শিশির ঘোষ: ১৯৮৬ বিশ্বকাপে মারাদোনার ‘হ্যান্ড অব গড’ গোলের দুঃস্বপ্ন আজও ভুলতে পারেনি ব্রিটিশরা। চার বছর আগেই ফকল্যান্ড যুদ্ধ হারের জ্বালা ভুলতে সেই ম্যাচ বেছে নিয়েছিল আর্জেন্তাইনরা। জোড়া গোলে সেদিন জয়ের ডঙ্কা বাজিয়েছিলেন ফুটবলের রাজপুত্র। দীর্ঘ চার দশক পর বিশ্বকাপের মঞ্চে ফের একবার ইংল্যান্ডকে বশ মানাল আর্জেন্তিনা। আর এবার মারদোনার মশাল মেসির হাতে, থুড়ি পায়ে। ম্যাচের শেষলগ্নে সাত মিনিটের ছোট্ট স্পেলেই টানা দ্বিতীয়বার দেশকে ফাইনালের টিকিট এনে দিল বাঁ পায়ের জাদুকর। মেসির বাঁ পা’কে আটকানোর যাবতীয় পরিকল্পনা করে মাঠে নেমেছিল ইংল্যান্ড ফুটবলাররা। জোনাল মার্কিংয়ে কমপক্ষে তিনজন ওর ঘাড়ের উপর ওঠার জন্য তৈরি ছিল। তবে ম্যাচের সংযোজিত সময়ে ডান পায়ে যে সেন্টারটা মেসি রাখল, তা হ্যারি কেন-বেলিংহ্যামদের কাছে ‘আউট অব সিলেবাস’। ওই জায়গা থেকে এমন মাপা ক্রস একমাত্র মেসির দ্বারাই সম্ভব। তবে দ্বিতীয় হাইড্রেশন ব্রেকের পর স্কালোনির তিনটি পরিবর্তনই ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট। ডে পল, মন্টিয়েল ও ওটামেন্ডিরা মাঠে নামতেই মাঝমাঠে দখল নেয় আর্জেন্তিনা। আর তাতেই উইংয়ে ডানা মেলতে সফল মেসি-গঞ্জালেসরা।
সেমি-ফাইনালে আর্জেন্তিনা বনাম ইংল্যান্ডের এই লড়াই চলতি বিশ্বকাপের উন্মাদনা বাড়িয়েছিল। বিশেষত দুই দেশের বিতর্কিত ইতিহাস তাদের আরও বেশি করে চাগিয়ে তোলে। মাঠের লড়াইয়েও যার রেশ ভালোই টের পাওয়া গেল। বল পায়ে যেন অকল্যান্ড যুদ্ধ হারের প্রতিশোধের লক্ষ্যে মাঠে নেমেছিল স্কালোনি ব্রিগেড। তাই প্রথমার্ধে ফুটবল ভুলে অনেক বেশি ফিজিক্যাল ডুয়েলে জড়িয়ে পড়ে সিমিওনে-পারাদেসরা। এই পর্বে লং বল গেমে বারবার আর্জেন্তিনা ডিফেন্সকে চ্যালেঞ্জ জানায় ইংল্যান্ড। বিরতির পর তারই ফল হাতেনাতে পায় টুচেল ব্রিগেড। গর্ডনের গোলটা অবশ্যই পরিকল্পিত আক্রমণের ফসল। তবে ম্যাচে লিড নিয়েও এভাবে কেন ইংল্যান্ড গুটিয়ে গেল, তার উত্তর হয়তো একমাত্র কোচ টুচেলই বলতে পারবেন।
প্রথম সেমি-ফাইনালে ফ্রান্সের বিরুদ্ধে অনেকেই স্পেনকে পিছিয়ে রেখেছিল। তবে পরিকল্পনামাফিক ফুটবল মেলেই শেষ হাসি হেসেছিল লুই ডে লা ফুয়েন্তের ছেলেরা। অথচ বুধবার আর্জেন্তিনাকে বাগে পেয়েও সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারল না ইংল্যান্ড। ম্যাচে পিছিয়ে পড়ার পর আর্জেন্তিনা দলকে অনেক বেশি একাত্ম দেখাল। মেসিকে সামনে রেখেই বাকিরা নিজেদের উজাড় করে দিল। ঠিক যেমনটা মিশর ম্যাচে দেখেছিলাম। আসলে এই আর্জেন্তনা হারার আগে হারতে শেখেনি। এই পর্বে মেসিদের একের পর এক আক্রমণে কার্যত দিশাহারা দেখায় ইংল্যান্ডকে। ওই জায়গা থেকে গোল হজম করা ছাড়া কোনো উপায় ছিল না। সবশেষে বলতেই হবে, মেসির বাঁ পা-ডান পায়ের কাছেই দর্প চূর্ণ হল ব্রিটিশদের।