Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

পুরুলিয়ার বাড়িতে আটকে থাকা সাবিত্রী ফিরলেন নিজের কর্মস্থলে

ছোটবেলা থেকেই নিজের পায়ে দাঁড়ানোর ইচ্ছা পুরুলিয়ার বাঘমুন্ডির বাসিন্দা মূক ও বধির সাবিত্রী কুমারের। সেই মতো বর্তমানে কলকাতার একটি নামী হোটেলে অন জব প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন তিনি।

পুরুলিয়ার বাড়িতে আটকে থাকা সাবিত্রী ফিরলেন নিজের কর্মস্থলে
  • ২৭ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, উলুবেড়িয়া: ছোটবেলা থেকেই নিজের পায়ে দাঁড়ানোর ইচ্ছা পুরুলিয়ার বাঘমুন্ডির বাসিন্দা মূক ও বধির সাবিত্রী কুমারের। সেই মতো বর্তমানে কলকাতার একটি নামী হোটেলে অন জব প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন তিনি। যদিও তাঁর এই স্বপ্নের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন স্বয়ং তাঁর বাবা। পুজোর ছুটিতে সাবিত্রী গ্রামের বাড়ি যেতেই বিয়ে দেওয়ার জন্য তাঁকে ঘরবন্দি করে রাখেন তাঁর বাবা। সেকথা জানতে পেরে পরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাবিত্রীর বাবাকে বোঝানো হয়। তারপর রবিবার সকালে মেয়েকে উলুবেড়িয়ায় দিয়ে যান তাঁর বাবা।

Advertisement

জানা গিয়েছে, বছর ১০ আগে বাঘমুন্ডি থেকে উলুবেড়িয়ার আশা ভবন সেন্টারে আসেন সাবিত্রী কুমার। এখানে থাকাকালীন ধীরে ধীরে তিনি নিজের শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে কাটিয়ে সমাজের মূল স্রোতে ফিরে আসতে থাকেন। গত এপ্রিল মাসে কলকাতার একটি নামী হোটেলে অন জব প্রশিক্ষণ নেওয়া শুরু করেন সাবিত্রী। কিন্তু সমস্যা হয় পুজোর ছুটির সময়ে। 
আশা ভবন সূত্রে জানা গিয়েছে, পুজোর ছুটির সময় সাবিত্রী বাড়ি গেলে তাঁর বাবা তাঁকে আর কলকাতায় আসতে দিতে চাননি। বিয়ে দিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেন। সাবিত্রী প্রতিবাদ করলে তাঁকে একটি ঘরে আটকে রাখা হয়। তার মোবাইলও কেড়ে নেওয়া হয়।
এদিকে, সাবিত্রী তাঁর কর্মস্থলে না ফেরায় চিন্তিত হয়ে পড়েন আশা ভবন সেন্টারের আধিকারিকরা। আশা ভবন সেন্টারের কর্ণধার জন মেরি বারুই জানান, সাবিত্রী বাড়ি থেকে না ফেরায় আমরা সবাই চিন্তিত হয়ে পড়ি। এরপর একদিন একটি সমাজমাধ্যমে সাবিত্রীর একটি মোবাইল ফোন নম্বর দেখি। তা দিয়ে ওঁর সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করি। ভিডিও কল করা হলে সাবিত্রী ইশারায় তাঁর সমস্যার কথা বলেন। 
এরপর আমাদের শুভানুধ্যায়ী হাওড়া গ্রামীণ জেলা পুলিশের এক কর্তা এবং ওখানকার প্রশাসনের সহযোগিতায় সাবিত্রীর বাবাকে মেয়ের ভবিষ্যতের বিষয়ে বোঝানো হয়। শেষে রবিবার সকালে ওঁর বাবা সাবিত্রীকে উলুবেড়িয়ায় দিয়ে যান।
আশা ভবন সেন্টারের হোম সুপার অরুণিমা জাষু জানান, আমাদের এখান থেকে দু’টি মেয়ে কলকাতার একটি নামী হোটেল অন জব ট্রেনিং নিচ্ছিলেন। সাবিত্রীকে বাড়িতে আটকে রাখার খবর পাওয়ার পর একটা দুশ্চিন্তা হচ্ছিল। সেই দুশ্চিন্তা এবার কাটল। অন্যদিকে সাবিত্রী উলুবেড়িয়ায় ফিরে আসায় এদিন একপ্রকার উৎসবের চেহারা নেয় আশা ভবন সেন্টার। সাবিত্রীকে নিয়ে আনন্দে মেতে ওঠে বিশেষভাবে সক্ষম শিশুরা। আর যাকে নিয়ে এত আনন্দ, সেই সাবিত্রী ইশারায় জানান, আমরা করব জয়। - নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ