Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সবুজসাথীর সাইকেল পেল না দেবশালা উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রীরা

সবুজসাথীর সাইকেল পেল না দেবশালা উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রীরা
  • ১৯ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, মানকর: চলতি শিক্ষাবর্ষ শেষের মুখে। আর কয়েকদিন পরেই টেস্ট পরীক্ষা। তারপর মাধ্যমিকে বসবে আউশগ্রামের দেবশালা উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির পড়ুয়ারা। বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ছাত্ররা সবুজসাথী প্রকল্পের সাইকেল পেলেও ৫৯জন ছাত্রী এখনও সাইকেল পায়নি। সংশ্লিষ্ট দপ্তরে একাধিকবার বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে আবেদনও করা হয়েছে। সাইকেল না পাওয়ায় পড়ুয়া থেকে অভিভাবক সকলেই হতাশ। আউশগ্রাম-২ এর বিডিও চিন্ময় দাস বলেন, সাইকেল এলেই বিদ্যালয়কে দিয়ে দেওয়া হবে। 
Advertisement
এলাকার মানুষকে শিক্ষিত করতে স্থানীয় শিক্ষানুরাগীরা ১৯৫৭ সালে এই বিদ্যালয় স্থাপন করেন। সেই সময় ফাঁকা গোয়ালঘরে শুরু হয়েছিল বিদ্যালয়। পরে বিদ্যালয় মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরে উন্নীত হয়। যাতে এলাকার পিছিয়ে পড়া শ্রেণির মধ্যে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের আগ্রহ বেড়েছে বলে দাবি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের। ২০১৮ সালে ব্লক ও জেলায় কন্যাশ্রী প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছিল ছাত্রীরা। বর্তমানে পড়ুয়ার সংখ্যা ৭০০জন। তারমধ্যে দশম শ্রেণিতে ১০৬জন। বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বর্তমান শিক্ষাবর্ষের প্রথমদিকে ৪৭টি সাইকেল দেওয়া হয়েছিল। সেগুলি সব ছাত্রদের দেওয়া হয়। কিন্তু দীর্ঘদিন হয়ে গেলেও বাকি ৫৯টি সাইকেল এখনও বিদ্যালয়ে আসেনি। ফলে ছাত্রীদের সাইকেল দেওয়া যাচ্ছে না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অভিভাবক বলেন, বিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের মধ্যে সংখ্যালঘু, তফসিলি জাতি ও উপজাতিভুক্ত পড়ুয়া রয়েছে। অনেক পড়ুয়াই প্রথম প্রজন্মের। কন্যাশ্রী, শিক্ষাশ্রী, সংখ্যালঘু বৃত্তির সঙ্গে সবুজসাথী সাইকেল পড়ুয়াদের অনেক সুবিধা করেছে। কিন্তু একটা শিক্ষাবর্ষ আর কয়েকদিন পরেই শেষ হয়ে যাবে। অথচ এখনও তারা হাতে সাইকেল পেল না। এর ফলে পড়ুয়ারা পড়াশোনার প্রতি উৎসাহ হারাবে। বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, অভিভাবকরা সাইকেলের বিষয়ে অনেকবার খোঁজ নিয়েছেন। 
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রাঙাখুলা, বিলাসপুর, লবণধার সহ একাধিক গ্রাম থেকে পড়ুয়ারা আসে। তারমধ্যে বেশকিছু রাস্তায় বাস চলে না। আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা পড়ুয়াদের নিত্যদিন টোটো করে বিদ্যালয়ে আসা সম্ভব নয়। যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম সাইকেল। শিক্ষাবর্ষের শুরুতেই সাইকেল পেলে ছাত্রীদের সুবিধা হতো। সরকারি প্রকল্পের সুবিধা ছাত্রীরা এখনও পেল না। বিষয়টি নিয়ে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা রানু সেনগুপ্ত বলেন, সাইকেলের জন্য বিভিন্ন দপ্তরে আবেদনপত্র জমা দিয়েছি। অভিভাবকরাও অনেকবার সাইকেলের বিষয়ে জানতে চেয়েছেন। তবে সম্প্রতি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ আশ্বাস দিয়েছে সমস্যা সমাধান করার।
সম্পর্কিত সংবাদ