Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দুই জেলার ১২ ব্লকে ১০ হাজার ৬০০ গাছ লাগাবে সাতমাইল সতীশ ক্লাব ও পাঠাগার

দুই জেলার ১২ ব্লকে ১০ হাজার ৬০০ গাছ লাগাবে সাতমাইল সতীশ ক্লাব ও পাঠাগার
  • ৬ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সুকান্ত গঙ্গোপাধ্যায়, কোচবিহার: অরণ্য নিধনে পরিবেশ থেকে সবুজ কমছে। যার প্রভাব পড়ছে উত্তরবঙ্গের আবহাওয়াতেও। বিশ্ব উষ্ণায়ন টের পাওয়া যাচ্ছে হিমালয়ের পাদদেশেও। এই পরিস্থিতিতে কোচবিহারের সাতমাইল সতীশ ক্লাব ও পাঠাগার অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে। চলতি বছর তারা ১০ হাজার ৬০০ চারাগাছ লাগাবে। কোচবিহারে জেলার ন’টি এবং আলিপুরদুয়ার জেলার তিনটি ব্লকে এই গাছ লাগানো হবে। কৃষকের জমিতে শুধু গাছ লাগানোই নয়, জমি ঘিরে দেওয়া, গাছে সার দেওয়া, ফিল্ড ওয়ার্কার দিয়ে গাছের দেখভাল করার কাজও করবে সাতমাইল সতীশ ক্লাব ও পাঠাগার। কৃষকের সঙ্গে চুক্তি করে ৪০ বছর পর্যন্ত গাছগুলিকে বাঁচিয়ে রাখা হবে। 

Advertisement

সেগুন, মেহগনি, আম ও কাঁঠাল - এই চার ধরনের গাছ লাগানো হবে। যার অর্থনৈতিক মূল্যও যথেষ্ট। বিপুল সংখ্যক বৃক্ষরোপণের ফলে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা পাবে। গতবছর ২৩ হাজার গাছ লাগানো হয়েছিল। যেগুলি এখন অনেকটাই বড় হয়ে গিয়েছে। মুম্বইয়ের ইন্টালেকাপ নামে একটি পরিবেশপ্রেমী সংগঠনের সঙ্গে হাত মিলিয়ে কাজটি করা হচ্ছে। 
সাতমাইল সতীশ ক্লাব ও পাঠাগারের সম্পাদক অমল রায় বলেন, জলবায়ুর পরিবর্তন রুখতে বেশি করে গাছ লাগানোই এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য। গাছ লাগানো হল অথচ বড় হওয়ার আগেই মরে গেল, এক্ষেত্রে তেমনটা হবে না। ১০০ শতাংশ গাছ বাঁচানোই আমাদের লক্ষ্য। কৃষকদের সঙ্গে ৪০ বছরের চুক্তি করে এই কাজ করা হচ্ছে। যত বেশি গাছ থাকবে পরিবেশের কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমাণ ততোই কম হবে। পরিবেশে কার্বন কমবে, পরিবেশ ঠান্ডা হবে। মে-জুন মাস থেকে গাছ লাগানো শুরু হবে। কৃষক বাছাইয়ের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। 
কীভাবে লাগানো হবে এই বিপুল সংখ্যক গাছ? ১০ হাজার ৬০০ গাছ মোট ১০০ বিঘা জমিতে লাগানো হবে। প্রতি বিঘায় ৫১টি করে সেগুন ও মেহগনি এবং চারটি করে আম ও কাঁঠালের গাছ লাগানো হবে। কোচবিহার-১, ২, তুফানগঞ্জ-১, ২, দিনহাটা-১, সিতাই, শীতলকুচি, মাথাভাঙা-১, ২, আলিপুরদুয়ার-১, ২ ও কালচিনি ব্লকে এই কাজ করা হবে। কোচবিহার ও আলিপুরদুয়ার একসময়ে জঙ্গলে ঘেরা ছিল, এখন তার রূপ বদলেছে। অরণ্য ধ্বংসের কারণে মাঝেমধ্যেই বন্যপ্রাণীরা লোকালয়ে চলে আসছে। শুধু বন্যপ্রাণী নয়, পরিবেশে গাছ কমে যাওয়ার কারণে জীব বৈচিত্রের উপরেও ব্যাপক প্রভাব পড়ছে। ছোটছোট নানান প্রজাতির পাখি, কাঠবিড়ালি, প্রজাপতি থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরনের প্রাণী ক্রমেই কমে আসছে। আর এর সবকিছুর পিছনেই কারণ হিসেবে রয়েছে গাছ কমে যাওয়া। তাই দুই জেলাজুড়ে পরিকল্পিতভাবে এই বিপুল সংখ্যক গাছ লাগানোর কর্মসূচি পরিবেশ রক্ষা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।  ফাইল চিত্র।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ