Bartaman Logo
১৫ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

শহরতলিতে চাকরি দেওয়ার নাম করে রীতিমতো অফিস খুলে চলছে প্রতারণা,শাসকদলের নেতা ও প্রভাবশালীদের যোগসাজশের অভিযোগ

চাকরি চাই? অষ্টম শ্রেণি পাশ হলেই মাসে মিলবে ১০-১৫ হাজার টাকা! এরপর শিক্ষাগত যোগ্যতা অনুযায়ী নামীদামি সংস্থায় চাকরি ও আকর্ষণীয় বেতন প্যাকেজ!

শহরতলিতে চাকরি দেওয়ার নাম করে রীতিমতো অফিস খুলে চলছে প্রতারণা,শাসকদলের নেতা ও প্রভাবশালীদের যোগসাজশের অভিযোগ
  • ১৫ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

বিশ্বজিৎ মাইতি, বরানগর: চাকরি চাই? অষ্টম শ্রেণি পাশ হলেই মাসে মিলবে ১০-১৫ হাজার টাকা! এরপর শিক্ষাগত যোগ্যতা অনুযায়ী নামীদামি সংস্থায় চাকরি ও আকর্ষণীয় বেতন প্যাকেজ! সমাজমাধ্যম, লোকাল ট্রেন, স্টেশন লাগোয়া এলাকায় এমন বিজ্ঞাপনের ছড়াছড়ি। দেখলেই মনে হবে, এই মুলুকে শিক্ষিত বেকারদের হাহাকার কেবল গল্পকথা। ঊর্ধ্বমুখী বেকারত্বের পরিসংখ্যানও সাজানো! আসলে এমন চটকদারি বিজ্ঞাপনের আড়ালে চাকরির প্রলোভন দিয়ে শহরতলিতে রমরমা কারবার চালাচ্ছে প্রতারকরা। দমদম সহ শহরতলির বিভিন্ন স্টেশন এলাকা, ডানলপ, পানিহাটি ইত্যাদি জায়গায় রীতিমতো অফিস খুলে প্রতারিত করা হচ্ছে বেকারদের। বিভিন্ন থানায় চাকরি দেওয়ার নাম করে প্রতারণার অভিযোগ ক্রমশ বাড়ছে।

Advertisement

এই প্রতারণা চক্রের অন্যতম বড়ো ঘাঁটি দমদম স্টেশন লাগোয়া এলাকা। দমদম রোডের অলিগলিতে এমন বহু চাকরি দেওয়ার প্রতিষ্ঠান গজিয়ে উঠেছে। এলাকাটি দক্ষিণ দমদম পুরসভা এলাকায়। জানা গিয়েছে, সমাজমাধ্যম সহ বহু জায়গায় বিজ্ঞাপনে বিভিন্ন উড়ান সংস্থা, লজিস্টিক হাব, বহু বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে মোটা টাকার চাকরির গল্প শোনানো হচ্ছে। তবে বিজ্ঞাপনে অফিসের ঠিকানা থাকছে না। যাঁরা ফোন করছেন, তাঁদের দমদম রোডে নির্দিষ্ট একটি প্রতিষ্ঠানের সামনে এসে কল করতে বলা হচ্ছে। এরপর এক ব্যক্তি এসে তাঁদের ওই অফিসে নিয়ে যাচ্ছে। রাসবিহারী অ্যাভিনিউয়ের আশপাশে থাকা এক তরুণ-তরুণী সল্টলেকে স্বল্প বেতনের চাকরি করেন। তাঁরা ওই বিজ্ঞাপন দেখে চাকরির জন্য টাকা দিয়ে প্রতারিত হয়েছেন। তাঁদের কথায়, প্রথমে একটি ফর্ম ফিল-আপ করানো হয়। তার জন্য ৩৫০ টাকা জমা করতে হয়েছিল। এরপর ইন্টারভিউ, প্রসেসিং চার্জ ইত্যাদির নাম করে একাধিক দফায় প্রায় পাঁচ হাজার টাকা নিয়েছে দিতে হয়েছে। পরবর্তীকালে একটি বিমান সংস্থায় চাকরির নিয়োগপত্র দেওয়ার জন্য আরও পাঁচ হাজার টাকা চাওয়া হয়। হাতে কাগজও ধরানো হয়। কিন্তু তা দেখে সন্দেহ হওয়ায় আমরা কাগজপত্র ফেরত চাইলে তারা বেঁকে বসে। পরে স্থানীয় লোকজনের চাপে তারা তা ফেরত দেবে বলেছে।
প্রতারকদের টার্গেট মূলত দূরের জেলার তরুণ-তরুণী। তাঁদের ধোঁকা দিয়ে এভাবে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়েছে প্রতারকের দল। তারা কোথাও অফিস খুললেও তিন-চার মাস বাদেই সেখানে তালা ঝুলিয়ে পগার পার। রাজ্যের শাসকদলের স্থানীয় নেতা ও প্রভাবশালীদের উৎকোচ দিয়ে প্রতারণা চক্র চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ। তদন্তকারী পুলিশ অফিসাররা বলছেন, চক্রের মূল মাথারা সেন্টারে থাকছে না। তাদের বাড়ি মূলত রানাঘাট, হাবড়া এলাকায়। সোমবার দমদমের এমনই এক সেন্টারে বেকার তরুণ-তরুণীরা ক্ষোভ দেখিয়েছিলেন। শেষমেশ টাকা ফেরতের আশ্বাস মেলায় থানায় আর অভিযোগ জানানো হয়নি। দমদমের বিজেপি নেতা গৌতম সাহা মণ্ডল বলেন, চাকরি দেওয়ার নাম করে দমদমে বহু চক্র চলছে। এই প্রতারকদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ