দিল্লি: জনসংখ্যা হ্রাসের প্রভাব কি শিক্ষাক্ষেত্রে পড়তে শুরু করল? নথিভুক্তির ক্রমহ্রাসমান হার দেখে এই নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে স্কুলে পড়ুয়া কমে হয়েছে ২৪ কোটি ৬৮ লক্ষ। সাত বছরে এই সংখ্যা সর্বনিম্ন। গত বছরের থেকে এই সংখ্যা প্রায় ১১ লক্ষ কম। ইউনিফায়েড ডিস্ট্রিক্ট ইনফর্মেশন সিস্টেম ফর এডুকেশন প্লাসের এই তথ্য সামনে আসতেই শিক্ষাক্ষেত্রে আশঙ্কার মেঘ ঘনিয়েছে। প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণিতেই স্কুল ভর্তি বেশি হয়। এবার সেখানেই নথিভুক্তি কম হয়েছে। সেই ২০২১-২২ থেকে নাম নথিভুক্তি কমতে শুরু করেছে। ২০২৪-২৫ সালে তা অএনকটাই কমেছে।
জনসংখ্যা বিশেষজ্ঞরা বহুদিন ধরেই দেশের ক্রমহ্রাসমান জনসংখ্যা নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করে আসছেন। তাঁদের সেই আশঙ্কাই এবার সত্যি হতে চলেছে বলে মত বিশেষজ্ঞদের। শিক্ষাক্ষেত্রের উপর জনসংখ্যা হ্রাসের বিরূপ প্রভাব পড়ছে। ভারতের জন্মহার (টিএফআর) কমে দাঁড়িয়েছে ১.৯১ শতাংশ। প্রতিস্থাপন হার ২.১-এর থেকে এটা অনেকটাই কম। আর তার জন্যই স্কুলগুলিতে কম সংখ্যাক পড়ুয়া স্কুলে ভর্তি হচ্ছে বলে মত অনেকের। তবে এই মতের শরিক নন অনেকেই। তাঁদের প্রশ্ন, এই পরিস্থিতিতে বেসরকারি স্কুলগুলিতে তাহলে পড়ুয়া বাড়ছে কী করে? সরকারি স্কুলগুলিতে এনরোলমেন্ট ১২ কোটি ৭৫ লক্ষ থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ১২ কোটি ১৬ লক্ষ। অন্যদিকে, বেসরকারি স্কুলে এনরোলমেন্ট ৯ কোটি থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ কোটি ৫৯ লক্ষ।
পরিংসখ্যান অনুযায়ী, উত্তরপ্রদেশ এবং অসমে এনরোলমেন্ট সামান্য হলেও বেড়েছে। অন্যদিকে, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ এবং মহারাষ্ট্রে এই হার কমেছে। সবচেয়ে কমেছে দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলিতে। এই রাজ্যগুলির জন্মহার অনেকটাই কমেছে। তাই এনরোলমেন্টও কমেছে বলে মত শিক্ষাবিদদের। তবে ড্রপ আউট কমছে। প্রাথমিক স্তরে (তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণি) ড্রপ আউট ২০২৩-২৪ সালে ছিল ৩.৭ শতাংশ। ২০২৪-২৫ সালে তা কমে দাঁড়িয়েছে ২.৩ শতাংশ। মধ্যস্তরে (ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি) ৫.২ শতাংশ থেকে কমেছে ৩.৫ শতাংশ। আর সেকেন্ডারি স্তরে (নবম-দশম শ্রেণি) ১০.৯ থেকে কমেছে ৮.২ শতাংশ।