


সংবাদদাতা, কল্যাণী: নদীয়া জেলার ধুমধাম করে হয় দোল উৎসব। নবদ্বীপ, মায়াপুরের পাশাপাশি কল্যাণীর ঘোষপাড়াতে সতীমায়ের দোলমেলা বেশ জনপ্রিয়। কথিত, আউলিয়া সম্প্রদায়ের সতী মা অর্থাৎ সরস্বতী দেবী এই মেলা শুরু করেন। এর বয়স আনুমানিক দু’শো বছর। জনপ্রিয় এই উৎসবে যোগ দিতে অন্যান্য বছরের মতো এবারও রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে ভক্তরা আসা শুরু করেছেন। উপচে পড়ছে ভিড়।
মেলায় একাধিক আখড়া তৈরি হয়। আউল, বাউল, ফকির, সন্ন্যাসীরা আসেন। দোলের আগের দিন থেকে সারারাত ধরে চলে ভাবের গান। মেলা পরিচালনা করে কল্যাণী পুরসভা। ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় এক হাজার দোকান বসেছে। পাশাপাশি এসেছে নাগরদোলা, সার্কাস, মরণ কুয়োর খেলা। দশ দিন ধরে চলবে মেলা। কল্যাণী পুরসভার চেয়ারম্যান নীলিমেশ রায়চৌধুরী বলেন, ‘মেলার জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পুলিস এবং পুরসভার কর্মীরা সর্বদা সজাগ।’
সতীমায়ের মন্দিরের কাছে রয়েছে একটি ডালিম গাছ। ডালিমতলায় পুজোপাঠ হয়। গাছটিও বয়স দু’শো বছর। এছাড়া রয়েছে দুধসাগর নামের একটি পুকুর। সেখানে স্নান করে ভক্তরা দণ্ডি কেটে মন্দিরে যান। তারপর মনস্কামনা পূরণে ডালিম গাছে ঢিল বাঁধেন। পুজোর ডালিতে থাকে খই, বাতাসা আর মঠ। ডালির সঙ্গে ঢিলের বদলে থাকে সুতো দিয়ে বাঁধা মাটির ঘোড়া। কর্তাভজা সম্প্রদায়ের প্রবর্তক হলেন নদীয়ার ঘোষপাড়ার আউলচাঁদ। ভক্তরা তাঁকে গোরাচাঁদ নামে ডাকত। শ্রী চৈতন্যের অবতার হিসেবেও মানে। এই ঘোষপাড়া এলাকার বাসিন্দা ছিলেন রামচরণ পাল। তাঁর স্ত্রীর নাম সরস্বতী। কথিত আছে, মরণাপন্ন সরস্বতীর শরীরে দুধসাগর থেকে মাটি এনে লেপেছিলেন আউলচাঁদ। সুস্থ হয়ে ওঠেন সরস্বতী। পরবর্তীকালে ডালিম গাছের নীচে দীর্ঘ সাধনার পর সরস্বতী দেবী হয়ে ওঠেন সতী মা। তাঁর নামেই প্রতিবছর দোল পূর্ণিমায় মেলা বসে। নিজস্ব চিত্র