Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সেচদপ্তরের কোটি টাকা বরাদ্দের কাজ এবার অর্ধেকে, গুণমান নিয়ে সংশয়  

সেচদপ্তরের কোটি টাকা বরাদ্দের কাজ এবার অর্ধেকে, গুণমান নিয়ে সংশয়
 
  • ২৮ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, কান্দি: সরকারিভাবে প্রায় এক কোটি টাকার বরাদ্দ করা হলেও সেই কাজ হবে অর্ধেক টাকায়। অনলাইন টেন্ডারের দৌলতেই এমন ঘটনা ঘটতে চলেছে কান্দি থানার হিজল পঞ্চায়েত এলাকার সুভাষনগর গ্রামের কাছে। সেখানে কুয়ে নদীর রাইট এমব্যাঙ্কমেন্টের প্রায় ৪০০ মিটার বাঁধের সংস্কারের জন্য সম্প্রতি টেন্ডার প্রকাশিত হয়। ওই কাজের জন্য প্রায় এক কোটি টাকার সিডিউল থাকলেও প্রায় অর্ধেক টাকার লেস দিয়ে কাজ পেয়েছেন এক ঠিকাদার সংস্থা। এরপরেই কাজের গুণগত মান নিয়ে এলাকায় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
Advertisement
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি বন্যায় কুয়ে নদীর বাঁধের ওই অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। এরপর সেচদপ্তর থেকে বাঁধের ভাঙা অংশ সংস্কার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি বীরভূমের বোলপুরের ময়ূরাক্ষী সাউথ ডিভিশন এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার অফিস থেকে এর টেন্ডার প্রকাশিত হয়। তাতে সংস্কারের জন্য সিডিউল মোতাবেক বরাদ্দ করা হয়েছিল ৯৪ লক্ষ ৬২ হাজার ৮১৩ টাকা। অনলাইন টেন্ডারের মাধ্যমে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। তাতে অনেক ঠিকাদার অংশ নিলেও এটির বরাত পায় বহরমপুরের এক ঠিকাদার সংস্থা। তারা কাজটির জন্য ৪৯.৯ শতাংশ লেস দিয়েছিল বলে সেচদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে। এরপর সেচদপ্তর থেকে কাজের ওয়ার্ক অর্ডারও দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে।
যদিও সংস্কার এখনও সেভাবে শুরু হয়নি। তবে সেচদপ্তর থেকে জমি পরিদর্শন করে ঠিকাদার সংস্থাকে সবকিছু বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। কিন্তু এরপরেই বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। ক্ষুব্ধ বাসিন্দাদের প্রশ্ন? ১০০ টাকার কাজের মধ্যে ৫০ টাকা বাদ দেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, এরপর ২০ শতাংশ জিএসটি বাদ দিতে হবে পেমেন্টের সময়। এরপর ১০ শতাংশ টাকা সিকিউরিটি মানি হিসেবে জমা থাকবে ঠিকাদারের। সঙ্গে রয়েছে অন্যান্য খরচও। তাই কাজের গুণমান কেমন হবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীর বলেন, কয়েকদিন আগে জেলাশাসক সহ মন্ত্রী মানস ভুঁইয়ার সঙ্গে সেচদপ্তরের কাজকর্ম নিয়ে অনেক সমালোচনা হয়েছে। তাই কুয়ে নদীর কাজের ক্ষেত্রেও কড়ায় গণ্ডায় সিডিউল মোতাবেক কাজ বুঝে নেওয়া হবে। কাজের অসঙ্গতি দেখা দিলেই কোনও রেয়াত করা হবে না। যেখানে প্রয়োজন অভিযোগ করা হবে। কান্দি পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি পার্থপ্রতিম সরকার বলেন, সেচদপ্তর মনে হচ্ছে অবাস্তবকে বাস্তব করে তুলবে। কোন একটি কাজ করা হচ্ছে অর্ধেকেরও কম টাকায়। সেই কাজের গুণমান কী হবে, তা নিয়ে সকলেই প্রশ্ন তুলছেন। তবে আমরা চাই কাজের সিডিউল প্রকাশ্যে এনে কাজ শুরু করুক সেচদপ্তর। এলাকার মানুষ দাঁড়িয়ে থেকে কাজ বুঝে নেবেন। যদিও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার জয়দীপ রায় বলেন, কাজটির ওয়ার্ক অর্ডার আমিই পেয়েছি। তবে সংবাদ মাধ্যমকে এনিয়ে কিছু জানাতে পারছি না।
এবিষয়ে অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার সালার সিরাজ আহম্মেদ বলেন, প্রায় অর্ধেক লেস দিয়ে কাজটি পেয়েছেন এক ঠিকাদার সংস্থা। তবে কাজটি এখনও সেভাবে শুরু হয়নি। ঠিকাদারকে নির্দিষ্ট এলাকা চিনিয়ে দেওয়া হয়েছে। পুরো বিষয়টি দেখছে এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ারের দপ্তর।
সম্পর্কিত সংবাদ