্ড জানিয়ে দেয়, পরবর্তী শুনানি না হওয়া পর্যন্ত ওই ছাত্রকে বিভিন্ন পর্যায়ে কাউন্সেলিং করাতে হবে।
সরকারপক্ষের আইনজীবী বলেন, জুভেনাইল জাস্টিস বোর্ডের নির্দেশমতো ছাত্রটির কাউন্সেলিং হয়েছে। তার রিপোর্ট এদিন পেশ করা হয়। সেইসঙ্গে ওই ছাত্রের সোশ্যাল ইনভেস্টিগেশন রিপোর্ট, সাইকোলজিক্যাল স্ট্যাটাস রিপোর্ট জমা পড়েছে। সবটা খতিয়ে দেখে হোম হেফাজত থেকে ওই ছাত্রের বাড়ি ফেরার আবেদন মঞ্জুর করেন বিচারক। এদিকে, ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ছাত্রীকে তার পরিবার অন্য স্কুলে ভর্তি করানোর কথা ভাবলেও চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটির তরফে তাদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, ছাত্রী যদি নিজের স্কুলে পড়ে, সেক্ষেত্রে তার সুরক্ষা নিশ্চিত করবে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। স্কুলের প্রিন্সিপালকেও বিষয়টি জানিয়ে দিয়েছে সিডব্লুসি। সেইমতো ছাত্রীকে আপাতত নিজের স্কুলেই রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তার পরিবার। এদিন ছাত্রীর মা বলেন, ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সুরক্ষার কথা ভেবে প্রথমে আমরা ভেবেছিলাম, মেয়েকে অন্য স্কুলে ভর্তি করাব। কিন্তু সিডব্লুসি’র তরফে আমাদের জানানো হয়েছে, মেয়ে যদি নিজের স্কুলে পড়ে, সেক্ষেত্রে তার সুরক্ষার দায়িত্ব স্কুলের। এতে আমরা ঠিক করেছি, মেয়ে নিজের স্কুলেই পড়বে। তিনি বলেন, মেয়ে এখনও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। আদালতে গোপন জবানবন্দি দেওয়ার পরই মেয়েকে আমরা স্কুলে পাঠাব।
ইতিমধ্যেই ছাত্রীর বয়ান রেকর্ড করার পাশাপাশি স্কুলের প্রিন্সিপালকে তলব করে তাঁর বক্তব্য শুনেছে সিডব্লুসি। পাশাপাশি জেলা শিশুসুরক্ষা বিভাগের তদন্তে স্কুলের বিরুদ্ধে একাধিক গাফিলতি সামনে এসেছে। স্কুলে পড়ুয়াদের বিশেষ করে ছাত্রীদের নিরাপত্তা সংক্রান্ত যেসব খামতি রয়েছে, সেগুলি দশ দিনের মধ্যে পূরণ করে স্কুল কর্তৃপক্ষ যেন জানায়, সেই নির্দেশ দিয়েছে সিডব্লুসি।