


কলকাতা পত্তনের ইতিহাস আর সাবর্ণ রায় চৌধুরীর পরিবার সম্পৃক্তভাবে যুক্ত। সম্রাট জাহাঙ্গীরের আমলে ১৬১০ খ্রিষ্টাব্দে রাজা লক্ষ্মীকান্ত রায় চৌধুরী দক্ষিণবঙ্গে জমিদারি পেয়েছিলেন। সে সময় থেকে বড়িশার বাড়িতে সংগীতের আসর বসত ঠাকুরদালানে। বাড়ির পূর্বপুরুষদের মধ্যে অনেকেই সংগীতচর্চা করতেন। ভারত তথা পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে গুণী শিল্পীরা এসে অংশগ্রহণ করতেন। সেই ঐতিহ্য আজও অব্যাহত। এবছরও তাদের আয়োজনে তিনদিনের সাবর্ণ সংগীত সম্মেলনের প্রথম দিনে পাপিয়া ঘোষাল পরিচালিত বড়িশা সঞ্চারি সংস্থার সদস্যদের স্ত্রোত্রপাঠের মধ্যে দিয়ে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা হল। বন্দেমাতরম গানটি গেয়ে শোনান স্বপ্না দে। মধুমিতা রায় নির্দেশিত ঘুঙরু ডান্স অ্যাকাডেমির ছাত্রছাত্রীদের পরিবেশিত সমবেত নৃত্য সকলকে মুগ্ধ করে। সানিয়া পাটানকর পরিবেশন করেন বসন্ত রাগের বন্দিশ। টপ্পা ও মৃদু ক্লাসিকাল সংগীত। তবলায় সংগত করেন রোহেন বোস এবং হারমোনিয়ামে দেবীপ্রসাদ দে। চতুরঙ্গী বাজনায় দেবাশিস ভট্টাচার্য ও সূর্যদীপ্ত ভট্টাচার্যকে তবলায় যথাযথ সংগত করেন সমর সাহা। দ্বিতীয় দিনে অভিষেক লাহিড়ী সরোদে বসন্ত রাগ পরিবেশন করেন। তাঁকে তবলায় সংগত করেন পরিমল চক্রবর্তী। কণ্ঠসংগীতে গৌতম রায় চৌধুরীকে তবলায় সহযোগিতা করেন বোধিপ্রিয় মুখোপাধ্যায়। বাঁশিতে রোনু মজুমদার আব্বাসুদ্দিনের স্মৃতিচারণা করে লোকগানের সুর বাজিয়ে শোনান। তাঁকে তবলায় সহযোগিতা করেন প্রসেনজিৎ পোদ্দার। শেষ দিন পণ্ডিত দেবজ্যোতি বোসের সরোদবাদনের সঙ্গে বিক্রম ঘোষরে তবলার যুগলবন্দি শ্রোতাদের মন ভরিয়ে দেয়। তাঁর নিবেদনে ছিল কাফি রাগ। শিল্পী পরিচিতি সহ কথার সূত্র ধরিয়ে অনুষ্ঠানটিকে সফল করে তোলেন কৌশিক সেনগুপ্ত।
কলি ঘোষ