সংবাদদাতা, ঝাড়গ্রাম: স্বচ্ছভাবে কর্মী নিয়োগ সহ বিভিন্ন দাবিতে অনশন শুরু হল। বিনপুর-২ ব্লকের বেলপাহাড়ী গ্রামপঞ্চায়েতের বড়সুখজোড়া পানীয় জল সরবরাহ প্রকল্পের কর্মী ও জমিদাতা চাষিরা বুধবার থেকে অনশনে বসেছেন। বামুনডিহা গ্রামের পিএইচই চত্বরে তাঁরা অনশন শুরু করেছেন। তাঁদের অভিযোগ, যাঁরা জমি দান করেছে, তাঁদের কাজে নিয়োগ না করে বহিরাগত লোকজনকে নিয়োগ করা হয়েছে। কন্ট্রাকচুয়াল হিসেবে এখানে ২৭ জন কর্মী কাজ করলেও ২১জন কর্মীর ‘হেডে’ ২৭ জনের বেতন দেয় পিএইচই দপ্তর। বিনপুর-২ বিডিও সুমন ঘোষ বলেন, ইতিমধ্যেই পিএইচইর সঙ্গে কথা হয়েছে। পিএইচইকে আমরা বিষয়টি জানিয়েছি। সমস্যাটা কী আছে দেখে নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে মিটিয়ে নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। জানা গিয়েছে, বামুনডিহা এলাকায় প্রায় ২৭ একর জায়গার উপর গড়ে উঠেছে বড়সুখজোড়া পানীয় জল সরবরাহ প্রকল্প। রাজ্যে পালা দলের পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভার্চুয়াল মাধ্যমে প্রকল্পটির উদ্বোধন করেন। বেলপাহাড়ী, ভেলাইডিহা, শিলদা ও কাঁকো এই চারটি গ্রামপঞ্চায়েত এলাকার ৩৬টি মৌজার বাসিন্দারা এই প্রকল্প থেকে পানীয় জলের সুবিধা পান। বামুনডিহা গ্রামের ২২জন চাষির কাছ থেকে এই প্রকল্পের জন্য জমি নেওয়া হয়। অস্থায়ী হিসেবে এখানে ২৭জন কাজ করেন। পিএইচই ২১ জনের বেতন ২৭ জনের মধ্যে ভাগ করে দেয়। বামুনডিহা এলাকায় প্রকল্পটি তৈরি হলেও নাম রাখা হয়েছে বড়সুখজোড়া। এই নামের বদল চান বাসিন্দারা। কর্মী নিয়োগে দুর্নীতি, কাজের ডিউটিতে নানা রকম কারচুপি ও অনিয়ম নিয়ে বামুনডিহা বড়সুখজোড়া পানীয় জল সরবরাহ প্রকল্পের কর্মী ও জমিদাতা চাষিরা গত ১১ নভেম্বর স্থানীয় বিডিওর কাছে লিখিত অভিযোগ জানান।কর্মী ও জমিদাতা চাষিদের পক্ষে সুভাষ মাহাত বলেন, এখানে যারা চাকরি করছে তারা সবাই বঞ্চিত হচ্ছে। কেউ তিন মাস, কেউ ন’মাস কাজ পাচ্ছে। অথচ বহিরাগতরা এখানে সারা বছর কাজ করছে। জমির ক্ষতিপূরণ পাওয়া যায়নি। এর সুবিচারের জন্য আমরা অনশনে বসেছি। বিনপুর-২ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি বিকাশ সিং সর্দার বলেন, আমি বিস্তারিত খোঁজ নিয়ে দেখছি।



