Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সুবর্ণরেখায় বালি তোলাকে ঘিরে তপ্ত গোপীবল্লভপুর, গ্রামবাসী-খাদানকর্মীদের সংর্ঘষ, গুলি

সুবর্ণরেখায় বালি তোলাকে ঘিরে তপ্ত গোপীবল্লভপুর, গ্রামবাসী-খাদানকর্মীদের সংর্ঘষ, গুলি
  • ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: সুবর্ণরেখা নদী থেকে অবৈধভাবে বালি তোলার অভিযোগ নিয়ে এলাকা উত্তপ্ত হচ্ছিল। প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ জানানো হয়েছিল। তারপরেও অশান্তি থামানো গেল না। রবিবার দুপুরে গোপীবল্লভপুর -২ ব্লকের বাঁশ জোড়া এলাকা রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়। বালি খাদানের লোকদের সঙ্গে ভামাল ও করবনিয়া গ্ৰামের বাসিন্দারা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। পিস্তল থেকে গুলি ছোড়া হয়। সংঘর্ষে দুইজন গ্ৰামবাসী জখম হয়েছেন। পুলিস ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। 
Advertisement
গোপীবল্লভপুর -২ ব্লকের বাঁশজোড়া,  কীর্তনশোল এলাকার বাসিন্দারা বেআইনিভাবে বালি খাদান থেকে বালি তোলার অভিযোগ তুলেছিলেন।  গত ৬ ফেব্রুয়ারি ব্লকের ভূমিকা ও ভূমি সংস্কার দপ্তরে লিখিত অভিযোগ জানানো হয়। অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয় , বালি খাদানের মালিক প্রশাসনের চোখে ধূলো দিয়ে নির্দিষ্ট জায়গার বাইরে বালি তুলছেন। দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আবেদনও জানানো হয়। প্রশাসন কোনও পদক্ষেপ না নেওয়ায় কয়েকদিন ধরে স্থানীয় গ্ৰামবাসীদের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছিল। রবিবার দুপুরে বালিখাদান মালিকের লোকদের সঙ্গে ভামাল, করবনিয়া গ্ৰামবাসীদের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। গ্ৰামবাসীদের অভিযোগ বালি খাদানের লোকেরা ভয় দেখাতে শূন্যে গুলি ছোড়ে। তারপর টাঙ্গি দিয়ে তাদের ওপর আক্রমণ চালায়। গ্ৰামবাসীরা এরপরেই প্রাণভয়ে পালাতে শুরু করে। টাঙ্গির কোপে করবনিয়া গ্ৰামের সঞ্জয় ও মিঠুন রানা গুরুতর জখম হন। দু'জনকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। স্থানীয় থানার পুলিস পরিস্থিতি রুখতে ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। করবনিয়া গ্ৰামের বাসিন্দা ভরতচন্দ্র মন্ডল বলেন, বেশকিছুদিন ধরেই স্থানীয় বালি খাদানের নির্দিষ্ট এলাকার বাইরে বালি তোলা হচ্ছিল। স্থানীয় প্রশাসনকে লিখিতভাবে বিষয়টি জানানো হয়েছিল। স্থানীয় গ্ৰামবাসীরা বাঁশজোড়া এলাকার বালিখাদানের মালিককে এদিন বালি তোলা বন্ধ করার জন্য বলতে গিয়েছিল। সেইসময় বাইরে থেকে আনা দুস্কৃতীদের সঙ্গে খাদানের লোকজন গ্ৰামবাসীদের ওপর হামলা চালায়। আমাদের ভয় দেখাতে গুলি ছোড়া হয়েছিল। টাঙ্গির কোপে গ্ৰামের দু'জন বাসিন্দা জখম হয়েছেন। সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়া অনিরুদ্ধ মন্ডল বলেন, গ্ৰামবাসীদের ভয় দেখাতে ওদের লোকজন কয়েকদিন ধরে এলাকায় পিস্তল নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছিল। বালি চুরি ঠেকানোর প্রতিবাদ করাতেই এই পরিকল্পিত হামলা। অপর এক বাসিন্দা বলেন, এই এলাকা দীর্ঘদিন ধরে শান্ত ছিল। বেআইনিভাবে বালি তোলাকে কেন্দ্র করে এলাকায় অশান্তি বাড়ছে। গ্ৰামবাসীদের দাবি উপেক্ষা করা হচ্ছে। পুলিস ও প্রশাসন আগাম ব্যাবস্থা নিলে এই ঘটনা ঘটতো। বেআইনি বালি তোলা বন্ধ না হলে গ্ৰামবাসীদের তরফে আরও প্রতিরোধ হবে। স্থানীয় এক তৃণমূল নেতা বলেন , সুবর্ণরেখা নদীর বিভিন্ন স্থান থেকেই অল্প বিস্তর বালি তোলা হয়। তবে সেটা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য নয়। যেখানে বেশি পরিমাণে বেআইনিভাবে বালি তোলা হচ্ছে সেখানেই সমস্যা তৈরি হচ্ছে। স্থানীয় স্তরে প্রশাসনের এক অংশের জড়িয়ে থাকার অভিযোগও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।  গোপীবল্লভপুর -২ ব্লকের বিডিও নীলোৎপল চক্রবর্তী বলেন, বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন দপ্তরের সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে। বেআইনিমূলক কাজের প্রমাণ মিললে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। স্থানীয় থানার পুলিসের তরফে জানানো হয় ঘটনাস্থলে পুলিস গিয়েছিল। গুলি ছোড়ার খবর সম্পূর্ণ মিথ্যা।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ