Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

স্বাভাবিক ছন্দে বেলডাঙা, উত্তেজনার আশঙ্কায় রাজনীতিকদের ঢুকতে বাধা

স্বাভাবিক ছন্দে বেলডাঙা, উত্তেজনার আশঙ্কায় রাজনীতিকদের ঢুকতে বাধা
  • ২১ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: বুধবার সকাল থেকে সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ছন্দে বেলডাঙা। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ধীরে ধীরে এলাকার দোকানপাট খোলে। সাধারণ মানুষকে রাস্তাঘাটে বের হতে দেখা যাচ্ছে। বাজারেও ছিল স্বাভাবিক ভিড়। তবে এলাকায় এখনও বিশাল পুলিস মোতায়েন রয়েছে। প্রায় প্রতিটি পাড়ার সামনেই পুলিস পিকেট। কোনও ঝুঁকি নিতে চাইছে না জেলা প্রশাসন। ফের আরও দু’দিন ইন্টারনেট বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধের নির্দেশিকা জারি হয়েছিল। তবে তা বাড়িয়ে শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বেলডাঙা ও রেজিনগর থানা এলাকায় ১৬৩ ধারাও জারি রাখা হচ্ছে। জেলাশাসক রাজর্ষি মিত্র বলেন, রাজ্যের নির্দেশে ইন্টারনেট বন্ধ রাখার সময়সীমা বাড়ানো হল। 
Advertisement
উল্লেখ্য, গত শনিবার সন্ধ্যা থেকে দফায় দফায় উত্তপ্ত হয় বেলডাঙা থানার বিভিন্ন এলাকা। রবিবার কড়া পুলিসি পাহারায় কার্তিক লড়াই সম্পন্ন হলেও সোমবার দুপুরের পর ফের পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। সোমবার সন্ধ্যার পর থেকে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিস। তবে কোনও রাজনৈতিক দলের নেতাদের বেলডাঙায় ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। মঙ্গলবার প্রাক্তন সংসদ তথা কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী বেলডাঙায় কংগ্রেস কার্যালয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। বড়ুয়া মোড়ে তাঁর গাড়ির কনভয় আটকে দেয় পুলিস। এদিন কলকাতা থেকে বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার সদল বলে বেলডাঙা ঢোকার চেষ্টা করেন। মুর্শিদাবাদ ঢোকার আগেই তাঁকে কৃষ্ণনগরে আটকে দেয় পুলিস। 
জেলা পুলিসের এক শীর্ষ আধিকারিক বলেন, বেলডাঙা ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় ১৬৩ ধারা লাগু করা আছে। বেলডাঙা থানা এলাকা শান্ত হলেও যাতে নতুন করে কোনও সমস্যা না ছড়ায় সেই জন্য কোনও রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বকে এলাকায় ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। 
পুনরায় ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় বিয়ের মরশুমে ব্যবসার ব্যাপক ক্ষতি হবে বলে জানাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। অধিকাংশ ব্যবসায়ী অনলাইনে লেনদেন করেন। ইন্টারনেট না থাকায় ব্যবসা কার্যত বন্ধ বলেই দাবি ব্যবসায়ীদের। নতুন বাজারের ব্যবসায়ী অভিজিৎ চক্রবর্তী বলেন, আমরা জেলা প্রশাসনের কাছে বিয়ের মরশুমে ব্যবসায়ীদের কথা ভেবে অবিলম্বে ইন্টারনেট চালু করার আবেদন জানিয়েছি। যে জায়গায় সমস্যা আছে ওই জায়গা বাদ দিয়ে জেলার অন্যত্র ইন্টারনেট পরিষেবা চালু করলে আমাদের খুব সুবিধা হবে। 
এদিকে জেলাজুড়ে নেট বন্ধ থাকায় নেটওয়ার্কের সন্ধানে ইতি উতি ঘুরে বেড়াচ্ছেন যুবকরা। মঙ্গলবার রেজিনগর স্টেশনে ভরপুর নেট পেয়েছে অনেকেই। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত লম্বা লাইন লেগে ছিল স্টেশনে। স্টেশন থেকে যুবকদের সরাতে লাঠি উঁচিয়ে তাড়া করে রেল পুলিস। রাতের দিকে স্টেশনে পুলিস পাহারা দিতে থাকে। রেজিনগরের বাসিন্দা ইমতিয়াজ হোসেন বলেন, ইন্টারনেট না থাকায় খুব সমস্যা হচ্ছে। সোমবার নদীয়ার পলাশীতে গিয়ে ইন্টারনেট কানেক্ট করেছি। মঙ্গলবার রেজিনগর স্টেশনে ইন্টারনেট পেয়েছিলাম। কিন্তু, পুলিস তাড়া করায় এদিন আর ওদিকে যাইনি।
সম্পর্কিত সংবাদ