সংবাদদাতা, পুরাতন মালদহ: ২০২৪-২০২৫ অর্থবর্ষে গাজোলে পাঁচ শতাধিক আদিবাসী এবং তফসিলি পড়ুয়ার ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্টে সমস্যার কারণে প্রি ম্যাট্রিক এবং পোস্ট ম্যাট্রিক স্কলারশিপের টাকা ঢুকছে না। বিষয়টি ব্লকের অনগ্রসর ও আদিবাসী শ্রেণিকল্যাণ দপ্তরের নজরে আসতেই আধিকারিকরা মাঠে নেমে পড়েছেন। তাঁরা গত সাতদিনে গাজোলের হাজী নাকু মহম্মদ, বারডাঙ্গা রঘুনাথ, শ্যামসুখী শিক্ষা নিকেতন, হাতিমারি, রানিগঞ্জ হাইস্কুলে বিশেষ ক্যাম্প করেছেন। ওই ক্যাম্পগুলিতে স্থানীয় পোস্ট অফিসের কর্মীদের নিয়ে আসা হয়। তাঁদের সহযোগিতায় ভুক্তভোগী পড়ুয়াদের পোস্ট অফিসে নতুন অ্যাকাউন্ট খুলে দেওয়া হয়েছে। আগামী দিনে ধাপে ধাপে আরও স্কুলে এই ক্যাম্প হবে। জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই ওই স্কলারশিপের টাকা পড়ুয়াদের নতুন অ্যাকাউন্টে ঢুকে যাবে বলে স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে।
ব্লক অনগ্রসর ও আদিবাসী শ্রেণিকল্যাণ দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, গাজোলে ৩৫টির বেশি মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক স্কুল রয়েছে। এর পাশাপাশি একটি কলেজ সহ একাধিক বিএড শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। ওই স্কুল এবং কলেজের আদিবাসী, তফসিলি জাতির ছ’হাজারের বেশি পড়ুয়াকে বছরে একবার প্রি ম্যাট্রিক (নবম থেকে দশম ) এবং পোস্ট ম্যাট্রিক (একাদশ থেকে স্নাতক) স্কলারশিপের টাকা দেওয়া হয়। তবে, ২০২৪-২০২৫ অর্থবর্ষে পাঁচ শতাধিক পড়ুয়া টাকা পায়নি।
গাজোল ব্লক অনগ্ৰসর শ্রেণিকল্যাণ দপ্তরের আধিকারিক সঞ্জয় মণ্ডল জানান, ২০২৪-২০২৫ অর্থবর্ষে গাজোলে আদিবাসী ও তফসিলি সম্প্রদায়ের পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেণির ১২ হাজার পড়ুয়া স্কলারশিপের টাকা পেয়েছে। সেখানে পড়ুয়াদের অ্যাকাউন্টে টাকা পেতে কোনও সমস্যা হয়নি। প্রি ম্যাট্রিক এবং পোস্ট ম্যাট্রিকের ছ’হাজার পড়ুয়ার স্কলারশিপের টাকা পাওয়ার কথা। সরকার থেকে পড়ুয়াদের অ্যাকাউন্টে টাকা সবাইকে দিয়ে দিয়েছে। কিন্তু পাঁচশোর বেশি পড়ুয়ার অ্যাকাউন্টে সমস্যা থাকার কারণে টাকা ঢুকছে না।
দপ্তর বিষয়টি নজরে রেখেছে। সেজন্য ভুক্তভোগী পড়ুয়াদের স্কুলে গিয়ে স্থানীয় পোস্ট অফিসের কর্মী দিয়ে ক্যাম্প করে নতুন অ্যাকাউন্ট খুলে দেওয়া হচ্ছে। এক্ষেত্রে পড়ুয়াদের আধার কার্ড লাগছে। দ্রুত নতুন অ্যাকাউন্টে স্কলারশিপের টাকা দিয়ে দেওয়া হবে।