সংবাদদাতা, কালনা: স্বামীকে খুনের দায়ে স্ত্রী ও তার প্রেমিককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিলেন বিচারক। বৃহস্পতিবার কালনা অতিরিক্ত জেলা দায়রা জজ আদালতের বিচারক শ্রীময়ী কুণ্ডু এই নির্দেশ দেন। এছাড়াও তাদের ৫০হাজার টাকা করে জরিমানাও করেন। অনাদায়ে আরও দুই বছরের সাজার নির্দেশ দিন বিচারক। সাজাপ্রাপ্তদের নাম ঝুম্পা দাস ও প্রবীর ঘোষ। এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাবেন বলে সাজা প্রাপ্তদের আইনজীবী জানিয়েছেন।
Advertisement
আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, কালনা থানার হাটকালনা পঞ্চায়েতের উত্তর গোয়াড়া গ্রামের বাসিন্দা রতন দাসের দশকর্মার ব্যবসা ছিল। এছাড়া তিনি টিউশনও পড়াতেন। ২০১৫ সালের অক্টোবর মাসে বাড়িতে পচাগলা ঝুলন্ত অবস্থায় তাঁকে দেখতে পান এলাকার বাসিন্দা। রতনবাবুর স্ত্রী ঝুম্পা দাস সেই সময় অভিযোগ করেছিলেন, তার স্বামী ব্যবসার জন্য কয়েকজনকে ৪০ লক্ষ টাকার মাল ধারে দিয়েছিলেন। টাকা যাতে শোধ করতে না হয় তারজন্য কেউ তার স্বামীকে খুন করেছে। কিন্তু মামলা চলাকালীন প্রথম থেকেই ঝুম্পা সরকারি আইনজীবী ও পুলিসের সঙ্গে অসহযোগিতা করতে থাকে। অভিযোগ পত্রে ঝুম্পা দাস লিখেছিল, সে ঘটনার আগে ১০ দিন স্বামীর বাড়িতে ছিল না। সে বাপের বাড়িতে ছিল। কিন্তু ঝুম্পার দাদা আদালতে সাক্ষ্য দিয়ে জানান, তাঁর বোন তাঁদের বাড়িতে ছিল না। এরপরই তদন্তের মোড় অন্যদিকে ঘুরতে শুরু করে। ঝুম্পার মোবাইল টাওয়ারের লোকেশনও তার দাদার দাবির সত্যতা প্রমাণ করে। এছাড়াও সাক্ষ্য প্রমাণে আরও উঠে আসে ঝুম্পা ও প্রেমিক প্রবীর ঘটনার দু’দিন আগেও রতনের বাড়িতেই ছিল। ঝুম্পা তার স্বামী রতনবাবুকে ডিভোর্স দেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছিল। মারধরও করা হয়। এরপর প্রেমিকের সঙ্গে ঘর বাঁধার আশায় ‘পথের কাঁটা’ স্বামীকে সরানোর সিদ্ধান্ত নেয় ঝুম্পা। প্রেমিককে সঙ্গে নিয়ে স্বামীকে শ্বাসরোধ করে খুন করে ঝুলিয়ে দেয়। আট বছরের বেশি সময় ধরে বিচার প্রক্রিয়া চলে। ১৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণের পর বিচারক বুধবার ঝুম্পা দাস ও প্রবীর ঘোষকে দোষী সাব্যস্ত করেন। সরকারি আইনজীবী বিকাশ রায় বলেন, ঝুম্পার অভিযোগ প্রথম থেকেই তদন্তকে বিপথে পরিচালিত করছিল। অভিযোগের পর থেকে সে পলাতক ছিল। বিচারক পরিস্থিতি ও সাক্ষীর ভিত্তিতে দু’জনকে দোষী সাব্যস্ত করেন। বৃহস্পতিবার বিচারক তাদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। জরিমানা অনাদায়ে আরও দুই বছরের সাজার নির্দেশ দেন। সাজাপ্রাপ্তদের আইনজীবী অরিন্দম বাজপেয়ি বলেন, আমরা এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাব।



