Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬

স্বাধীনতার পর প্রথম ভোট দিল ছত্তিশগড়ের গ্রাম

স্বাধীনতার পর প্রথম ভোট দিল ছত্তিশগড়ের গ্রাম
  • ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
সুকমা (ছত্তিশগড়): ভোট কাকে বলে, জনপ্রতিনিধি আসলে কী, ‘উন্নয়ন’ খায় না মাথায় দেয়— এসব জানতেনই না ছত্তিশগড়ের সুকমা জেলার কেরলাপেন্দার বাসিন্দারা। কারণ, এতদিন মাওবাদীদের  ‘লাল চোখ’ এড়িয়ে গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় উৎসবে শামিল হতে পারেনি গ্রামবাসীরা। অবশেষে সেই ধারায় ছেদ পড়ল। স্বাধীনতার ৭৫ বছর পর শিঁকে ছিড়ল সেই কেরলাপেন্দার ভাগ্যে। গত রবিবার ছত্তিশগড়ের পঞ্চায়েত ভোটের তৃতীয় দফার ভোটগ্রহণ হয়। এই পর্বে প্রথমবার ভোট দিতে পেরেছেন গ্রামবাসীরা। দেরিতে হলেও দেশের নাগরিক হিসেবে ভোটদানের মৌলিক অধিকার প্রয়োগ করতে পেরে তাঁরা তৃপ্ত বলে জানিয়েছেন কেরলাপেন্দার বাসিন্দারা। 
Advertisement
ইভিএমের বোতাম টিপে বেরিয়ে কাওরে শঙ্কর যেমন স্পষ্ট ভাষায় বললেন, ‘গ্রামে ভোটের আয়োজন করতে ৭৫ বছর লাগল ঠিকই। তবে এবার এই এলাকার মানুষও যে উন্নয়নের মুখ দেখতে পাবে, সেটাই আনন্দের। এই প্রথম আমরা নেতাদের সামনে কর্মসংস্থান, রাস্তা, বিদ্যুৎ, পেনশনের মতো আমাদের দাবিদাওয়া তুলে ধরতে পারব।’
জাতীয় উদ্যানের অধীনস্থ সুকমার এই অঞ্চলে কেরলাপেন্দা সহ পাঁচটি গ্রাম। ঘন জঙ্গল-বেষ্টিত এই এলাকাকে বরাবরই শক্ত ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করত মাওবাদীরা। সম্প্রতি এই অঞ্চলে অভিযান চালিয়ে ৩১ মাওবাদীকে নিকেষ করেছিল নিরাপত্তা বাহিনী। এবার সেই রক্তাক্ত অতীত ভুলেই প্রত্যেকটি গ্রাম থেকেই ভোটারদের বুথমুখী হতে দেখা গিয়েছে বলে জানিয়েছে ভোটকর্মীরা। পোলিং সেক্টর অফিসার ইয়ালাম শঙ্করের কথায়, ‘বুলেটের পরিবর্তে ব্যালট বেছে নেওয়ার স্বতঃস্ফূর্ত তাগিদ দেখা গিয়েছে মানুষের মধ্যে। বয়স্করাও প্রায় ৭০ কিলোমিটার দুর্গম রাস্তা, জঙ্গলের পথ, নদীখাত পেরিয়ে ভোপালপত্তনমের ভোটকেন্দ্রে হাজির হয়েছিলেন। নির্বাচন কমিশনের অপেক্ষায় না থেকে নিজেরাই ব্যবস্থা করে বুথে পৌঁছেছিলেন। মানুষ এখন গণতন্ত্রের গুরুত্বটা যে বুঝতে পারছে, ভোটদানের হার বৃদ্ধির পরিসংখ্যানই তার প্রমাণ।’
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ