সুকান্ত বসু, কলকাতা: কচুরিপানা খুব ঝঞ্ঝাটের জিনিস-এই বলে বাংলার মানুষ তাকে দুচ্ছাই করেই এসেছে। সেই কচুরিপানা কেউ যত্ন করে নিয়ে এসে টবে পুঁতলে তাঁকে নিয়ে তো আলোচনা হবেই। তাই শ্যামপুকুরের সত্যরঞ্জন দলুইকে নিয়েও কলকাতায় চর্চা হয়।
সুকান্ত বসু, কলকাতা: কচুরিপানা খুব ঝঞ্ঝাটের জিনিস-এই বলে বাংলার মানুষ তাকে দুচ্ছাই করেই এসেছে। সেই কচুরিপানা কেউ যত্ন করে নিয়ে এসে টবে পুঁতলে তাঁকে নিয়ে তো আলোচনা হবেই। তাই শ্যামপুকুরের সত্যরঞ্জন দলুইকে নিয়েও কলকাতায় চর্চা হয়।
কম করে দেড়শো বছর আগে ব্রাজিল থেকে এক ব্যক্তি নাকি কচুরিপানা নিয়ে এসেছিলেন। তার আগে বাংলায় কেউ এ উদ্ভিদ দেখেনি। অর্কিড সদৃশ হাল্কা নীল ফুলের প্রেমে পড়ে গিয়েছিলেন সেই মানুষটি। তাই নিয়ে এসেছিলেন সঙ্গে করে। এরপর হু হু করে বেড়ে নিরীহ কচুরিপানা হয়ে ওঠে বাংলার নদী-নালার বিপদ। বিস্তর ক্ষতিসাধন করে বলে তার নামই হয়ে ওঠে ‘বিউটিফুল ব্লু ডেভিল’। সে ঘটনার কয়েক যুগ বাদে কলকাতার এক বাঙালি ফের পড়লেন কচুরিপানার প্রেমে। এখন কেউ কেউ দেড়শো বছর আগের সেই মানুষটির সঙ্গে সত্যরঞ্জনের তুলনা করেন।
উত্তর কলকাতার শ্যামপুকুরে জগৎ মুখার্জি পার্ক। সেখানে বিচিত্র প্রজাতির কচুরিপানা ফলাচ্ছেন সত্যরঞ্জন দলুই। মানুষটি মাঝবয়সি। চেয়েচিন্তে নিয়ে আসেন টব, গামলা। তাতে কচুরিপানা ফলান। এছাড়া টবে সাদা-গোলাপি পদ্মের চাষও করেন। তাঁর বিচিত্র শখ শহরের বহু মানুষকে আকৃষ্ট করে। তাঁরা এ কাজে সত্যবাবুকে নানাভাবে সাহায্যও করে থাকেন। আর নাম কিছুটা ছড়িয়েছে বলে সত্যবাবুর কচুরিপানা দেখতে দূরদূরান্ত থেকেও মানুষ দেখতে আসেন। তাঁদের কেউ আগ্রহী হয়ে বড় শিশি বা জলভরা প্যাকেটে ভরে নিয়ে যান নানা প্রজাতির কচুরিপানা। জগৎ মুখার্জি পার্কে বাগানজুড়ে গাছগাছালি। তা রক্ষণাবেক্ষণ করেন সত্যরঞ্জন। আর টব ও গামলায় ফোটান পদ্ম। চাষ করেন কচুরিপানার। আর একটি কাজে নিজের উদ্ভাবনী শক্তি প্রয়োগ করেছেন সত্যরঞ্জন। কচুরিপানার জলে যাতে মশা বংশবিস্তার না করে তার জন্য জলের উপর শ্যাওলা ফলান। ফলে মশা‑মাছির উপদ্রুব হয় না। সত্যরঞ্জনবাবু বলেন, ‘শহরাঞ্চলের শিশু-কিশোরদের কচুরিপানা চেনাতেই এই চাষ করি। এছাড়া এর ফুল সত্যিই সুন্দর।’
এখন ঝঞ্ঝাটের এই কচুরিপানাই নানা কাজে লাগে। সার হয়। ঘর সাজানোর জিনিসপত্র হয়। উল্টোদিকে এখনও নদীর গতিপথ বন্ধ করে। জলজ প্রাণী মারা যায় এর কারণে। ফলে কচুরিপানা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সমাজের। আগেও তাই ছিল। নজরুল ইসলাম পর্যন্ত লিখেছিলেন, ‘ধ্বংস কর এই কচুরিপানা/ (এরা) লতা নয়,/পরদেশী অসুরছানা...’ আবার উল্টো কথাও শোনা যায়। বিখ্যাত বাউল শিল্পী ভবা পাগলার সবথেকে পছন্দের ছিল নাকি কচুপানার হাল্কা নীল ফুল। এখন সত্যরঞ্জনের হাত ধরে বহু মানুষ মজেছেন বিউটিফুল ব্লু ডেভিলে। নিজস্ব চিত্র