সংবাদদাতা, পতিরাম: বালুরঘাট জেলা হাসপাতাল থেকে সিভিক ভলান্টিয়ারদের সরানোর পর নিরাপত্তা কিছুটা ঢিলেঢালা হওয়ার অভিযোগ করছেন রোগীর পরিজনরা। একাংশ চিকিত্সক, স্বাস্থ্যকর্মীও মৌখিকভাবে সুপারকে বিষয়টি জানিয়েছেন। হাসপাতাল সূত্রে খবর, ইমার্জেন্সি,রাস্তা,হাসপাতালের বাইরে, ফার্মেসি, বহির্বিভাগ সহ নানা জায়গায় সিভিক মোতায়েন থাকতেন। রাজ্য পুলিসের শীর্ষস্তরের নির্দেশে হাসপাতালের ডিউটি থেকে সিভিকদের সরানো হয়েছে। সিভিক সরে যাওয়ার পর থেকে তারা যেসব জায়গায় মোতায়েন থাকতেন এখন ওই জায়গাগুলিতে হুড়োহুড়ি লেগেই থাকে। হাসপাতালের ভিতরে টোটো, অটো সহ অন্য যানবাহন ঢুকে যাওয়ায় সমস্যায় পড়ছেন স্বাস্থ্যকর্মী থেকে শুরু করে রোগী, পরিজনরা। তাঁদের দাবি,কয়েকজন পুলিসকর্মীকে এখন গোটা হাসপাতালের নিরাপত্তা সামাল দিতে হচ্ছে। হাসপাতালে পুলিস ক্যাম্পে বর্তমানে দু’জন এসএসআই, চারজন কনস্টেবল এবং প্রায় ১০ জন হোমগার্ড ও এনভিএফ রয়েছেন। তাঁদের পক্ষে এতবড় হাসপাতালে পুরনো ভবন, বহির্বিভাগ, সুপার স্পেশালিটি সহ নানা বিভাগের নিরাপত্তা সামাল দিতে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। হাসপাতালের সুপার কৃষ্ণেন্দু বিকাশ বিকাশ বাগ বলেন, সিভিক ভলান্টিয়ারদের সরিয়ে নেওয়ার পর একটু সমস্যা হচ্ছে। নিরাপত্তা কম থাকার বিষয়ে অনেকেই মৌখিক অভিযোগ জানিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে সমস্যার কথা জানিয়েছি। হাসপাতাল সূত্রে খবর, ভিতরে অনেক জায়গায় এখনও অন্ধকার রয়েছে। পর্যাপ্ত আলো ও সিসি ক্যামেরা বসানো হয়নি। পুলিস ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের মধ্যে কয়েকবার বৈঠকের পরেও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়নি বলে অভিযোগ। কিছুদিন আগে নার্সিং স্কুলের পিছনে নেশাগ্রস্তদের আনাগোনা দেখা যেত। পুলিস টহল বাড়ানোর ফলে সেই পরিস্থিতি বদলেছে। এদিকে ইমার্জেন্সিতে সবমসময় সিভিক মোতায়েন থাকার ফলে বিক্ষোভ ও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সহজ হতো। এক রোগীর পরিজন মানব চৌধুরীর কথায়,সিভিকরা যখন ছিলেন, আউটডোরের লাইনে বিশৃঙ্খলা হতো না। এখন অন্যান্য বিভাগেও সেই সমস্যা বেড়েছে। পুলিস জানিয়েছে, হাসপাতালে পুলিস পেট্রলিং বাড়ানো হয়েছে।
Advertisement
মহিলা বাহিনী দিনে ও রাতে টহল দিচ্ছে। পুলিস সুপার চিন্ময় মিত্তাল বলেন,রাজ্যের নির্দেশে হাসপাতাল থেকে সিভিকদের সরানো হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী সেখানে পুলিস মোতায়েন করা হয়েছে। নিরাপত্তার বিষয়টির দিকে নজর রাখা হচ্ছে।



