Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সবটাই ছিল গভীর রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র, অতীত বেদনায় আজও কাতর ছত্রধরের বৃদ্ধা মা বেদনাবালা

সবটাই ছিল গভীর রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র, অতীত বেদনায় আজও কাতর ছত্রধরের বৃদ্ধা মা বেদনাবালা
  • ১৪ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
প্রদীপ্ত দত্ত, ঝাড়গ্রাম: ‘সবটাই রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র’—এমনটাই অভিযোগ ছত্রধর মাহাতর বৃদ্ধা মা বেদনাবালা মাহাত। আর এই ষড়যন্ত্রের কারণে পরিবারকে অনেক খেসারত দিতে হয়েছে বলেও দাবি তাঁর। রাজধানী এক্সপ্রেসের চালককে অপহরণের মামলা থেকে বেকসুর খালাস পেয়েছেন ছত্রধর। তাতে খুশি হলেও অতীতের যন্ত্রণার কথা মনে পড়লে কুঁকড়ে ওঠেন বেদনাবালাদেবী। 
Advertisement
লালগড়ের প্রত্যন্ত গ্রাম আমলিয়া। রাস্তার পাশেই একতলা ইঁটের বাড়ি। বুধবার সকাল থেকে বাড়িতে পাড়া-প্রতিবেশী, আত্মীয়-স্বজনরা আসা যাওয়া করছেন। জেলার রাজনৈতিক নেতারাও খোঁজখবর নিচ্ছেন। মঙ্গলবার এনআইএয়ের বিশেষ আদালত ছত্রধরকে রেহাই দিয়েছে। সেই খবর আসার পর উৎসবের পরিবেশ মাহাত বাড়িতে। এদিন বাড়ির উঠোনে বসে স্বজনদের সঙ্গে কথা বলছিলেন বেদনাবালাদেবী। চোখে-মুখে খানিক তৃপ্তির ছাপ। কথায় কথায় দুঃসময়ের স্মৃতিচারণ করছিলেন তিনি। বলছিলেন, ‘আমার ছেলেকে ওরা মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে জেলে ভরেছিল। আমার স্বামী সেটা সহ্য করতে না পেরে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে। বউমাকে বছরের পর বছর এক আদালত থেকে আর এক আদালতে ছোটাছুটি করতে হয়েছে। দু’জন নাতি বাবাকে ছোট থেকে ভালো করে দেখতেই পেল না। অভাব অনটনের মধ্যে আমাদের দিন কেটেছে। সেই যন্ত্রণার কথা আজও ভুলতে পারিনি। এখন ছেলের বাড়ি আসার অপেক্ষায় রয়েছি।’ বৃদ্ধার পাশেই ছিলেন ছত্রধরের স্ত্রী  স্ত্রী নিয়তি মাহাত। শাশুড়ির মুখের কথা কেড়ে নিয়ে তিনি বলেন, ‘এনআইএ অভিযোগ প্রমাণে ব্যার্থ হয়েছে। এনআইএ তদন্তভার গ্ৰহণ করার পরে আমরা আশঙ্কা করছিলাম ওকে গ্ৰেপ্তার করা হবে। সেই আশঙ্কা সত্যিও হয়। মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিয়েছিলাম লড়াই করার। এই রায় প্রমাণ করে দিয়েছে রাজনৈতিক স্বার্থে আমার স্বামীর বিরুদ্ধে অপহরণ ও খুনের মিথ্যা মামলা করা হয়েছিল। উনি জঙ্গলমহলের বাসিন্দাদের স্বার্থ লড়ছিলেন। সেটা আটকাতেই ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল। আইনের প্রতি আমাদের বিশ্বাস ছিল। মানুষের স্বার্থে আমার স্বামী আবারও লড়াই করবেন।’ এরপর বৃদ্ধা শাশুড়ির দিকে তাকিয়ে তিনি বলেন, ‘সত্যি বলতে আমার লড়াইয়ে শাশুড়িমা প্রথমদিন থেকেই পাশে ছিলেন। সাহস ও শক্তি জুগিয়ে গিয়েছেন।’
ছত্রধরের খালাস পাওয়ার ঘটনায় গ্রামবাসীরা বেশ উল্লসিত। গ্ৰামের বাসিন্দা স্বরূপ মাহাত বলছিলেন, ‘বাম আমলের শেষ দিকে এই এলাকা রাজনৈতিকভাবে অশান্ত হয়ে উঠেছিল। আতঙ্কের পরিবেশের মধ্যে বসবাস করতাম। গত একদশকে পরিস্থিতি অনেক বদলে গিয়েছে। এলাকার বাসিন্দারা ছত্রধরকে সম্মান করেন। দীর্ঘদিন ধরে জেলে ছিলেন। গত দুর্গা পুজোর সময় জামিনে বাড়িতে এসেছিলেন। গ্ৰামবাসী হিসেবে ওঁর বেকসুর খালাস হওয়ার খবরে আমরা খুশি।’ 
জেলার তৃণমূলের সভাপতি দুলাল মুর্মু বলেন, ‘ছত্রধর মাহাতর বিরুদ্ধে যে মিথ্যা অভিযোগে করা হয়েছিল, এই রায়ে তা প্রমাণ হয়ে গিয়েছে। কারা এই চক্রান্তের পিছনে ছিল, সেটাও পরিস্কার হয়ে গিয়েছে। জেলা নেতৃত্বের তরফে  ওঁকে স্বাগত জানিয়ে গ্রামে ফেরানো হবে।’ - নিজস্ব চিত্র
সম্পর্কিত সংবাদ