Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সিভিকের বাড়িতে বিস্ফোরণ, মৃত এক, দেহ আটকে রেখে বিক্ষোভ

সিভিকের বাড়িতে বিস্ফোরণ, মৃত এক, দেহ আটকে রেখে বিক্ষোভ
  • ১১ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: রবিবার দুপুরে সাঁইথিয়ার ফুলুর পঞ্চায়েতের বিলসে গ্রামে সিভিক ভলান্টিয়ারের বাড়ির উঠানে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে এক যুবকের মৃত্যু হল। বিস্ফোরণের তীব্রতায় ওই যুবকের দেহ ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়। উত্তেজিত জনতা ওই সিভিক ভলান্টিয়ারের বাড়িতে চড়াও হয়। উত্তপ্ত হয় পরিস্থিতি। সন্ধ্যা পর্যন্ত দেহ তুলতে দেয়নি মৃতের বাড়ির লোকজন। দফায় দফায় বিক্ষোভ চলে। পুলিস জানিয়েছে, মৃতের নাম বিপদতারণ বাগদি(৩৪)। বিলসা গ্রামেই তাঁর বাড়ি। বেগতিক বুঝে সিভিক ভলান্টিয়ার দুর্গাপ্রসাদ ভট্টাচার্যকে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়। এভাবে গ্যাস ভরা বেআইনি বলে পুলিস জানিয়েছে। 
Advertisement
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই সিভিক ভলান্টিয়ার সাঁইথিয়া থানায় কর্তব্যরত। তিনি গ্যাসবেলুনের ব্যবসা করতেন। মাঝেমধ্যে বিপদতারণের মতো কয়েকজনকে বাড়িতে ডাকতেন। বেলুন বিক্রির উপর কমিশন দিয়ে ব্যবসা চালাতেন। এদিনও ১৪লিটারের বড় গ্যাস সিলিন্ডার থেকে পাঁচ লিটার গ্যাস সিলিন্ডারে ভরার জন্য বিপদতারণকে ফোন করে ডাকেন দুর্গা। সেইমতো বিপদতারণ ওই বাড়িতে যান। বাড়ির উঠানে বসেই গ্যাস ভরার কাজ শুরু করেন তিনি। এরপর দুপুরে বিকট শব্দে গোটা এলাকা কেঁপে যায়। আশপাশের লোকজন ছুটে এসে দেখেন আগুন জ্বলছে। সিভিকের বাড়ির জানালা, দরজার কাচ ভেঙে মাটিতে পড়ে রয়েছে। বিস্ফোরণে বিপদতারণের দেহ ছিন্নভিন্ন হয়ে ছড়িয়েছিটিয়ে পড়ে ছিল। একদিকে হাত, অন্যদিকে পা পড়ে ছিল। খবর পেয়েই বিপদতারণের পরিবারের লোকজন এসে হাজির হন। কান্নার রোল শুরু হয়। ক্ষোভের আঁচ পড়ে সিভিকের বাড়িতে। বাড়িতে চড়াও হয়ে ভাঙচুর শুরু করে উত্তেজিত জনতা। এলাকায় আসে পুলিস। খবর পেয়ে ওই ব্লক তৃণমূলের সভাপতি সাবের আলি খানও হাজির হন। তাঁর সামনেই বাড়ির লোকজন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যতক্ষণ না পর্যন্ত সিভিককে হাতের কাছে এনে দেওয়া হচ্ছে দেহ তুলতে দেওয়া হবে না। সন্ধ্যা পর্যন্ত টানাপোড়েন চলে। সন্ধ্যা ৭টা নাগাদ পুলিস দেহ উদ্ধার করে।
মৃতের স্ত্রী নমিতা বাগদি বলেন, আমার স্বামী রাজমিস্ত্রির কাজ করত। ওই সিভিকই ফোন করে গ্যাস ভরার জন্য লেকেছিল। সিভিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। আমার ছেলে বাবাকে হারাল। ওর জন্যই আমাদের সব চলে গেল। স্থানীয় আর এক বাসিন্দা বলেন, আমরা দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। 
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই সিভিক ভলান্টিয়ারের বিরুদ্ধে এর আগেও অভিযোগ উঠেছিল। দু’বছর আগে বোলপুর স্টেশনে ট্রেনে ছিনতাই করতে গিয়ে ধরা পড়া গ্যাংয়ের সঙ্গে তাঁর যোগসূত্র মিলেছিল। এবার বেআইনিভাবে বেলুনে গ্যাস ভরার অভিযোগ উঠল তাঁর বিরুদ্ধে। এই কাজ করার জন্য তাঁর কোনও সরকারি লাইসেন্স ছিল না বলেই জানা গিয়েছে। ওই সিভিক ভলান্টিয়ার কীভাবে বাড়িতে বসে এই ব্যবসা করছিলেন তা শুনে তাজ্জব পুলিসকর্তারাও। খবর পাওয়ামাত্রই ওই সিভিককে ক্লোজ করা হয়েছে। বিভাগীয় তদন্ত শুরু করেছে পুলিস। যদিও পুলিস সুপার রাজনারায়ণ মুখোপাধ্যায় এনিয়ে কিছু বলতে রাজি হননি। গ্রামবাসীদের দাবি, ওই সিভিকের কারণে এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। তাই এর দায় তাকেই নিতে হবে। তৃণমূলের ব্লক সভাপতি সাবের সাহেব বলেন, খবর পেয়ে গ্রামে গিয়েছিলাম। পুলিস আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিক।
সম্পর্কিত সংবাদ