নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় টাকা পেয়ে আগেই পাকাবাড়ি বানিয়েছেন স্বামী। তারপর ফের বাংলার বাড়ি প্রকল্পে প্রথম কিস্তির টাকা পেয়েছেন স্ত্রী। বিষয়টি জানাজানির পর মহিলার অ্যাকাউন্ট থেকে প্রশাসন টাকা ফেরতের প্রক্রিয়া শুরু করতেই স্বামীর সঙ্গে ‘ডিভোর্স’ হয়ে গিয়েছে বলে জানালেন ওই মহিলা। নন্দীগ্রাম-১ ব্লকের সোনাচূড়া পঞ্চায়েতের ভাঙাবেড়ায় ওই ঘটনায় এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়েছে। টাকা ফেরত আটকাতে যেভাবে ওই দম্পতি ডিভোর্সের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তা এককথায় নজিরবিহীন। যদিও মঙ্গলবারই ওই মহিলার কাছে ব্লক প্রশাসনের পক্ষ থেকে নোটিস পাঠানো হয়েছে। আগামী শুক্রবার তাঁকে বিডিও অফিসে ডেকে পাঠানো হয়েছে। সেখানেই চূড়ান্ত শুনানি হবে। তারপর টাকা ফেরতের ব্যাপারে পাকাপাকি সিদ্ধান্ত হবে।
Advertisement
জানা গিয়েছে, খেজুরি-২ ব্লকের মানসিংহবেড় গ্রামের শেখ সেরাজুল হোসেন ২০১৭-’১৮ আর্থিক বছরে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার টাকা পান। সেই টাকায় তিনি নিজের গ্রামে পাকাবাড়িও বানিয়েছেন। নন্দীগ্রাম-১ ব্লকের ভাঙাবেড়ার সেরাজুলের একটি জায়গা আছে। সেখানেও একটি কাঁচাবাড়ি আছে। সেরাজুলের স্ত্রী ৫৬ বছর বয়সি সাইমাবিবি মাঝেমধ্যে তালপাটি খালে মাছ ধরতে এসে ওই বাড়িতে কিছুক্ষণ সময় কাটিয়ে ফিরে যান। তালপাটি খালের দু’পাড়ে দু’টি গ্রাম। আবাস যোজনার সার্ভের ঠিক আগে সাইমাবিবি নন্দীগ্রাম-১ ব্লকে ভোটার তালিকায় নাম তোলেন। ভাঙাবেড়ায় পাকাবাড়ি তৈরির জন্য আবাস সার্ভেতেও তিনি নাম তুলেছিলেন।
শেখ সেরাজুলের নামে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা বরাদ্দ হওয়ার পর তিনি বাড়ি বানিয়েছেন। আবার স্ত্রীর নামেও আবাস যোজনায় টাকা বরাদ্দ হয়েছে। নন্দীগ্রাম-১ ব্লকের বাসিন্দা হিসেবে স্ত্রীর অ্যাকাউন্টে প্রথম কিস্তির ৬০ হাজার টাকা ঢুকেছে। স্বামীর পাকাবাড়ি থাকার পরও স্ত্রীর অ্যাকাউন্টে টাকা ঢোকার বিষয়টি নন্দীগ্রাম-১ ব্লক প্রশাসনের নজরে আসে। এরপর নন্দীগ্রাম-১ বিডিও খেজুরি-২ ব্লকের বিডিওকে চিঠি দিয়ে শেখ সেরাজুলের নামে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় টাকা বরাদ্দ হয়েছিল কিনা এবং সাইমাবিবি সেরাজুলের স্ত্রী কিনা তদন্ত করে রিপোর্ট দিতে বলেন। ২৪ ফেব্রুয়ারি খেজুরি-২ ব্লকের বিডিও এসংক্রান্ত রিপোর্ট নন্দীগ্রাম-১ বিডিওকে দিয়েছেন। তাতে বলা হয়েছে, সেরাজুল শেখ আগেই প্রধানমন্ত্রী আবাসের টাকা পেয়েছেন।
খেজুরি-২ ব্লক প্রশাসনের ওই রিপোর্ট আসার পরই নন্দীগ্রাম-১ ব্লক প্রশাসন সাইমাবিবির থেকে টাকা ফেরত নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করে। এই প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার খবর জেনে সাইমাবিবি দাবি করেন, তাঁর সঙ্গে স্বামীর ডিভোর্স হয়ে গিয়েছে। সুতরাং টাকা ফেরত দেওয়ার প্রশ্নই নেই। মঙ্গলবারই নন্দীগ্রাম-১ বিডিও অফিস থেকে সাইমাবিবির উদ্দেশে নোটিস সোনাচূড়া পঞ্চায়েত অফিসে পৌঁছয়। সেখান থেকে পঞ্চায়েতের কর্মীরা ভাঙাবেড়ায় সাইমাবিবির কাছে তার কপি পৌঁছে দিয়েছেন। পঞ্চায়েত কর্মীদেরও সাইমাবিবির জবাব, তাঁর সঙ্গে স্বামীর ডিভোর্স হয়েছে। তাই টাকা ফেরত দেবেন না।
সোনাচূড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান আশিস মণ্ডলের গ্রাম সংসদের মধ্যেই সাইমাবিবির ওই কাঁচাবাড়ি রয়েছে। আশিসবাবু বলেন, সেরাজুলের সঙ্গে সাইমাবিবির কোনও ডিভোর্স হয়নি। খালের দু’পাড়ে দু’টি গ্রামে সেরাজুলের বাড়ি রয়েছে। স্বামী-স্ত্রী দু’জনে আবাসের দু’বার সুবিধা নিয়ে দু’জায়গায় পাকাবাড়ি বানাতে চাইছেন। ভাঙাবেড়ায় ওরা পাকাবাড়ি তৈরির কাজ শুরু করে দিয়েছে। সেরাজুল শেখ নিয়মিত ওই কাজে তদারকি করছেন। নন্দীগ্রাম-১ বিডিও সৌমিন বণিক বলেন, মঙ্গলবার সাইমাবিবিকে নোটিস পাঠিয়ে শুক্রবার অফিসে ডাকা হয়েছে। একসঙ্গে স্বামী ও স্ত্রী আবাস যোজনায় টাকা পেতে পারেন না। সাইমাবিবির সঙ্গে তাঁর স্বামীর ডিভোর্স হয়েছে বলে তিনি জানাচ্ছেন। গোটা বিষয়টি আমরা যাচাই করব।
শেখ সেরাজুলের নামে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা বরাদ্দ হওয়ার পর তিনি বাড়ি বানিয়েছেন। আবার স্ত্রীর নামেও আবাস যোজনায় টাকা বরাদ্দ হয়েছে। নন্দীগ্রাম-১ ব্লকের বাসিন্দা হিসেবে স্ত্রীর অ্যাকাউন্টে প্রথম কিস্তির ৬০ হাজার টাকা ঢুকেছে। স্বামীর পাকাবাড়ি থাকার পরও স্ত্রীর অ্যাকাউন্টে টাকা ঢোকার বিষয়টি নন্দীগ্রাম-১ ব্লক প্রশাসনের নজরে আসে। এরপর নন্দীগ্রাম-১ বিডিও খেজুরি-২ ব্লকের বিডিওকে চিঠি দিয়ে শেখ সেরাজুলের নামে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় টাকা বরাদ্দ হয়েছিল কিনা এবং সাইমাবিবি সেরাজুলের স্ত্রী কিনা তদন্ত করে রিপোর্ট দিতে বলেন। ২৪ ফেব্রুয়ারি খেজুরি-২ ব্লকের বিডিও এসংক্রান্ত রিপোর্ট নন্দীগ্রাম-১ বিডিওকে দিয়েছেন। তাতে বলা হয়েছে, সেরাজুল শেখ আগেই প্রধানমন্ত্রী আবাসের টাকা পেয়েছেন।
খেজুরি-২ ব্লক প্রশাসনের ওই রিপোর্ট আসার পরই নন্দীগ্রাম-১ ব্লক প্রশাসন সাইমাবিবির থেকে টাকা ফেরত নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করে। এই প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার খবর জেনে সাইমাবিবি দাবি করেন, তাঁর সঙ্গে স্বামীর ডিভোর্স হয়ে গিয়েছে। সুতরাং টাকা ফেরত দেওয়ার প্রশ্নই নেই। মঙ্গলবারই নন্দীগ্রাম-১ বিডিও অফিস থেকে সাইমাবিবির উদ্দেশে নোটিস সোনাচূড়া পঞ্চায়েত অফিসে পৌঁছয়। সেখান থেকে পঞ্চায়েতের কর্মীরা ভাঙাবেড়ায় সাইমাবিবির কাছে তার কপি পৌঁছে দিয়েছেন। পঞ্চায়েত কর্মীদেরও সাইমাবিবির জবাব, তাঁর সঙ্গে স্বামীর ডিভোর্স হয়েছে। তাই টাকা ফেরত দেবেন না।
সোনাচূড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান আশিস মণ্ডলের গ্রাম সংসদের মধ্যেই সাইমাবিবির ওই কাঁচাবাড়ি রয়েছে। আশিসবাবু বলেন, সেরাজুলের সঙ্গে সাইমাবিবির কোনও ডিভোর্স হয়নি। খালের দু’পাড়ে দু’টি গ্রামে সেরাজুলের বাড়ি রয়েছে। স্বামী-স্ত্রী দু’জনে আবাসের দু’বার সুবিধা নিয়ে দু’জায়গায় পাকাবাড়ি বানাতে চাইছেন। ভাঙাবেড়ায় ওরা পাকাবাড়ি তৈরির কাজ শুরু করে দিয়েছে। সেরাজুল শেখ নিয়মিত ওই কাজে তদারকি করছেন। নন্দীগ্রাম-১ বিডিও সৌমিন বণিক বলেন, মঙ্গলবার সাইমাবিবিকে নোটিস পাঠিয়ে শুক্রবার অফিসে ডাকা হয়েছে। একসঙ্গে স্বামী ও স্ত্রী আবাস যোজনায় টাকা পেতে পারেন না। সাইমাবিবির সঙ্গে তাঁর স্বামীর ডিভোর্স হয়েছে বলে তিনি জানাচ্ছেন। গোটা বিষয়টি আমরা যাচাই করব।



