নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: ‘স্যার, ভাতা পাচ্ছিলাম। কিন্তু হঠাৎ দেখি ব্যাংকে আর টাকা ঢুকছে না।’ মাঝেমধ্যেই এমন সমস্যা নিয়ে অনেক উপভোক্তাই আসেন। তাই আর পাঁচটা অভিযোগের মতই ওই মহিলার আর্জিও খতিয়ে দেখছিলেন শান্তিপুরের বিডিও সাহেব। পোর্টালে চোখ পড়তেই ভিমড়ি খাওয়ার জোগাড়। টেবিলের ওপারে যিনি বসে রয়েছেন তাঁর সিঁথিতে সিঁদুর, হাতে শাঁখা-পলা। দিব্যি এক সধবা মহিলা। তিনি নাকি এসেছেন ‘বিধবা ভাতা’ বন্ধ হয়ে যাওয়ার অভিযোগ জানাতে! সম্বিত ফিরতেই মহিলাকে ছেঁকে ধরেন বিডিও। জেরার ভেঙে পড়ে আসল সত্যটা ফাঁস করে দেন তিনি। জানিয়ে দেন, তিন হাজার টাকার বিনিময়ে সধবার বিধবা ভাতা পাইয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছেন স্থানীয় তৃণমূল নেতা। ইতিমধ্যেই গোটা বিষয়টি নিয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন বিডিও নিজেই।
Advertisement
নদীয়ার শান্তিপুর পুরসভার ২১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা শেফালী দে। বেশ কয়েক বছর আগে বিয়ে হয়েছে তাঁর। স্বামী বেঁচে। তিনি দিব্যি একটি সাইকেল সরানোর দোকান চালান। অথচ, প্রায় ২৭ মাস ধরে সেই বধূই বিধবা ভাতার উপভোক্তা! সম্প্রতি কোনও কারণে তাঁর অ্যাকাউন্টে টাকা ঢোকা বন্ধ হয়ে যায়। কেন বন্ধ হল, সেটা জানতে এদিন বিডিও অফিসে আসেন। তখনই সামনে আসে বিধবা ভাতার কেলেঙ্কারি। মহিলার দাবি, তিনি লেখাপড়া জানেন না। বেশ কয়েকবার লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের জন্য আবেদন করেছিলেন। টাকা পাচ্ছিলেন না। সেই সময় স্থানীয় এক তৃণমূল নেতা তাঁকে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পাইয়ে দেওয়ার নাম করে একটি ফর্ম ফিল-আপ করান। আর এই টাকা পাইয়ে দেওয়ার জন্য বধূর থেকে দু’দফায় মোট ৩ হাজার টাকা নেন বলেও অভিযোগ। মাসখানেক পর থেকে নিয়মিত তাঁর অ্যাকাউন্টে ঢুকতে শুরু করে এক হাজার টাকা করে। শেফালীদেবী বলেন, ‘আমি জানতাম আমার অ্যাকাউন্টে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা ঢুকছে। হঠাৎ সেই টাকা ঢোকা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল বলেই আমি অভিযোগ জানাতে এসেছিলাম। তখন বিডিও অফিস থেকে বলল, আমি নাকি বিধবা ভাতা পাচ্ছি। কিন্তু আমি তো বিধবা ভাতার জন্য আবেদন করতে চাইনি। উত্তম হালদার নামে ওই লোকটি আমাকে দিয়ে ফর্ম ফিল-আপ করিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন। আমি তো লেখাপড়া জানি না। তাই কিছু বুঝতে পারিনি। আমাকে এই টাকা পাইয়ে দেবেন বলে তিন হাজার টাকাও নিয়েছেন আমার থেকে।’
বিডিও সন্দীপ ঘোষ বলেন, ‘ওই মহিলা চাইলে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পেতে পারেন। তবে তার জন্য এতদিন যে বার্ধক্য ভাতার টাকা পেয়েছেন, তা ফেরত দিতে হবে। কিন্তু তাঁর যা আর্থিক অবস্থা, তাতে সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন। সে ক্ষেত্রে ছাড় পেতে গেলে অন্য কেউ তাঁর অজান্তে এই কাজ করিয়েছেন, সেটা প্রমাণ করতে হবে। আমি ওই মহিলাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানতে পেরেছি তাঁর কাছ থেকে কেউ ফর্ম ফিলআপ করিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন। তাই সমস্ত ঘটনাটি জানিয়ে আমি পুলিসকে চিঠি লিখেছি। সরকারের প্রকল্প এইভাবে ভুল পথে নিয়ে যাওয়ার পিছনে কারা যুক্ত তাঁদের চিহ্নিত করা দরকার। আশাকরি, পুলিস বিষয়টি খতিয়ে দেখবে।’ শান্তিপুরের বিধায়ক ব্রজকিশোর গোস্বামী বলেন, ‘এই ধরনের অনৈতিক কাজ দল বরদাস্ত করবে না’
বিডিও সন্দীপ ঘোষ বলেন, ‘ওই মহিলা চাইলে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পেতে পারেন। তবে তার জন্য এতদিন যে বার্ধক্য ভাতার টাকা পেয়েছেন, তা ফেরত দিতে হবে। কিন্তু তাঁর যা আর্থিক অবস্থা, তাতে সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন। সে ক্ষেত্রে ছাড় পেতে গেলে অন্য কেউ তাঁর অজান্তে এই কাজ করিয়েছেন, সেটা প্রমাণ করতে হবে। আমি ওই মহিলাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানতে পেরেছি তাঁর কাছ থেকে কেউ ফর্ম ফিলআপ করিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন। তাই সমস্ত ঘটনাটি জানিয়ে আমি পুলিসকে চিঠি লিখেছি। সরকারের প্রকল্প এইভাবে ভুল পথে নিয়ে যাওয়ার পিছনে কারা যুক্ত তাঁদের চিহ্নিত করা দরকার। আশাকরি, পুলিস বিষয়টি খতিয়ে দেখবে।’ শান্তিপুরের বিধায়ক ব্রজকিশোর গোস্বামী বলেন, ‘এই ধরনের অনৈতিক কাজ দল বরদাস্ত করবে না’



