Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

স্বচ্ছতার সঙ্গে জাতিগত শংসাপত্র দিতে ২৪ জন ইনসপেক্টর নিয়োগ

স্বচ্ছতার সঙ্গে জাতিগত শংসাপত্র দিতে ২৪ জন ইনসপেক্টর নিয়োগ
  • ২৯ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: জাতিগত শংসাপত্র দেওয়ার কাজে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে পূর্ব মেদিনীপুরে অনগ্রসর শ্রেণিকল্যাণ দপ্তরে ২৪জন অ্যাডিশনাল ইন্সপেক্টর নিয়োগ হচ্ছে। অবসরপ্রাপ্ত বিসিডব্লু ইন্সপেক্টর, এক্সটেনশন অফিসার, হেড ক্লার্ক এবং আপার ডিভিশন ক্লার্কদের মধ্য থেকে ওই নিয়োগ হবে। তাঁদের বিভিন্ন ব্লক, পুরসভা এবং মহকুমা শাসক অফিসে নিযুক্ত করা হবে। নিয়োগপ্রাপ্তদের প্রতি মাসে ১২হাজার সাম্মানিক দেওয়া হবে। আগামী ১৫জানুয়ারি জেলাশাসক অফিসে আবেদনকারীদের ইন্টারভিউ নেওয়া হবে।
Advertisement
জাতিগত শংসাপত্রের জন্য প্রতিনিয়ত মহকুমা শাসক অফিসে আবেদন জমা পড়ে। সেইসব আবেদন ভেরিফাই করে সার্টিফিকেট ইস্যু করা হয়। ২০২৩সালে ২০জুলাই তমলুক মহকুমা শাসক এক বিজ্ঞপ্তি জারি করে একসঙ্গে ১০৮জনের জাতিগত শংসাপত্র বাতিল করেন। তাঁরা সকলেই ভুয়ো নথি জমা করে জাতিগত শংসাপত্রের জন্য আবেদন করেছিলেন। ২০২১ ও ২০২২সালে অধিকাংশ ভুয়ো সার্টিফিকেট ইস্যু করেছিল প্রশাসন। শুধু তাই নয়, কেউ কেউ দু’টি করে ভুয়ো সার্টিফিকেট বানিয়েছিল। যেমন, তমলুকের খামারচক হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক অশোককুমার হাটুয়া ‘জেনারেল’ হওয়া সত্ত্বেও ২০১৮সালে এসসি সার্টিফিকেট এবং ২০২১সালে এসটি সার্টিফিকেট বানিয়ে ফেলেন। তাঁর ছেলে এবং মেয়ের নামেও ভুয়ো সার্টিফিকেট তৈরি হয়। মহকুমা শাসক ওই প্রধান শিক্ষক, তাঁর ছেলে এবং মেয়ের নামে এফআইআর করেন। 
২০২১সালে সৈকত প্রধান প্রথমে ওবিসি এবং তারপরে এসসি সার্টিফিকেট বানিয়ে ফেলেন। জেনারেল হওয়া সত্ত্বেও চাকরির কোটার সুবিধার জন্য তিনি জাল নথি দিয়ে এভাবে শংসাপত্র বানিয়ে ফেলেছিলেন। একই পথে হেঁটে জাল জাতিগত শংসাপত্র বানিয়েছিলেন একশোর বেশি বাসিন্দা। জাতিগত শংসাপত্র রিনিউ করার সময় প্রশাসনের সন্দেহ হয়। অভ্যন্তরীণ তদন্তে ভুয়ো জাতিগত শংসাপত্র তৈরির চক্রের খোঁজ মেলে। তমলুক ব্লকের বিসিডব্লু বিভাগের অ্যাডিশনাল ইন্সপেক্টরকে বরখাস্ত করা হয়। সেইসঙ্গে মহকুমা শাসক তাঁদের প্রত্যেকের জাতিগত শংসাপত্র বাতিল করে দেন।
এখনও জাতিগত শংসাপত্রের জন্য অনেক আবেদন বাতিল হচ্ছে। সাইবার কাফেতে নথি জালিয়াতি করে আবেদন করার ঘটনাও ঘটছে। এই কাজে নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন। মূলত অনগ্রসর শ্রেণিকল্যাণ দপ্তরের ইন্সপেক্টর এবং অ্যাডিশনাল ইন্সপেক্টররা এই কাজ করেন। ওইসব পদে শূন্যপদ পূরণ না হলে কাজে ব্যাঘাত ঘটে। স্বচ্ছতা বজায় রাখাও চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। তাই একসঙ্গে ২৪টি পদ পূরণ করতে অবসরপ্রাপ্তদের মধ্য থেকে অ্যাডিশনাল ইন্সপেক্টর নিয়োগ করবে অনগ্রসর শ্রেণিকল্যাণ দপ্তর। ৬০থেকে ৬৪বছর বয়সি অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের মধ্য থেকে নিয়োগ হবে।
জেলাশাসক পূর্ণেন্দু মাজী বলেন, ব্লক, পুরসভা এবং মহকুমা এলাকায় ২৪জন অ্যাডিশনাল বিসিডব্লু ইন্সপেক্টর নিয়োগ হবে। আগামী ১০জানুয়ারির মধ্যে আবেদন নেওয়া হবে। ১৫জানুয়ারি ইন্টারভিউ হবে।
সম্পর্কিত সংবাদ