নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: স্বামী বিবেকানন্দের পৈত্রিক জন্মভিটে কালনার দত্ত দ্বারিয়াটন গ্রামে। সেখানেই তৈরি হচ্ছে আন্তর্জাতিকমানের লাইব্রেরি। বিবেকানন্দের উপর লেখা বিভিন্ন বই এখানে ঠাঁই পাবে। এছাড়া তৈরি করা হচ্ছে মিউজিয়াম। সেখানে তুলে ধরা হবে স্বামীজির জীবনের নানান কাহিনী। গ্রামে ভোকেশনাল প্রশিক্ষণ কেন্দ্র তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে। রামকৃষ্ণ মিশন এই কাজ দেখভাল করছে। এলাকার বাসিন্দারা বলেন, এই গ্রামে অনেক আগেই এধরনের কাজ করা দরকার ছিল। দেরিতে হলেও তা হচ্ছে এটা বড় বিষয়। অনেকেই এই গ্রামে ঘুরতে আসেন। তাঁরা এসেও আগামী দিনে নানা তথ্য জানতে পারবেন। এলাকার বাসিন্দা প্রণব রায় বলেন, হেরিটেজ তকমার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করেছিলাম। দু’বার চিঠি করেও কোনও উত্তর পাইনি। সাংসদ তহবিলের টাকায় গ্রামে পরিকাঠামো উন্নয়নে জোর দেওয়া হয়েছে। পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের সদস্য দেবু টুডু বলেন, স্বামীজি সারা দেশের গর্ব। তাঁর পূর্বপুরুষরা কালনার ওই গ্রামে ছিলেন। সেটা আমাদের কাছে অহংকারের। বিভিন্ন তথ্য ঘেঁটে দেখা যায় ১৮৯১ সালে দত্ত পরিবার গড়গোবিন্দপুরে চলে যান। ফোর্টউইলিয়াম তৈরির জন্য পরে তাঁদেরকে সিমলায় চলে যেতে হয়। বিবেকানন্দের এক ভাই এই গ্রামে এসেছিলেন। তাঁর বইয়ে গ্রামের কথা জানা যায়। গ্রামে স্বমীজির মূর্তি রয়েছে। প্রতি বছর তাঁর জন্মদিনে গ্রামে যাই। সেখানে লাইব্রেরি তৈরির কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। এই মহামানবের অনেক কাহিনী এখনও অজানা রয়েছে। লাইব্রেরিতে এসে তাঁকে নিয়ে লেখা বই পড়ে অনেক তথ্য জানা যাবে। ভোকেশনাল প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে অনেকেই কাজ শেখার সুযোগ পাবেন। কাজের যাতে গতি পায় তারজন্য তদারকি করা হবে। পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ শান্তনু কোনার বলেন, স্বামীজির পৈত্রিক জন্মভিটে আমাদের জেলায় রয়েছে বলে অনেকেরই জানা নেই। এই গ্রামের কথা আমরা আগামী দিনে প্রচার করব। সেখানে আর কী কী করা যায় তা নিয়ে ভাবনা চিন্তা করা হবে। প্রয়োজনে রামকৃষ্ণ মিশনের সঙ্গে আমরা যোগাযোগ করব। কালনা মহকুমায় অনেক মহামানবের পদধূলি পড়েছিল। সেসব তথ্যও আমরা সবার সামনে তুলে ধরব। বর্ধমানের বাসিন্দা রাজীব লোচন চট্টোপাধ্যায় বলেন, স্বামীজি আমাদের কাছে প্রেরণা। তিনি নতুন করে ভাবতে শিখিয়েছিলেন। তাঁর অবদান ভোলার নয়। আমরা চাই এই গ্রামে আরও বেশি উন্নয়নের ছোঁয়া লাগুক। দাতব্য চিকিৎসা কেন্দ্র তৈরি হোক। স্বামীজি সেবার কথা বলে গিয়েছেন। গ্রামে এসব কাজ হওয়া অত্যন্ত দরকার।



