Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সভায় সদস্যদের উপস্থিতি নিয়ে কড়া গোঘাটের পঞ্চায়েত প্রধান, গ্রামোন্নয়নের কাজকর্মে অচলবস্থা

সভায় সদস্যদের উপস্থিতি নিয়ে কড়া গোঘাটের পঞ্চায়েত প্রধান, গ্রামোন্নয়নের কাজকর্মে অচলবস্থা
  • ২৬ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, আরামবাগ: সাধারণ সভায় পঞ্চায়েতের সদস্যদের অধিকাংশই হাজির হচ্ছে না। সেই তালিকায় বিরোধীদের পাশাপাশি শাসকদলের সদস্যদের একাংশ রয়েছে। তার জেরে তৃণমূল পরিচালিত গোঘাটের কুমারগঞ্জ পঞ্চায়েতে কার্যত অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। তা দূর করতে আজ, বৃহস্পতিবার ফের সাধারণ সভার আয়োজন করা হয়েছে। সেই বৈঠকে সদস্যদের যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে গ্রামে গ্রামে মাইকিং করালেন পঞ্চায়েতের প্রধান। কুমারগঞ্জের বিভিন্ন সংসদে টোটোয় করে মাইকিং হয়। বাসিন্দাদের উদ্দেশে বলা হয়, সাধারণ সভায় আপনার এলাকার সদস্য যদি উপস্থিত না থাকেন, তাহলে ওইদিনের পর থেকে আপনাদের সংসদ এলাকার বাসিন্দারা প্রয়োজনীয় শংসাপত্র সহ সরকারি পরিষেবা পাওয়া থেকে বঞ্চিত থাকবেন। এজন্য আপনার সংসদেরই মেম্বার দায়ী থাকবেন, প্রধান দায়ী থাকবেন না। মাইকিংয়ের ওই ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই ব্যাপক শোরগোল পড়েছে।
Advertisement
কুমারগঞ্জ পঞ্চায়েতে ১৪টি আসন। সেখানে তৃণমূলের সদস্য সংখ্যা ছয়, বিজেপির চার ও সিপিএম এবং নির্দলের দু’জন করে সদস্য রয়েছেন। পঞ্চায়েতের এক আধিকারিক বলেন, কয়েকদিন আগে পঞ্চায়েতে একটি সাধারণ সভা ডাকা হয়। কোরাম করতে এক তৃতীয়াংশ অর্থাৎ ছ’জনের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক। কিন্তু, তা না হওয়ায় বৈঠক স্থগিত হয়। ফের সরকারি নিয়মে আজ, বৃহস্পতিবার বৈঠক ডাকা হয়েছে। তার চিঠি গিয়েছে সব সদস্যের কাছেই।
পঞ্চায়েত সূত্রে জানা গিয়েছে, বৈঠকে বিরোধীদের পাশাপাশি তৃণমূলের টিকিটে জয়ী উপপ্রধান সহ অন্যান্য সদস্যরাও হাজির হননি। তার জেরে ভেস্তে যায় সাধারণ সভা। এতে শাসকদলের গোষ্ঠী কোন্দলের বিষয়টিও সামনে এসেছে। 
পঞ্চায়েত প্রধান আলপনা রায় বলেন, সদস্যরা বৈঠকে না আসায় উন্নয়নমূলক কাজ করতে পারছি না। কাজ করতে গিয়ে বাধা পাচ্ছি। স্থানীয় বাসিন্দারা কাজকর্ম নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। তার জন্যই মাইকিং করে সাধারণ সভার বিষয়টি বাসিন্দাদেরও জানিয়ে দিয়েছি। 
পাল্টা ওই পঞ্চায়েতের উপপ্রধান বিশ্বজিৎ রায় সংবাদ মাধ্যমে জানান, প্রধান সদস্যদের কথা গুরুত্ব দেন না। উন্নয়ন প্রসঙ্গে অঞ্চল সভাপতি সম্মতি না দিলে তিনি কিছু করবেন না বলে জানান। তিনি বলেন, পঞ্চায়েতে বাসিন্দাদের জন্য ত্রিপল, ধান বীজ এলে আমাদের জানানো হয় না। প্রধান নিজের মতো করে বিলি করেন। বাংলার বাড়ি প্রকল্পের কোনও তালিকাও আমাদের দেওয়া হয়নি। আমরা আগে পঞ্চায়েত যেতাম। কিন্তু, এখন আর যাই না। এব্যাপারে প্রশাসনকে জানালেও কোনও লাভ হয়নি।
বিজেপি সদস্য শিবনাথ মালিক বলেন, আমাদের পঞ্চায়েত তৃণমূলের পরিচালনায় চলে। আগে সব বৈঠকে যেতাম। কিন্তু, বিজেপি সদস্য হওয়ায় আমাদের এলাকায় কোনও কাজ দেওয়া হয়নি। তাই আর বৈঠক যাইনি। আজও যাব না। প্রধান অবশ্য তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, সদস্যদের মত নিয়েই কাজ করি। কুমারগঞ্জ অঞ্চল তৃণমূলের সভাপতি সদরুদোজা ওরফে রাহুল বলেন, কিছু সদস্য বৈঠকে না আসার ফলে কাজ থমকে যাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দাদের বিষয়টি জানানোর জন্য মাইকিং করা হয়েছে। আমার বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ তোলা হচ্ছে। পঞ্চায়েতের কাজকর্মে আমার কোনও হস্তক্ষেপ নেই। বৈঠকে সদস্যরাই সিদ্ধান্ত নেন। গোঘাট-২ ব্লক তৃণমূলের সভাপতি সৌমেন দিগার বলেন, দলীয়ভাবে কোনও অভিযোগ পাইনি। তবে উন্নয়নের প্রসঙ্গে সবার বৈঠকে যাওয়া উচিত।
সম্পর্কিত সংবাদ