নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: দু’বার পরীক্ষায় না বসলেও সার্টিফিকেট মিলবে দ্বিতীয় পরীক্ষার পরই। যেসব ছাত্রছাত্রী একবারই পরীক্ষা দেবে, তাদের ফলাফল দেওয়া হবে ‘ডিজি লকারে’র মাধ্যমে। যারা একবার পরীক্ষা দেবে, তাদের একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য ওই ‘ডিজি লকারে’র তথ্যাবলিই একমাত্র প্রমাণপত্র! কারণ তা দেখিয়েই ভর্তি হতে হবে একাদশ শ্রেণিতে। ক্লাস টেনের মার্কশিট এবং ‘পাসিং সার্টিফিকেট’ মিলবে একবারে দ্বিতীয় পরীক্ষার পরেই। দু’বার পরীক্ষা দিলেও, অথবা না দিলেও। কিন্তু মার্কশিট এবং ‘পাসিং সার্টিফিকেট’ না থাকলে কি একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য চরম হয়রানির শিকার হতে হবে? আপাতত এমনই আশঙ্কায় রয়েছেন অভিভাবকদের একাংশ।
Advertisement
২০২৬ সাল থেকে সিবিএসই দশমে বছরে দু’বার বোর্ড পরীক্ষার পরিকল্পনা নিয়েছে। ইতিমধ্যেই এই সংক্রান্ত খসড়া প্রস্তাব তৈরি করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার ওই খসড়া প্রস্তাব গৃহীতও হয়েছে শিক্ষামন্ত্রকে। কিন্তু ২০২৬ থেকে সিবিএসই দশমের প্রস্তাবিত দু’বার বোর্ড পরীক্ষা নিয়ে বিভ্রান্তি বেড়েছে। শিক্ষা বিশেষজ্ঞ মহলের একাংশ মনে করছে, এর ফলে সামগ্রিক পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠতে পারে। শিক্ষামন্ত্রক অবশ্য জানিয়েছে, এটি এখনও পরিকল্পনাস্তরে রয়েছে। আগামী ৯ মার্চ পর্যন্ত এই খসড়া প্রস্তাবের উপর মতামত জানাতে পারবেন অভিভাবক, ছাত্রছাত্রী, শিক্ষাবিদ সহ আমজনতা। তা খতিয়ে দেখার পরেই এই ব্যাপারে প্রয়োজনীয় সংশোধনী এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। একইসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রক সূত্রে জানানো হয়েছে, গোটা বিষয়টি নিয়ে আলাদাভাবে সবক’টি রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী এবং শিক্ষাসচিবদের সঙ্গে বৈঠকও করা হবে। যাবতীয় ধোঁয়াশা কাটানোর পরেই বিষয়টি কার্যকর হবে। ছাত্রছাত্রী এবং অভিভাবকদের আশঙ্কার কোনও কারণ নেই। অভিভাবকদের একাংশ প্রশ্ন তুলছেন, যারা দ্বিতীয়বার পরীক্ষায় বসবে না, তাদেরও কেন মার্কশিট এবং সার্টিফিকেট পেতে দু’থেকে তিন মাস বেশি অপেক্ষা করতে হবে? সংশ্লিষ্ট খসড়া প্রস্তাবে সিবিএসই জানিয়েছে, ২০২৬ সালে ক্লাস টেনের প্রথম বোর্ড পরীক্ষা হবে ফেব্রুয়ারি মাসেই। দ্বিতীয় বোর্ড পরীক্ষা হবে মে মাসে। মে মাসে পরীক্ষা হওয়ার পরেই মার্কশিট এবং ‘পাসিং সার্টিফিকেট’ দেওয়া হবে। এক্ষেত্রে দু’টো পরীক্ষার নম্বর, প্র্যাকটিক্যাল/ইন্টারনাল অ্যাসেসমেন্টের নম্বরের উল্লেখ তো থাকবেই। পাশাপাশি যারা দু’টো পরীক্ষাই দেবে, তাদের বিষয়ভিত্তিক নম্বরের তুল্যমূল্য উল্লেখও থাকবে। তবে প্র্যাকটিক্যাল পরীক্ষা কিংবা ইন্টারনাল অ্যাসেসমেন্ট হবে বছরে একবারই। সিবিএসই জানিয়েছে, প্রথম পরীক্ষা সন্তোষজনক না হলে সংশ্লিষ্ট ছাত্রছাত্রীদের আবারও মানোন্নয়নের সুযোগ দিতেই শর্তসাপেক্ষে এহেন পদক্ষেপ করা হয়েছে। এলওসি অর্থাৎ, ‘লিস্ট অব ক্যান্ডিডেটস’ চূড়ান্ত করতে হবে দশমের প্রথম বোর্ড পরীক্ষার আগেই। দ্বিতীয় বোর্ড পরীক্ষায় এলওসিতে কোনও নতুন নামের সংযোজন হবে না। যে বছর ফেব্রুয়ারিতে প্রথম পরীক্ষা, তার আগের বছর সেপ্টেম্বরের মধ্যেই এলওসি চূড়ান্ত করে ফেলতে হবে।



