Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

দিনভর বিক্ষিপ্ত বৃষ্টিতে জমল জল, গরমের হাত থেকে স্বস্তি

মঙ্গলবার রাতে হাল্কা ও মাঝারি পরিমাণ বৃষ্টিপাত কলকাতা এবং শহরতলিতে। তবে বুধবার সকাল থেকে সেভাবে বৃষ্টি হয়নি

দিনভর বিক্ষিপ্ত বৃষ্টিতে জমল জল, গরমের হাত থেকে স্বস্তি
  • ১৯ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি ও সংবাদদাতা: মঙ্গলবার রাতে হাল্কা ও মাঝারি পরিমাণ বৃষ্টিপাত কলকাতা এবং শহরতলিতে। তবে বুধবার সকাল থেকে সেভাবে বৃষ্টি হয়নি। কিন্তু আকাশের মুখ ভার ছিল দিনভর। আকাশজুড়ে মেঘের পরে মেঘ। মাঝেমাঝে অল্প সময়ের জন্য ঝিরিঝিরি বৃষ্টি হয়েছে কলকাতার কয়েকটি জায়গায়। আবহাওয়ার রিপোর্ট অনুযায়ী, এদিন শহরে বিকেল চারটে থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সর্বোচ্চ সাত মিমি বৃষ্টিপাত হয়েছে। 

Advertisement

অন্যদিকে মঙ্গলবার রাত ও বুধবার ভোর পর্যন্ত হওয়া বৃষ্টিপাতের জেরে গরম কমে গিয়েছে। ঠান্ডা হয়েছে আবহাওয়া। পুরসভার দাবি, কলকাতার কোথাও জল জমেনি। মানুষের বক্তব্য, কাজে বেরিয়ে তেমনভাবে ভোগান্তি পোহাতে হয়নি এদিন। জেলা থেকে পাওয়া খবর অনুযায়ী, বিভিন্ন জায়গায় জল জমেছে। উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হাওড়া, হুগলিতে বুধবার বিক্ষিপ্তভাবে দিনভর বৃষ্টিপাত।
উত্তর ২৪ পরগনায় বারাকপুর শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন জায়গায় জল জমে। কল্যাণী এক্সপ্রেসের দু’পাশের বাসিন্দাদের চরম দুর্ভোগের মুখে পড়তে হয়েছে বলে অভিযোগ। বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বাড়লে সমস্যা বৃদ্ধি পাবে বলে আশঙ্কা মানুষের। বারাকপুর, ভাটপাড়া, নৈহাটি পুরসভা এবং মোহনপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের একাধিক এলাকায় এদিন জল জমে। এর পাশাপাশি বিপর্যস্ত উত্তর শহরতলির বিস্তীর্ণ এলাকা। দমদম, পাতিপুকুর সহ একাধিক আন্ডারপাসে জল জমে যায়। বরানগর, দমদম সহ শহরতলির বিভিন্ন পুরসভার নিচু এলাকা ছিল জল থই থই অবস্থায়। বরানগরের টবিন রোড ও থানা লাগোয়া বিটি রোডের সার্ভিস রোডে জল জমে। পানিহাটির বিটি রোডের সার্ভিস রোড এবং রাস্তার একাংশে জল জমে যায়। কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ে লাগোয়া উত্তর দমদম, পানিহাটি ও রহড়া থানা এলাকার বহু নিচু জায়গা জলবন্দি। পুরসভা ও পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষ পাম্প ব্যবহার করে জল বের করার কাজ করছে বলে দাবি করেছে।
দক্ষিণ ২৪ পরগনায় মঙ্গলবারের তুলনায় কাকদ্বীপ মহকুমায় বুধবার কম বৃষ্টিপাত হয়। ভোররাতে কিছুক্ষণ বৃষ্টি হয়েছিল। তারপর দিনভর আকাশ মেঘলা থাকলেও বৃষ্টি হয়নি। এই অঞ্চলের একাধিক জায়গায় জল জমে রয়েছে বলে অভিযোগ। ধানজমিতেও জমে রয়েছে জল। এর পাশাপাশি দক্ষিণ ২৪ পরগনার বেশিরভাগ এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত হয়। গোসাবার মন্মথনগরে ঝোড়ো হাওয়ায় গাছ ভেঙে পড়ে এক ব্যক্তির গোয়ালঘরে। একটি বিদ্যুতের খুঁটিও হেলে পড়ে। এছাড়া ডায়মন্ডহারবার ও ক্যানিংয়ে মঙ্গলবারের তুলনায় কম বৃষ্টিপাত হয়। কিছু এলাকায় জল জমে রয়েছে বলে অভিযোগ। সাগরে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বাঁধ, এই আশঙ্কায় আছেন গ্রামবাসীরা। মহেশতলা থেকে বজবজ এবং পূজালিতে বৃষ্টি হয়েছে। মহেশতলা পুর এলাকার সর্বত্র জমে যায় জল। বারুইপুর শহর, জয়নগর, রায়দিঘিতে অল্প বৃষ্টি হয়েছে। বিকেলের পর তা থেমে যায়।
হুগলিতে বুধবার দিনভর দফায় দফায় বৃষ্টিপাত হয়েছে। এর ফলে নাগরিকদের ভোগান্তি চরমে ওঠে। পাশাপাশি বৃষ্টির জেরে তাপমাত্রা কমেছে বলেও স্বস্তি পেয়েছে মানুষ। দিনভর বৃষ্টির কারণে হুগলির একাধিক পুরসভা এলাকায় জল জমে যায়। ডানকুনি পুর এলাকায় মঙ্গলবার বৃষ্টির জেরে জল জমেছিল। বুধবার জমা জলের পরিমাণ বাড়ে। চুঁচুড়া, শ্রীরামপুর, চন্দননগরের বিভিন্ন এলাকা থেকে জল জমার অভিযোগ এসেছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ