Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

স্বামীকে টানা জেরা, শ্বাসরোধ করে খুন? মহম্মদবাজারে বধূর রহস্যমৃত্যুতে চাঞ্চল্যকর তথ্য

স্বামীকে টানা জেরা, শ্বাসরোধ করে খুন? মহম্মদবাজারে বধূর রহস্যমৃত্যুতে চাঞ্চল্যকর তথ্য
  • ১০ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: মহম্মদবাজারে গৃহবধূর রহস্যমৃত্যুর ঘটনায় বৃহস্পতিবার পুলিস তাঁর স্বামীকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করল। ঘটনার রাত থেকেই মৃতার স্বামী সিউড়ি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল। এদিন সকালে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেতেই তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। খুনের রহস্যভেদ করতে পুলিস মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে। যদিও এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। এই ঘটনায় আর কেউ জড়িত কি না খতিয়ে দেখছে পুলিস। এদিন ফিঙ্গার প্রিন্ট বিশেষজ্ঞ টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। ঘটনাস্থল থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়। মৃতার বাবা জামাইয়ের ফাঁসির দাবিতে সুর চড়িয়েছেন। জেলা পুলিসের এক কর্তা জানান, ঘটনায় তদন্ত চলছে। 
Advertisement
গত বুধবার রাতে পুরাতন পঞ্চায়েতের শালুকা ক্যানেলপাড়ে রাস্তার পাশে সর্ষেখেতে বছর কুড়ির সুচিত্রা বাগদির দেহ উদ্ধার হয়। সেক্কেড্ডা পঞ্চায়েতের ঘোলারপাড়ায় তাঁর বাপেরবাড়ি। হিংলোয় তাঁর বিয়ে হয়েছিল। মৃতার স্বামী সন্দীপ দাস ছিনতাইবাজদের খপ্পরে পড়ার কথা বললেও তা মানতে চাননি মৃতার বাপেরবাড়ির লোকজন। তাঁদের দাবি, সন্দীপই ষড়যন্ত্র করে সুচিত্রাকে খুন করেছে। ঘটনায় তার সঙ্গে আরও কয়েকজনের যোগ রয়েছে বলেই তাঁরা আশঙ্কা প্রকাশ করেন। যদিও সন্দীপ ছিনতাইয়ের ঘটনার তত্ত্ব তুলে ধরে। সে জানিয়েছিল, ওই রাতে অপরিচিত কিছু লোক তাদের পথ আটকেছিল। হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেতেই তাকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিস। তার বক্তব্যে কোনও অসঙ্গতি রয়েছে কি না, কিংবা বয়ানে কতটা যুক্তি রয়েছে তা খতিয়ে দেখছে পুলিস। 
কেন এবং কীভাবে ওই গৃহবধূকে খুন করা হয়েছিল, তা এখনও তদন্তকারীদের কাছে স্পষ্ট নয়। যদিও মৃতার পরিবার শুরু থেকেই দাবি করছে, বিয়ের পর থেকে দু’জনের সম্পর্ক খুব একটা ভালো ছিল না। সেকারণে সুচিত্রাকে খুন করা হতে পারে। পুলিস সব দিক খতিয়ে দেখছে। পুলিসের অনুমান, তাঁকে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়েছে। যদিও পুলিসকর্তারা ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসার অপেক্ষায় রয়েছেন। সেইসঙ্গে সন্দীপকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে পুলিস রহস্য উন্মোচন করতে চাইছে। 
সুচিত্রার বাবা নিত্য বাগদি বলেন, জামাই আমার মেয়েকে ষড়যন্ত্র করে খুন করেছে। আমি ওর ফাঁসি চাই। সুচিত্রার মা সরস্বতী বাগদির দাবি, ওই রাতে জামাইকে ক্যানেলের রাস্তা ধরে না যেতে বলা হয়েছিল। বারণ করায় জামাই জানিয়েছিল, পুরাতন গ্রামের রাস্তা দিয়েই হিংলোয় যাবে। যদিও পরিকল্পনা করেই সে ক্যানেলের রাস্তা ধরেছিল। তারপরই সে মেয়েকে খুন করে। পরে ছিনতাইবাজদের খপ্পরে পড়ার নাটক করে।
ওই রাতে সন্দীপের হাত বাঁধা ছিল বলে সূত্রের খবর। কে তার হাত বাঁধল নাকি নিজেই বেঁধেছিল, তা খতিয়ে দেখছে পুলিস। ঘটনাস্থলে আর কেউ ছিল কি না সে ব্যাপারেও খোঁজ নিচ্ছে পুলিস।
সম্পর্কিত সংবাদ