নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: নিয়ম মানছে না স্কুল বাসগুলি। শহরের মধ্যেই দ্রুত গতিতে ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে ছুটে চলছে বাস। তারফলে হামেশায় দুর্ঘটনা হচ্ছে। বৃহস্পতিবারও এক স্কুলবাসের চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছে ধাক্কা মারে। সামনের দিকে বসে থাকা সাত থেকে আটজন পড়ুয়া অল্পবিস্তর জখম হন। তিনজন পথচারীও জখম হয়েছেন। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, স্কুল বাসটি কালনা রোড ধরে যাচ্ছিল। লোকো চারতলার কাছে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছে ধাক্কা মারে। স্থানীয়রা জখমদের উদ্ধার করে। এলাকার বাসিন্দারা বলেন, চালকরা বেপরোয়া ভাবে বাস চালায়। অনেক সময় ট্রাফিক আইন তারা মানে না। নিজেদের ইচ্ছেমতো যেকোনও জায়গায় বাস দাঁড়িয়ে যায়। এমনকী, বেশ কিছু বাসে সিটের থেকে অনেক বেশি ছাত্রছাত্রীরা তোলা হয়।
বর্ধমানের নীলপুরের বাসিন্দা সুমন্ত দাস বলেন, আমার ছেলে বেসরকারি স্কুলে পড়াশোনা করে। আগে বাসে ছেলেকে স্কুলে পাঠাতাম। কিন্তু বাসগুলি যেভাবে চলে, তাতে যেকোনও সময় বড় দুর্ঘটনা হতে পারে। চালককে কয়েকবার সতর্ক করেছিলাম। তারপরও তারা সতর্ক হয়নি। সেই কারণে ছেলেকে আর বাসে স্কুলে পাঠাই না। আর এক অভিভাবক বলেন, অনেক সময় স্কুল বাসের চালকরা নিজেদের মধ্যে প্রতিযোগিতা করে। ভিড় রাস্তার মধ্যেও বাসগুলি দ্রুত গতিতে চলে। স্কুল বাসের স্টিয়ারিং হাতে থাকলে কোনও নিয়মের তোয়াক্কা করার দরকার নেই। এমনই মনোভাব অনেক চালকদের মধ্যে রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা উচিত। স্থানীয়রা বলেন, এদিন দুর্ঘটনার পর পড়ুয়ারা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। তাদের অন্য একটি বাসে তুলে পুলিস স্কুলে পাঠানোর ব্যবস্থা করে। সেই সময় পড়ুয়ারা এতটাই আতঙ্কিত হয়ে ছিল যে তারা স্কুলে উঠতেই চাইছিল না। সামনের দিকে যেসব পড়ুয়ারা বসেছিল তাদের হাতে পায়ে চোট লাগে। তবে সকলেরই অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে। পূর্ব বর্ধমানের জেলাশাসক আয়েশা রানি এ বলেন, যেসব চালকরা স্কুলবাস চালান, তাঁদের আরও বেশি দায়িত্ববান হওয়া উচিত। নিয়ম না মেনে কেউ নিজেদের ইচ্ছেমতো বাস চালালে পরিবহণ দপ্তর ব্যবস্থা নেবে। বর্ধমানের বাসিন্দারা বলেন, সব বাসের ‘ফিটনেস’ রয়েছে কি না তা নিয়েও সংশয় রয়েছে। এর আগেও বাস দুর্ঘটনার মধ্যে পড়েছিল।